৯:১৭ অপরাহ্ণ
ফিরোজ খান মঞ্জিল এবং মাকের্ট নিয়ে সৈয়দ আশরাফ মিথ্যাচার করেছেন
স্টাফ রিপোর্ট:: নগরীর শাহী ঈদগাহ’র ফিরোজ খান মঞ্জিল এবং মাকের্ট দখল বেদখল নিয়ে ফিরোজ খানের পুত্র বধু রুমি বেগম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন সৈয়দ আশরাফ। শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেছেন ফিরোজ খানের স্ত্রী আরেতুল বেগম।
লিখিত বক্তব্যে আরেতুল বেগম বলেন, সৈয়দ আশরাফ পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ আশরাফ দাবি করেছেন ১৯৬১ সালে এই জমি ক্রয় করা হয়েছে। কিন্তু ওই দলিলে দাগ খতিয়ান নেই এবং দলিল ক্রেতা এশাবানুর নামজারি নেই। ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৫৪ বছর খাজনাসহ এর একটা ডকুমেন্ট নেই। উনাদের মালিকানা দাবি কেবল টাকা ও ক্ষমতা বলে। উনারা বলেছেন ফিরোজ খান ৭৬/২০০৪ মামলার আরজিতে নিজে লিখেছেন যে ১০১৬৭ দাগের ২৫ শতক ভূমি মালিকানা ও দখল এশাবানুর। এই কথার প্রমান যদি দিতে পারেন, আমরা ফিরোজ খানের ওয়ারিশগণ নিঃশর্তে জায়গা ছেড়ে চলে যাব। তারা বলেছেন হামলার ঘটনাও মিথ্যে, উনারা হামলা করেননি। বৃহত্তর শাহী ঈদগাহর সবাই জানে এই হামলার কথা। সিসি ক্যামেরা ভেঙ্গে ডিভিআর মেশিন নিয়ে যাওয়া হয়। এক ট্রাক মাল নিয়ে গেলো, আরেক ট্রাক মাল পুলিশ হাতেনাতে ধরল, বাসাবাড়ি ভাঙ্গল, বাউন্ডারি দেওয়াল ভাঙ্গল এরপরও বলেছে হামলা মিথ্যে। আমরা সিআর মামলা করলাম, ১৪৫ মামলা করলাম, তদন্তে এসআই রিপোর্ট আদালতে বিস্তারিত দেখে রায় হলো এবং এখানে আসা তাদের জন্য নিষেধ হল। এরপরেও এমন নাটক সাজাতে ওদের একটুও দ্বিধা হলো না।
তিনি আরও বলেন, এই ভূমি অন্যায়ভাবে আত্মস্বাদের জন্য যেকোন প্রতারণার আশ্রয় নিতে পারে ওরা। হামলার পরে কোতোয়ালি থানার ওসি নিজে সরজমিনে দেখে গেছেন, ডিসি নর্থ সরজমিনে দেখে গেছেন, এ্যাডিশনাল ডিসি নর্থ নিজে তদন্তে এসে দেখে গেছেন এবং দোকানদারদেরকে জিজ্ঞাসা করে করে রিপোর্ট নিয়ে গেছেন, সিআর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইয়াসিন নিজে তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছেন, ভাংচুরের ছবি এবং কিছু ভিডিও আদালতে জমা দিয়েছি তারপরও বলছে হামলা মিথ্যে।
মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ করে তিনি বলেন, গত ৩০ জানুয়ারি কালাপাথর নামক স্থানে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে আজাদ গ্রুপের কর্মী জাকারিয়া গুরুতর জখম হয়েছে। এ ঘটনায় জাকারিয়ার ভাই এয়ারপোর্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করে। ষড়যন্ত্র করে এই মামলার ৫ ও ৬ নম্বর আসামি দিয়েছে ফিরোজ খানের মেয়ের জামাই আরিফ এবং ফিরোজ খানের নাতী নাঈমকে। অথচ ওইদিন তেতলির সাবেক চেয়ারম্যান ময়নুল ইসলাম মেয়ের ওয়ালিমায় কুলাঊড়া গিয়েছিলেন আরিফ, নাঈমসহ পরিবারের আরো ৫ সদস্য।
র্যাবের কাছে মিথ্যে অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত কয়েকদিন থেকেই হুমকি দিচ্ছে, র্যাব দিয়ে বাড়ির পুরুষদের কে ধরিয়ে দিবে। সংবাদ সম্মেলনে আরেতুল বেগম প্রধানমন্ত্রী, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মিলি বেগম, আরমান খান সজল, মুমিন খান, ফারুক খান, রাজ্জাক দেওয়ান, আরিফ আহমদ, রায়হানা বেগম প্রমুখ।