১১:৩৮ অপরাহ্ণ
মসজিদ ভাঙ্গা ও মসজিদের নামে ফেরকাবাজী,জঘন্য অপরাধ
বাদশাহ হারুন রাশীদ একদিন ভোরবেলা নিজ প্রিয়তমা স্ত্রী জোবায়দাকে রাগের বশে বলে দিলেন, তুমি যদি আজ রাতে আমার রাজ্যে অবস্থান কর তা হলে তুমি তিন তালাক।
কিছু সময় পর রাগ স্থিমিত হলে প্রিয় স্ত্রীকে তালাক থেকে কিভাবে রক্ষা করা যায়?এ ব্যাপারে রাজ দরবারের আলেমদের কাছে জিজ্ঞাসা করলেন,আলেমগণ মতামত দিলেন,আজ রাত আসার পুর্বেই আপনার স্ত্রীকে আপনার রাজ্যের বাহিরে পাঠিয়ে দিতে হবে,কিন্তু তা তো সম্ভব নয়,দ্রুতগামী ঘোড়া যোগে ও রাজ্যের বাইরে যেতে হলে একসপ্তাহ লাগবে। বাদশাহ পেরেশান হয়ে অন্যান্য খ্যাত আলেমদের জিজ্ঞাসা করলেন,সকলের একই ফতোয়া দিলেন।
সর্বশেষ হযরত ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ এর শরনাপন্ন হলেন, যিনি সবেমাত্র ইমাম আবু হানিফা রহঃ থেকে শিক্ষা সমাপন করে দারাস শুরু করেছেন, তিনি বললেন আজ রাতে আপনার স্ত্রী মসজিদে থাকবেন,
মসজিদ আপনার রাজ্যের ভিতরে নয়,মসজিদে একমাত্র আল্লাহর রাজত্ব চলবে।
আল্লাহ বলেছেন,
ان المساجد لله
সকল আলেমগণ তার ফতোয়া মানতে বাধ্য হলেন।
সত্যেই প্রত্যেক মসজিদ আল্লাহর জন্য নিবেদিত ,আল্লাহর পবিত্র ঘর মসজিদ মুসলমানদের যে ফেরকাই নির্মাণ করুক তা ভাঙ্গা বা সামান্য পরিমাণ ক্ষতি করা জঘন্য গুনাহ।
ঠিক তেমনি কোন মসজিদে কাউকে আসতে বাধা প্রদান করা,বিশেষ গোষ্ঠীর নামে মসজিদের নামকরণ করাও জুলুম তথা মহাঅপরাধ।
আল্লাহ বলেন,
ومن اظلم ممن منع مساجدالله
সারা পৃথিবীতে আহলে হাদীস ভাইয়েরা আছেন,কিন্তু আমাদের দেশের আহলে হাদীস ভাইদের মতো এত মাযহাব বিদ্বেষী চরমপন্থী কোথাও পাওয়া যায়না,নিজ ফেরকার নামে আহলে হাদীস মসজিদ নামকরণের ঘৃণ্য তৎপরতা তারাই শুরু করেছেন।
মসজিদ ভাঙ্গা যেমনি অপরাধ,মসজিদের নামে ফেরকাবাজী ও অপরাধ, সংযমের সাথে পরিস্থিতি উত্তরণ করতে হবে।
আল্লাহ আমাদের বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির মাঝে মধ্যমপন্থা অবলম্বনের তাওফিক দিন।
শাহ মমশাদ আহমদ এর ফেসবুক থেকে