১২:৪৬ অপরাহ্ণ
ঈদে ঘরবন্দি তারকারা
বেঁচে আছি- এটাই বড় ঈদ
পুরো পৃথিবী থমকে আছে করোনাভাইরাসের প্রভাবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই মহামারী থেকে সুরক্ষা পেতে নাগরিকদের ঘরবন্দি থাকার নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষও স্বাস্থ্যসুরক্ষা বিধি মেনে ঘরবন্দি।
এরমধ্যেই এসেছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। তবে এবারের ঈদ মানুষের জীবনে একেবারেই ভিন্ন আমেজে উপস্থিত হয়েছে। নেই গণজমায়েত, নেই আড্ডা, নেই বন্ধুদের সঙ্গে হৈ-হুল্লোড় কিংবা আত্মীয় পরিজনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া।
সাধারণ মানুষের মতো বিনোদন জগতের তারকারাও ছিলেন ঘরবন্দি। সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও অনেকটা অসামাজিক হয়েই কাটাতে হয়েছে এবারের ঈদ। তবে ঘরে বসেই ভক্তদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তারকাদের কেউ কেউ। আর এ কাজটা সহজ করে দিয়েছে ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া। বিনোদন জগতের কয়েকজন তারকা কীভাবে এবারের ঈদ কাটিয়েছেন তা নিয়েই এ আয়োজন।
দেশবরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন জীবনের ব্যতিক্রমী এক ঈদ উপদযাপনের কথা জানিয়েছেন যুগান্তরকে।
তিনি বলেন, এবার ঈদ আর অন্য সাধারণ দিনের মধ্যে খুব পার্থক্য ছিল না। সারাদিন ঘরবন্দি। ঘরে বসেই আনন্দ, ঘরে বসেই কাজ, এভাবেই দিন কাটছে। ঈদের দিন ভিন্ন কিছু করা হয়নি। নিজের কাজ নিজেই করেছি। এখনও করে যাচ্ছি। খবর দেখার পর মনে হলো যে ঈদের দিন। এটা সত্যি যে, ফোনে ঈদ ঈদ মনে হয়েছে। অনেকের সঙ্গে কথা হয়েছে। শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে। কিন্তু আতঙ্ক তো আর যায়নি। প্রতিদিনই মানুষ মরছে। যা দেখে আর ভালো লাগে না। জানি না কত দিন এভাবে মৃতের সংখ্যা গুণে দিন পার করতে হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে মাফ করে দিক- এটাই কামনা করছি।
প্রখ্যাত গীতিকবি ও চলচ্চিত্রকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার জানিয়েছেন ভিন্নরকম এক ঈদ উদযাপনের কথা।
তিনি বলেন, এবারের ঈদ একেবারই ভিন্নভাবে কেটেছে- এটা অস্বীকার করার কিছু নেই। আগের ঈদগুলোতে আমার বাসায় মানুষের ভিড় থাকতো। একজনের পর একজন আসতো। শুভেচ্ছা বিনিময় হতো। সময় কেটে যেতো। এবারও সবাই শুভেচ্ছা বিনিময় করেছে, তবে ফোনে, মেসেজে। কেননা, করোনার আতঙ্ক আমাদের ঘরবন্দি করেছে, তাই আর সশরীরে কোথাও যাওয়ার সুযোগ হয়নি। সারাদিন বাসায় বসে কাটাতে হয়েছে, হচ্ছে। খুব ভালো বলবো না, আবার একেবারই মন্দ নয়। বেঁচে আছি- এটাই বড় ঈদ।
প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী কনকচাঁপাও ঈদে ঘরের বাইরে যাননি। তিনি বলেন, করোনার এই সময়ে কারো ঈদই ভালো কাটার কথা নয়। আমার বেলাও তাই। তবে ঈদের দুদিন আগে থেকেই আমি আতঙ্কে ছিলাম।
কারণ, আমাদের অ্যাপার্টম্যান্ট লকডাউন করা। ঘর থেকে বের হইনি, অনেক দিন। ঘরে বসে ফোনে ফোনে কেটেছে ঈদ। এটা একটা পরীক্ষা। জানি না এ পরীক্ষায় আমরা কবে উত্তীর্ণ হতে পারব? সব মিলিয়ে ঈদ খুব ভালো কেটেছে বলা যাবে না, যদি আগের ঈদের সঙ্গে তুলনা করি। সুস্থ আছি, এতেই মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই।
ঢাকাই ছবির একসময়ের জনপ্রিয় নায়ক সোহেল রানাও চার দেয়ালের মাঝে ঈদের সময়টুকু কাটিয়েছেন।
তিনি বলেন, এখন তো সে বয়স নেই ঈদ বা কোনো উৎসব ঘটা করে করব। বয়স হয়েছে, এখন আমাদের পরের প্রজন্মের আনন্দটা উপভোগ করব। কিন্তু এবারের ঈদ এতটা ভিন্ন হবে কখনও ভাবিনি। করোনার কারণে সবকিছু কেমন বদলে গেল। আমি এমনিতে বাসার বাইরে যাই না। মানুষ আমার বাসায় আসতো। এবার তাও হয়নি করোনার কারণে। একাই পরিবারের সঙ্গে কেটেছে ঈদ। এমন ঈদ কখনো আশা করিনি, তবে কিছু করারও নেই। এমন যে শুধু আমার বেলায় হয়েছে তা নয়। পুরো পৃথিবী আজ স্থবির। ঈদ নয়, বিশেষ কোনো দিনই নয়। সবাই কেমন একটা অস্থির সময় কাটাচ্ছি। যা আমাদের কাম্য নয়।
দেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক শাকিব খান এবারের ঈদ কাটিয়েছেন ঘরে বসেই। ভাইরাস থেকে নিজেকে, পরিবারকে সুরক্ষা দিতে একেবারেই বাইরে যাননি এ নায়ক।
ঈদের দিন কীভাবে কাটিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এরকম একটা ঈদ কাটাতে হবে সেটা কখনো ভাবিনি। কাছের মানুষদের সঙ্গে দেখা নেই, ভক্তদের সঙ্গে দেখা নেই, সিনেমা হলে সিনেমা নেই। আসলেই এটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের। কিন্তু কিছুই করার নেই। কারণ, অদৃশ্য এক শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি আমরা। এ যুদ্ধে আমাদেরকে জয়ী হতেই হবে। এর জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ঈদের পুরোটা দিন ঘরেই কাটিয়েছি। এবারের ঈদে নিজের কিছু কাজ দেখার সুযোগ হয়েছে। সেগুলো দেখেছি। আমার বিশ্বাস, একদিন সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। আমরা আবার আগের মতো মুক্ত বাতাসে প্রাণভরে শ্বাস নিতে পারবো। শুধু সময়ের অপেক্ষা।
এবারের ঈদ একেবারেই ব্যতিক্রম কেটেছে ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় তারকা দম্পতি অনন্ত ও বর্ষার। প্রতিবছরই ঈদের দিন কিংবা তার পরদিনই সন্তানদের নিয়ে বিদেশ যান তারা। কিন্তু এবার সেটা হয়নি। ঘরে বসেই দিন কেটেছে তাদের।
তবে একেবারে বসেও থাকেননি। এতদিন এই দম্পতি টিভি পর্দা কিংবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পাশাপাশি বসেছেন অতিথির আসনে। এবার বসেছেন মুখোমুখি। যেখানে বর্ষাকে দর্শকরা পেয়েছেন উপস্থাপকের ভূমিকায়। আর তার সামনে অতিথির আসনে বসে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন অনন্ত।
ঈদের দিন অনন্ত জলিলের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে অনুষ্ঠানটি প্রচার হয়েছে। ঈদের আয়োজন প্রসঙ্গে অনন্ত জলিল বলেন, অন্য ঈদগুলোর মতো এবার আমরা কোনো টিভি অনুষ্ঠানে অংশ নেইনি। কিন্তু ভক্তরা আমাদের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন, ঈদে নতুন কী নিয়ে আসছি সেটা জানার জন্য। তদেরকে তো আর নিরাশ করা যায় না। তাই নিজেরাই ঘরে বসে এমন কিছু করার উদ্যোগ নিয়েছি। আলাপচারিতায় অনেক কিছুই বলেছি। আমার চ্যানেলে গেলে ভিডিওটি দেখতে পারবেন সবাই। এছাড়া বাকি সময় সন্তানদের সঙ্গেই কেটেছে।
প্রতিবার এতিমখানায় গেলেও এবার যেতে পারিনি। তবে তাদের জন্য সহযোগিতা যা দরকার সেটা ঈদের আগেই পৌঁছে দিয়েছি। বর্ষার কণ্ঠেও একই সুর। তিনি বলেন, ঈদ জীবনে এভাবে আসবে- সেটা কখনও চিন্তাও করিনি। তবুও এসেছে। কীভাবে কাটিয়েছি সেটা একটা দীর্ঘশ্বাস। কারণ, মানুষের জীবনে এই একটি দিনই বিশেষ আনন্দ নিয়ে আসে। কিন্তু সেই আনন্দ করোনা নামের এক ভাইরাস ধ্বংস করে দিয়েছে।
ঘরে থেকে প্রার্থনা করেই ঈদের পুরোটা সময় কাটিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী চম্পা। এবারের ঈদ।