রবিবার, মে ৩১, ২০ ২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক::
২০ নভেম্বর ২০ ২১
৪:৩৫ পূর্বাহ্ণ

মসজিদ কমিটি নিয়ে উত্তপ্ত উত্তর দৌলতপুর গ্রাম
বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের উত্তর দৌলতপুর, হাসনাজি পুরাতন জামে মসজিদ কমিটির দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় ঘটতে পারে রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষ। বেশ কয়েক দিন ধরে মোতাওয়াল্লী গং ও পঞ্চায়েত পক্ষের মধ্যে মোতাওয়াল্লী নিয়োগ নিয়ে এ বিরুধ চলে আসছে। আজ (১৯ নভেম্বর ২১ইং) শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময় সংঘর্ষে আশঙ্কা দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে ওই গ্রামের মসজিদের আশে-পাশে পুলিশের একটি টিম মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে। ঘটনাটি আপোষ মিমাংসা করতে ঘটনাস্থলে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান, সমাজ সেবক প্রবাসি মোহাব্বত শেখ ও মাষ্টার বাবুল মিয়া উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। জানাগেছে, প্রায় ১৬ বছর ধরে উত্তর দৌলতপুর, হাসনাজি পুরাতন জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন একই গ্রামের প্রবীণ মুরব্বি হাজি আব্দুল আহাদ। তিনি গত ৫অক্টোবর ইন্তেকাল করেন। ইন্তেকালের পর থেকেই দু’পক্ষের মধ্যে এমন উত্তেজন বিরাজ করছে। পঞ্চায়েত পক্ষের কুতুব উদ্দিন, মো: কালা ও সফিক আহমদসহ আরো কয়েক জনের সাথে এ ব্যাপারে কথা হলে তারা বলেন, মোতাওয়াল্লী হাজি আব্দুল আহাদ মৃত্যু বরণের ৩সপ্তাহ পূর্বে তিনি মসজিদের পঞ্চায়েতকে জানিয়েছিলেন মসজিদের ২য় তলা নির্মাণের জন্য লন্ডন থেকে ২০ লক্ষ টাকা অনুদান এসেছে এবং আরো ২০ লক্ষ টাকা আসার পথে। এমন কি মসজিদ নির্মাণ সামগ্রী রাখার জন্য একটি অস্থায়ী ঘরও তৈরী করা হয়। এছাড়াও মসজিদের ফান্ডে ৪/৫লক্ষ টাকা জমা আছে। কিন্তু মোতাওয়াল্লী ইন্তেকালের পর তিনির গংদের কাছ থেকে মসজিদের কোন প্রকার হিসাব নিকাশের হদিস না পাওয়ায় এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরী হয়। এক পর্যায়ে বেরিয়ে আসে কিছু অনিয়মেন চিত্র। মসজিদের ভেতরে এসি লাগানোর জন্য ওই গ্রামের প্রবাসি শেখ সাদি ও নুর জাহান বেগম ৪ লক্ষ টাকা অনুদান দেন। কিন্তু মসজিদে লাগানো এসির দাতা রয়েছেন অন্য নামের ২লোক। মসজিদের ফান্ড থেকে একটি ঘড়ি কেনা হলেও ঘড়ির দাতা রয়েছে আরো এক ব্যক্তি। কিছু দিন আগে মোতাওয়াল্লীর এক ভাতিজা মসজিদের ৭০ হাজার টাকা আতœসাৎ করেন। বিষয়টি প্রকাশ হলে মোতাওয়াল্লীর এক আতœীয় ওই টাকা ভর্তুকি দেন। পঞ্চায়েতের দাবি বিশ্বস্ত মোতাওয়াল্লী নিয়োগ করা না হলে মসজিদ পরিচালনায় বিঘœ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, মোতাওয়াল্লীর ভাতিজা রফিক আলী এসব অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বলেন, আমাদের পূর্ব পূরুষ থেকে এই মসজিদের মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সেটা দেখে তাদের হিংসা হচ্ছে আর কিছু না। আর এ বিষয়টি নিস্পত্তির জন্য তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে থানার ওসি গাজী আতাউর রহমান জানান, পরিস্থিতি শান্ত আছে। আগামি বুধবার উভয় পক্ষকে নিয়ে থানায় বসে নিস্পত্তির চেষ্টা করা হবে।
ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ