সোমবার, জানুয়ারী ২৬, ২০ ২৬
বিজ্ঞপ্তি
২৫ জানুয়ারী ২০ ২৬
৯:১১ অপরাহ্ণ

সিলেটে নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মহাপরিকল্পনা বাতিল করে ন্যায্য জ্বালানি নীতি প্রণয়নের আহ্বান
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২৫ বছর মেয়াদি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা ২০২৫ (ইপিএসএমপি ২০২৫) অনুমোদনের পথে পা বাড়াতেই নাগরিক সমাজের বিভিন্ন প্রতিনিধি সংগঠন রোববার (২৫ জানুয়ারি) সিলেটে প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।  সরকারের খসড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনাটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করেই তৈরি করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তারা। একইসাথে পরিবেশ ও সমাজের প্রভাব পর্যাপ্তভাবে বিবেচনা করা হয়নি এবং জনগণের অংশগ্রহণকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও দাবি জানিয়েছে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিগণ।
রোববার সকালে নগরীর উপশহরে বাংলাদেশের প্রতিবেশ ও উন্নয়ন কর্মজোট (বিডব্লিউজিইডি)-এর উদ্যোগে এবং আইডিয়া, প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-সিলেট ও উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)-এর আয়োজনে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আইডিয়ার নির্বাহী পরিচালক নজমুল হকের সভাপতিত্বে এবং সঞ্চালনায় প্রতিবাদ কর্মসূচীতে নাগরিক সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, সরকারের খসড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় জনসম্পৃক্ততা, নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত। জনশুনানি ও স্বচ্ছ পরামর্শ ছাড়াই এই পরিকল্পনা অনুমোদনের চেষ্টা পূর্ববর্তী সরকারের অস্বচ্ছ ও কর্তৃত্ববাদী নীতিনির্ধারণের পুনরাবৃত্তি মাত্র।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, বর্তমান অর্ন্তবর্তী সরকারের দায়িত্ব ছিল কেবল নিয়মিত রাষ্ট্র পরিচালনা নিশ্চিত করা। কিন্তু সেই সীমা অতিক্রম করে একটি দীর্ঘমেয়াদি, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও বহুমাত্রিক প্রভাবসম্পন্ন জ্বালানি পরিকল্পনা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কোনো অর্থবহ অংশগ্রহণমূলক পরামর্শ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। যেভাবে অতীতে দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি আইন ব্যবহার করে বিতর্কিত প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছি। ইপিএসএমপি ২০২৫ সেই একই পথে ভবিষ্যতেও জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর প্রকল্পকে বৈধতা দেওয়ার কাঠামো তৈরি করছে।
প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে বেশ কিছু জোরালো দাবি: উত্থাপন করা হয়েছে। সেগুলো হলো, অবিলম্বে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা ২০২৫ স্থগিত এবং সম্পূর্ণ বাতিল করতে হবে। নাগরিক সমাজ, বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরামর্শ প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা দ্রুত কমিয়ে, বাস্তবসম্মত ১০০% নবায়নযোগ্য জ্বালানির রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে এবং ন্যায্য, সামাজিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি রূপান্তরের ভিত্তিতে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, অন্যথায়, খসড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা ২০২৫ বাংলাদেশের ইতিহাসে পরিণত হবে আরেকটি জনবিরোধী, অস্বচ্ছ এবং দায়মুক্তিমূলক নথি, যা দেশের জনগণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। 
ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ