মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০ ২৬
স্টাফ রিপার্টার
১৬ জুন ২০ ২৬
৮:৩৭ অপরাহ্ণ

কর্মবিরতির হুশি'য়ারি বাল্কহেড শ্রমিকদের
বিআইডব্লিউটিএ’র নামে চাঁ'দা'বাজি বন্ধ ও হা'ম'লার বিচার দাবি

সিলেট-সুনামগঞ্জ নৌপথে চাঁ'দা'বাজি, হা'মলা ও শ্রমিকদের হয়'রানি বন্ধ না হলে কর্মবিরতিতে যাবে বাল্কহেড শ্রমিকেরা। মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ হুশি'য়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন গোয়াইনঘাট শাখার শ্রমিক নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চল থেকে বালু, পাথর ও কয়লা দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন নৌবন্দরে পরিবহন করে থাকেন বাল্কহেড শ্রমিকরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও প্রতিনিয়ত তারা চাঁদাবাজি, হামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, গত ১৩ জুন গোয়াইনঘাটে পানি বৃদ্ধির সময় বালু আনতে গেলে একদল চাঁদাবাজ শ্রমিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট বাংলাদেশ জাহাজি শ্রমিক ফেডারেশন ও বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ এবং শ্রমিকরা আলোচনায় বসেন। পরদিন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা চলাকালে গোয়াইনঘাটের আব্দুল আলিমের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী ট্রলারযোগে এসে লাঠিসোঁটা নিয়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়।

এতে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, হামলার ঘটনায় অভিযোগ জানাতে গোয়াইনঘাট থানায় গেলে পুলিশ তাদের সহযোগিতা না করে থানা প্রাঙ্গণ থেকে চলে যেতে বলে। পরে ছাতকের নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এবং গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করা হলেও শ্রমিকরা কোনো ধরনের আইনগত সহায়তা পাননি।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, ১৫ জুন রাতে একটি চক্র পুলিশের নাম ব্যবহার করে প্রতি বাল্কহেড থেকে পাঁচ হাজার টাকা, ইউনিয়ন ট্যাক্সের নামে দুই হাজার টাকা এবং অন্যান্য খাতে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করে। এছাড়া গোয়াইনঘাট থেকে ছাতক পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বিআইডব্লিউটিএ’র নামে চলন্ত নৌযান থেকে পারফুট হিসেবে অর্থ আদায় করা হয়।

সালুটিকর ও বাধাঘাটের মধ্যবর্তী এলাকায় শ্রমিকদের মারধর করে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা আদায়েরও অভিযোগ করা হয়। শ্রমিক নেতারা বলেন, একই বাল্কহেড থেকে একাধিকবার টাকা আদায় করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অনিয়ম। প্রশাসন ও নৌপরিবহন সংস্থার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে সংঘবদ্ধ চক্র চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, গত ১৪ জুন নৌ পুলিশ সিলেট অঞ্চল ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রকৃত চাঁদাবাজির স্থানগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা না থাকায় শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে গোয়াইনঘাটে দ্রুত অস্থায়ী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন, লোড পয়েন্টগুলোতে রাতের বেলায় নৌ পুলিশের টহল বৃদ্ধি, সকল ধরনের অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধ, সরকারি নিয়মের বাইরে বিআইডব্লিউটিএ’র নামে অর্থ আদায় বন্ধ এবং নৌপথে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ইজারাকৃত এলাকাগুলোতে সংঘটিত চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ে কিছু ইজারাদার জড়িত থাকতে পারেন। শ্রমিকদের দাবি, এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তারা কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হবেন। পাশাপাশি গোয়াইনঘাটকে নৌবাণিজ্যের জন্য অনিরাপদ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করারও হুঁশিয়ারি দেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. সুমন। শ্রমিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মো. রাসেল, মো. সোহেল, শেহিন, মো. জামাল, মো. ফারুক প্রমুখ।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ