সোমবার, জুলাই ২০ , ২০ ২৬
শেখ আব্দুল মজিদ::
১৬ মার্চ ২০ ২৩
৩:৫৭ অপরাহ্ণ

তিন শিশুকে পুড়িয়ে হত্যা, থামছেই না শিশু নির্যাতন

শেখ আব্দুল মজিদ:: নিহত তিন শিশু।প্রতিদিন দেশের কোথায় না কোথায় শিশুদের সাথে বরবর, অমনাসিক, নির্যাতন, যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটছে। দিন দিন আধুনিকার নামে, সমাজ ব্যবস্থার অধপত ঘটেছে। মানুষ নিষ্টুর থেকে নিষ্ঠুর হচ্ছে। এর পিছনে রয়েছে, দেশে ও সমাজে ন্যায় বিচারের অভাব।

নিবারহীনতার কারণে বহু মানুষ নিরবে কাদছে। একদিকে আধ্যিপ্ত, রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটে পার পেয়ে যাচ্ছে অভিযুক্তরা। ফলে দিন দিন নির্যাতনের শিক্ষার হচ্ছে,গরীব, নিম্ন, মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে-মেয়ে শিশুরা। শিশুদের নির্যাতনের প্রতিবাদের একমাত্র ভাষা হচ্ছে স্যোসাল মিডিয়া। সেখাতে প্রতিবাদ হচ্ছে, বিচার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশন্ন উঠছে। বাস্তবে ভোক্তভোগিরা এর ফল পাচ্ছে না। ফলে এই সমাজে গরীব, নিম্ন, মধ্যবিত্ত পরিবার আজ বড় অসহায়।

বুধবার দুপুর ১টা। কর্মস্থল ঝিনাইদহের শৈলকূপা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে বসে আছেন দেলোয়ার হোসেন। রোববার তার দুই ছেলে মোস্তফা সাফিন (৭) ও মোস্তফা আমিন (১০) ও ভাগিনা মাহিন হাসানকে (১২) পুড়িয়ে হত্যা মামলার রায়ের দিন ঠিক ছিল। কিন্তু তা জানতেন না দেলোয়ার।

রায়ের অনুভূতি জানতে দেলোয়ারকে ফোন করলে তিনি আঁতকে ওঠে বলেন, আমি তো জানি না ভাই, কী রায় হয়েছে? হত্যাকারী আপন ভাই ইকবালের মৃত্যুদণ্ডের কথা শুনে আলহামদুলিল্লাহ বলে বাকরুদ্ধ হয়ে যান তিনি। কিছুক্ষণ পর বলেন, একটু পরে কথা বলছি। হৃদয় বিদারক এ ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৬ সালের ৩ জানুয়ারি পৌর এলাকার কবিরপুর গ্রামে। ইকবাল ও দেলোয়ার কবিরপুর গ্রামের সার ব্যবসায়ী গোলাম নবীর ছেলে।

জানা যায়, শৈলকুপা উপজেলার কবিরপুর গ্রামের ইকবাল হোসেন একসময় বিদেশে থাকতেন। দেশে ফিরে বাবা গোলাম নবীর কাছে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকার হিসাব চান তিনি। এ নিয়ে প্রায়ই বাবা-ছেলের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হতো। দণ্ডপ্রাপ্ত ইকবালের বাবা-মা তার ছোট ভাই দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে বসবাস করতেন। টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে তাদের হত্যা করাসহ নানা হুমকি দিতেন ইকবাল।

এরই একপর্যায়ে ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে ইকবাল হোসেন তার ছোট ভাই দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মোস্তাফা সাফিন (৯) ও মোস্তফা আমিন (৭) ও বোন জেসমিন আক্তারের ছেলে মাহিনকে (১২) মোবাইল ফোনে কার্টুন দেখানোর কথা বলে নিজের ঘরে ডেকে নেন। ঘরে নেওয়ার পর তাদের হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন ইকবাল।

ওই তিন শিশুকে সেফটি বেল্ট দিয়ে জানালায় বেঁধেও রাখেন তিনি। পরে ঘরে রাখা গ্যাসের সিলিন্ডারের মুখ খুলে আগুন ধরিয়ে দেন ইকবাল। সেই আগুনে পুড়িয়ে মারা যায় ওই তিন শিশু। শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার ভাই উপযুক্ত শাস্তি পেয়েছেন। যা হয়েছে এটা তো আর ফিরে পাব না।

প্রশাসন ইকবালকে আটক করে রায় কার্যকর হলেই আমি শান্তি পাবো। এদিন দুপুর সাড়ে ১২টায় তিন শিশুকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ইকবাল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নাজিমুদ্দৌলা এ রায় দেন।

লেখক: শেখ আব্দুল মজিদ

সাংবাদিক ও কলামিষ্ট

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ