৮:৫৩ অপরাহ্ণ
কাঁদতে কাঁদতে হল ছাড়লেন শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা
কাঁদতে কাঁদতে হল ছেড়েছেন শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা। এলাকাবাসীর তোপের মুখে তাদের বেঁধে দেয়া ২ ঘন্টার আল্টিমেটামে হল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা।
হলে ছাত্রলীগ আছে এমন অভিযোগ এনে এলাকাবাসী শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে বাধ্য করেছেন বলে জানা গেছে। সোমবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো থেকে চাপের মুখে হল ছাড়েন শিক্ষার্থীরা।
এ সময় অনেক শিক্ষার্থীকে অশ্রুসিক্ত হয়ে হল থেকে বের হতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন স্থানীয়রা।
তারা অভিযোগ আনে ছেলেদের হলগুলোতে ছাত্রলীগ অবস্থান করছে। তাই তারা শাহপরাণ হলের সামনে এসে অবস্থান নেয়। পরে ২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ছেড়ে দিতে আল্টিমেটাম দেয় এলাকাবাসী।
তখন চাপের মুখে পড়ে হল ছাড়তে বাধ্য হন শিক্ষার্থীরা। বঙ্গবন্ধু হলের নাইম নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, হলে আমরা যারা থাকি অধিকাংশই সাধারণ শিক্ষার্থী। আজ হঠাৎ এলাকার কিছু মানুষ এসে আমাদের হল ছেড়ে দিতে বলে। তারা আমাদের ২ ঘণ্টার মধ্যে হল ছেড়ে দিতে বলে।
কিন্তু এখন কোথায় গিয়ে থাকবো সেটাও বুঝতেছি না। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা অসহায় ভাবে হল ছেড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, শুনেছি আমাদের আবাসিক শিক্ষার্থীদের বের করে দিতে এলাকাবাসীরা হলের সামনে অবস্থান নিয়েছিল।
এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন না থাকায় আমরাও কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছি না। তাই শিক্ষার্থীরা যাতে নিরাপদে হল থেকে বের হতে পারে এজন্য আমরা এখানে এসেছি।
এ সময় ১০-১২ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) মধ্যরাতে আবাসিক হলগুলোতে মোটরসাইকেল মহড়া দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
এতে হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে পড়ে। পরে ঘটনায় খবর পেয়ে রাত ৩টার দিকে সেনাবাহিনী এসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিলে তারা রুমে ফিরে যায়।
পরের দিন নিরাপত্তা ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে সমন্বয়কদের পক্ষ থেকে হল ছাড়তে বলা হলে এতে শিক্ষার্থী দ্বিমত পোষণ করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে।
প্রসঙ্গত, গত ৮ আগস্ট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টরিয়াল বডি, প্রভোস্ট বডিসহ বিভিন্ন দপ্তরের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পদত্যাগের ফলে অচল হয়ে পড়ে শাবিপ্রবির প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম। ফলে ক্যাম্পাসজুড়ে সবাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।