৭:৫৫ অপরাহ্ণ
সংগৃহীত
নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের ডালপালা মেলতে শুরু করেছে: তারেক রহমান
নির্বাচন নিয়ে ষড়'য'ন্ত্রের ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। জনগণের সাথে সম্পর্ক থাকলে বিশ্বাস করি, কোনো ষ'ড়'যন্ত্রই বিএনপির অগ্রযাত্রাকে রুখতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ। নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নানান ষড়'য'ন্ত্রের ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। তবে জনগণের সাথে সম্পর্ক থাকলে বিশ্বাস করি, কোনো ষ'ড়'যন্ত্রই বিএনপির অগ্রযাত্রাকে রুখতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।
রোববার (৩১ আগস্ট) রাজধানী ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্যসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অংশ নেয়। তিনি বলেন, ৪৭ বছরের গৌরবান্বিত পথ চলায় বিএনপি বরাবরই দেশের গণতান্ত্রিক জনগণের সহযোগিতা ও সমর্থন পেয়ে এসেছে। তাই আসুন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে জনগণের কাছে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ থেকে বিএনপি যেমন অতীতে বিচ্যুত হয়নি।
ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতেও আমরা বিচ্যুত হব না। বিএনপির শেকড় এই বাংলাদেশ। ৯০ -এর স্বৈরাচারবিরোধী এবং ২৪ -এর ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে যারা আত্মত্যাগ ও হতাহত হয়েছেন তাদের স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘হাজারো শহীদের আত্মত্যাগে, হাত-পা-চোখ হারানো শত শত আহত যোদ্ধার আর্তনাদের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এখন জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সময় এবং সুযোগ এসেছে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান উপায় জাতীয় নির্বাচন।
যতক্ষণ পর্যন্ত একটি সুষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরাসরি ভোটে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ, জনগণের কাছে জবাবদিহীমূলক একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত গণতন্ত্র ঝুঁকিমুক্ত নয়।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকে ঘিরে অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে। জনগণ লক্ষ্য করতে শুরু করেছেন, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ বিনষ্ট করার জন্য সেই অশুভ শক্তির অপতৎপরতা সাম্প্রতিক সময় ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।
পতিত, পরাজিত, পলাতক স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে হাঁটছে তখন কোনো কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে তাদের দলীয় স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য নানা শর্ত আরোপ করছে। এই শর্ত আরোপ করে নির্বাচনের পথে হয়তো বা পরিকল্পিত উপায়ে বাধা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে বলে বহু মানুষ এরই ভেতরে ভাবতে শুরু করেছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রথম থেকেই বিএনপি দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিল। কারণ বিএনপি মনে করে, আগে জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন প্রয়োজন। জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত নির্বাচিত সরকার জনপ্রত্যাশা পূরণে যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে পরবর্তী নির্বাচনে জনগণ ভোটের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের সুযোগ পাবে। যা গণতান্ত্রিক বিশ্বে প্র্যাকটিস করা হয়ে থাকে। সুতরাং পুথিগত সংস্কারের চেয়েও কার্যকর গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চার মাধ্যমে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা অনেক বেশি জরুরি। রাষ্ট্র এবং রাজনীতিতে সংস্কারের ব্যাপারে বিএনপি সম্পূর্ণভাবে একমত।’ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে অবশ্যই। তবে জনগণের অধিকার চর্চা এবং প্রয়োগের পথ সৃষ্টি না করে কোনো সংস্কারকেই টেকসই করা যাবে না। পরাজিত-পলাতক-স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে গঠিত বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের অভিপ্রায়ের সরকার। তবে এই সরকারের কাছে অবশ্যই একটি দক্ষ এবং জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক সরকারের মতো পারফরম্যান্স আশা করার কোনো যৌক্তিক কারণ আছে বলে আমি মনে করি না।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচন হতে দেয়া হবে না এই ধরনের উচ্চারণ ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির ঐক্যকে দুর্বল করবে নাকি পলাতক অপশক্তির পুনরুত্থানের প্রাসঙ্গিকতা তৈরি করবে। অতএব এখনো সময় আছে, আমাদের সতর্ক হওয়া দরকার। পরাজিত-পলাতক অপশক্তি কিন্তু সুযোগের অপেক্ষায় ওঁৎপেতে রয়েছে।’ নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মব ভায়োলেন্সকে আমরা কেউ প্রশ্রয় দেবো না।’