রবিবার, জানুয়ারী ২৪, ২০ ২১
নাহিদুল ইসলাম সাজন::
১৩ জানুয়ারী ২০ ২১
১০ :১৪ অপরাহ্ণ

মুড়িয়ায় আ'লীগ-জামায়াতের মর্যাদার লড়াই

মাস তিনেক পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিয়ানীবাজার উপজেলার ১০ নং মুড়িয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে অস্থিত্য রক্ষার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হচ্ছে আওয়ামীলীগ ও জামায়াত।

গেল শেষ দুই নির্বাচনে এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করেছেন জামায়াত নেতা আবুল খায়ের।যিনি কঠই চেয়ারম্যান নামে পরিচিত এলাকায়।

গেল দুই নির্বাচনে এখানে জামায়াত নেতার এমন বিজয় মানে এই নয় যে এখানে আওয়ামীলীগের অস্থিত্য নেই বরং নির্বাচনে আওয়ামী ঘরনার একাধিক প্রার্থী,দলীয় দূর্বল প্রার্থী, আঞ্চলিকতা, হাওয়রের কারনে তিন খন্ড ইউনিয়নে নেতাকর্মীদের মাঝে ভিন্ন মত ছিল পরাজয়ের বড় কারন।

শুধুমাত্র জামায়াতের উপর ভর করে দুইবার জয়ী হয়ে এসেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান তা শতভাগ সঠিক নয় কারন গেল দুই নির্বাচনে দেখা গেছে জামায়াতের বাহিরেও ভিন্ন মতবাদের ভোটারদের এমনকি মধ্যম সারির আওয়ামী ঘরনার ভোটারদের ভোট আনতে সক্ষম হয়েছেন জামায়াতের এই নেতা।

তাই কোন কারনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী বদল হলেই ভোটের হিসাবে বড় ধস নামবে জামায়াতের।

এই বার জামায়াতের প্রার্থী বদলেরও সম্ভবনা দেখা দিয়েছে যেখানে রাজনৈতিক সচেতন এলাকা দক্ষিন মূড়িয়া হতে প্রার্থী রয়েছেন জামায়াত নেতা ও দুই বারের ইউপি মেম্বার জসীম উদ্দিন ও জামায়াত নেতা ফজলুল হক । এছাড়াও ইউনিয়নের পূর্ব মুড়িয়া হতে প্রার্থী হিসেবে রয়েছে সাবেক শিবির নেতা ফরিদ আল মামুনের নাম।তিন খন্ড ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের প্রার্থী ডজন খানেক তবে উত্তর মুড়িয়া হতে হুমায়ুন কবির ও দক্ষিন মুড়িয়া হতে আব্দুল ওয়াহিদ তারেক ও লুৎফুর রহমান এর নাম বেশি শোনা যাচ্ছে।

হুমায়ুন কবির আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতা দীর্ঘ দিন তার হাতে ছিল মুড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের দায়িত্ব ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক।

গেল শেষ তিন নির্বাচনেই প্রাথমিক ভাবে প্রার্থী হিসেবে মাঠে ছিলেন তিনি তবে একটি নির্বাচনেও শেষ লড়াইয়ে নামার আগেই তাকে সরে যেতে হয়েছে বিভিন্ন কারনে।শেষ তিন নির্বাচনের মধ্যে প্রথমটিতে উত্তর মুড়িয়াতে ঘূংাদিয়া-বড়দেশ গ্রামের ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে এডভোকেট মফিক কে দেয়া হলে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাড়ান সেই নির্বাচনে মফিক জয়লাভও করেন।

২য় টিতে ঐক্য পক্রিয়াটি না মেনে ৬জন প্রার্থী নির্বাচন করতে গেলে মুরব্বিদের পরামর্শ ক্রমে তিনি সরে দাড়ান। শেষ নির্বাচনটিতে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন ভোটে মাত্র ১ ভোটে হেরে গেলে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে সরে দাড়ান তিনি।

তাই মুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তার নাম আসছে বার বার।দলের উপজেলা ভিত্তিক রাজনীতিতে তেমন সক্রিয় না হলেও গেল নির্বাচনে প্রার্থী হয়েও আওয়ামীলীগের প্রবীন নেতা শামস উদ্দিন মাখন আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পাওয়াতে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানো ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আব্দুল ওয়াহিদ তারেক এবং শ্রমিক লীগ নেতা ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক লুৎফুর রহমান এই নির্বাচনে খুব শক্ত ভাবেই মাঠে নেমেছেন তারা দুইজন।

প্রবাসে থাকলেও পূর্ব মুড়িয়া হতে অন্য কোন প্রার্থীর নাম ওঠে না আসায় দুই বার ইউনিয়ন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া সাব্বির আহমেদ নির্বাচনের আগ মূহুর্তে এসে দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন।

এবারই প্রথমবারের মতো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে প্রচারণা চালাচ্ছেন দলের নতুন মূখ সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য কাওছার আহমদ।

ধারণা করা হচ্ছে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন এর লাইন আরোও লম্বা যেখানে দেখা যেতে পারে প্রায় ডজন খানেক নেতার নাম।

আওয়ামীলীগ-জামায়াতের বাহিরে সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ঘূংাদিয়া গ্রামের সাবেক কৃতি ফুটবলার রুহুল আমিন তবে বিএনপির কোন প্রার্থী প্রচারণা তে নেই এখনো পর্যন্ত।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ