১১:১৯ অপরাহ্ণ
ভুল চিকিৎসায় দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারালেন বৃদ্ধ
চোখের মনিতে সমস্যা থাকা সত্ত্বেও লেন্সের অপারেশন করার কারণে এক ব্যক্তি দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, এমন অভিযোগ উঠেছে সিলেটের এক চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার থানার জাহানপুর গ্রামের জিয়াউর রহমান এখন পুরোপুরি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। এ ঘটনায় বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে জিয়াউর রহমানের পুত্র মাহফুজুর রহমান লিখিত বক্তব্যে জানান, তার বাবা জিয়াউর রহমানের চোখে সামান্য সমস্যা দেখা দিলে গত ২২ জানুয়ারি তাকে নিয়ে সিলেট নগরীর কাজলশাহ এলাকায় অবস্থিত পপুলার মেডিকেল সেন্টারে অধ্যাপক ডা. খায়ের আহমদ চৌধুরীর কাছে যান।
তিনি বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান তার বাবার ডান চোখে সমস্যা রয়েছে এবং অপারেশন করলে তা ভালো হয়ে যাবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ৩০ জানুয়ারি তালতলাস্থ পার্কভিউ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয় এবং সেদিন রাতেই ডান চোখে অপারেশন করা হয়।
পরে ৫ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসকের চেম্বারে গেলে একটি ড্রপ দেওয়ার পর রোগী কিছুটা দেখতে পান। এতে তার বাবা ও পরিবারের সদস্যরা আশ্বস্ত হন। তখন চিকিৎসক জানান, তার বাবার বাম চোখেও সমস্যা রয়েছে এবং সেটিও অপারেশন করলে চশমা দিয়ে পুরোপুরি দেখতে পারবেন।
মাহফুজুর রহমান বলেন, চিকিৎসকের কথায় বিশ্বাস করে ৬ ফেব্রুয়ারি আবারও তার বাবাকে পার্কভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেদিন রাতে বাম চোখে অপারেশন করা হয়। কিন্তু দ্বিতীয় অপারেশনের পর থেকেই জিয়াউর রহমান আর কোনো কিছুই দেখতে পাননি।
তিনি জানান, এ অবস্থায় উদ্বিগ্ন হয়ে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি তাকে আবার চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে পরীক্ষা শেষে চিকিৎসক রোগীর সামনেই জানিয়ে দেন যে তার দুই চোখই নষ্ট হয়ে গেছে এবং তিনি আর দেখতে পারবেন না। সংবাদ সম্মেলনে মাহফুজুর রহমান বলেন, এ কথা শুনে তার বাবা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
একজন রোগীর সামনে এভাবে সরাসরি এমন কথা বলা কতটা দায়িত্বশীল আচরণ—সেটিও প্রশ্নবিদ্ধ বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও জানান, পরে তারা বিভিন্ন হাসপাতালে কয়েকজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হলে তারা জানান, রোগীর চোখের মনিতে সমস্যা থাকা সত্ত্বেও সেখানে লেন্সের অপারেশন করা হয়েছে। তাদের মতে, এ কারণেই রোগীর দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
একই সঙ্গে পরিবারের পক্ষ থেকে শিগগিরই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। মাহফুজুর রহমান বলেন, হয়তো আমার বাবার চোখের আলো আর ফিরে পাব না। কিন্তু এই ঘটনার সঠিক বিচার হলে অন্তত আমাদের পরিবার কিছুটা শান্তি পাবে এবং ভবিষ্যতে অন্য কেউ যেন এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।