শনিবার, জুলাই ২৪, ২০ ২১
এস ডি সুব্রত::
১৪ জুলাই ২০ ২১
১০ :০ ৮ অপরাহ্ণ

মহামারীকালীন ঈদুল আজহা: এস ডি সুব্রত

মহান‌ আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন আর মানব কল্যাণের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের নামই ঈদুল আজহা। মুসলিম উম্মাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হচ্ছে ঈদুল আজহার কোরবানি। ঈদুল আজহা হচ্ছে আত্মত্যাগে উজ্জ্বিবিত এক খুশির উৎসব। মানুষের চরম ত্যাগ স্বীকারের এক অনন্য উৎসব হচ্ছে ঈদুল আজহার কোরবানি।

এ বছর এমন এক পরিস্থিতিতে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ পালিত হবে যখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাতে বিশ্ব দিশেহারা। বিশেষ করে আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে ডেল্টা ধরনের করোনার তান্ডবে ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে । সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশেও থাবা বসিয়েছে ডেল্টা ধরনের করোনা ভাইরাস যা প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। কঠোর লকডাউন দিয়েও নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।

সরকারের সর্বাত্মক চেষ্টা সত্ত্বেও লক ডাউন কার্যক্রম পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না কিছু মানুষের অসহযোগিতা ও অসচেতনতার কারণে। এখনো যদি এর লাগাম টেনে না ধরা যায় তাহলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে ঠেকবে বলা মুশকিল।এ অবস্থায় ঈদ উৎসবের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে যাতে সীমিত আকারে ঈদের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় । বেঁচে থাকলে জীবনে অনেক ঈদ করা যাবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং লোক সমাগম যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে সরকার ও জনগণকে। পরিস্থিতি আরো খারাপ হলে এর প্রভাব থেকে আমরা কেউ রক্ষা পাব না এটা অবশ্যই মনে রাখতে হবে আমাদের সবাইকে। ঈদ মানে খুশি আর আজহা মানে ত্যাগ বা কোরবানি ।

ঈদুল আজহা মানে ত্যাগের খুশি।আরবী আওদ বা য়াউদ শব্দ থেকে ঈদ শব্দের উৎপত্তি যার অর্থ দাঁড়ায় আনন্দ বা খুশির উপলক্ষ। ঈদের আরেকটি অর্থ হলো ফিরে আসা। এদিন মুসলিমরা ফজরের নামাজের পর ঈদগায় গিয়ে দুই রাক্বাত ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করে এবং পরে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী গরু,ছাগল,ভেড়া ,মহিষ বা উট বা পাখি কোরবানি দেয় পরম করুণাময় আল্লাহর নামে। ইসলামী চান্দ্র পঞ্জিকায় ঈদুল আজহা জ্বিলহজ্জের দশ তারিখে পড়ে।তবে স্থানীয় ভাবে ইদের তারিখ জ্বিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল। আরবের কোন কোন দেশে ঈদুল আজহা কে বড় ঈদও বলা হয় । কোরবানি কে ভিত্তি করে মহান আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনের জন্য যে সুনির্দিষ্ট আনন্দময় অপার সুযোগ তাকেই ঈদুল আজহা বা কোরবানি র ঈদ বলে। প্রচলিত অর্থে মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে শরিয়ত তরিকায় নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট ব্যাক্তির পশু জবাই করাকে কোরবানি বলে।বর্তমানে কোরবানির যে নিয়ম হয়েছে তা মূলত হযরত ইবরাহিম (আ.) কর্তৃক শিশুপুত্র ইসমাইল (আ.) কে আল্লাহর নামে কোরবানি দেয়ার অনুসরনে মক্কা নগরীর জনমানবহীন মিনা প্রান্তরে আল্লাহর দুই আত্মনিবেদিত বান্দা ইবরাহিম ও ইসমাইল আল্লাহর কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মাধ্যমে তুলনাহীন ত্যাগের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তারই স্মৃতি চারন হচ্ছে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ ।

মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইবরাহিম (আ.) যেমন আল্লাহর নির্দেশে জীবনের সবচাইতে প্রিয় জিনিস পুত্র ইসমাইল( আ.) কে কোরবানি করতে প্রস্তুত ছিলেন ঈদুল আজহার দিন মুসলমানরাও তেমনি পশু কোরবানির মাধ্যমে নিজেদের প্রিয়তম জানমাল আল্লাহর পথে কোরবানি করার সাক্ষ্য প্রদান করেন। হযরত ইবরাহিম (আ.) এর সে কোরবানি কে শ্বাশত রুপদানের জন্যই আল্লাহ তায়ালা ও রাসুল (সা) এই দিনে মুসলমানদের কে ঈদুল আজহা উপহার দিয়েছেন এবং এবং কোরবানি করার নির্দেশ দিয়েছেন।কাজী নজরুল ইসলাম তার কোরবানি কবিতায় বলেছেন--- ওরে হত্যা নয়,আজ সত্যাগ্রহ শক্তির উদ্বোধন! নজরুলের এই কবিতায় কোরবানির তাৎপর্য ফুটে উঠেছে।ঈদুল আজহা হযরত ইবরাহিম (আ.) বিবি হাজেরা ও ইসমাইল এর পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব। ত্যাগের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার কারনেই হযরত ইবরাহিম (আ) কে পবিত্র কোরআনে মুসলিম জাতির পিতা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কোরবানি হল চিত্তশুদ্ধি আর পবিত্রতার মাধ্যম । এটি সামাজিক রীতি হলেও আল্লাহর জন্যই এই রীতি প্রবর্তিত হয়েছে।

আমাদের চিত্ত সমাজ সংসার তার উদ্দেশ্যে ই নিবেদিত এবং কোরবানি হচ্ছে সেই নিবেদনের একটি প্রতীক। কোরবানি র মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর জন্য তার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস ত্যাগ করতে রাজি আছে তার পরীক্ষা। কোরবানি শুধু পশুকোরবানি নয়,। নিজের পশুত্ব , নিজের ক্ষুদ্রতা,নীচতা , স্বার্থপরতা, হীনতা, দীনতা কে ত্যাগ করাই কোরবানি ।ঈদুল আজহার গুরুত্ব অপরিসীম।

রাসুল (আ) বলেছেন-- কোরবানি দিনে মানব সন্তানের কোন নেক আমলই আল্লাহ তায়ালার নিকট এত প্রিয় নয় ,যত প্রিয় কোরবানি করা।কোরবানি র পশুর শিং,পশম ক্ষুর কিয়ামতের দিন মানুষের নেক আমলনামায় এনে দেয়া হবে ‌।কোরবানির পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই আল্লাহর দরবারে পৌঁছে যায়। রাসুল (সা) আরো বলেছেন সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কোরবানি করল না,সে যেন আমার ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয় । মহামারীর এই চরম দুর্যোগ কালে সবাই সচেতন হই, স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলি এবং জন সমাগম এড়িয়ে যাই। নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ যেন ঘরের বাইরে না যাই । ঈদুল আজহার মহান ত্যাগের শিক্ষা কে কাজে লাগিয়ে বিপর্যস্ত ও গরীব দূঃখী পাশে দাঁড়াতে হবে সামর্থবান ও বিত্তবানদের। লেখক: কবি ও প্রাবন্ধিক। সুনামগঞ্জ। ০১৭১৬৭৩৮৬৮৮ ।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ