৫:৩৯ অপরাহ্ণ
মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের বি'রুদ্ধে চিকিৎসা গাফিলতির অভি'যোগ
পিতার মৃ'ত্যুর জন্য সিলেট নগরীর আখালিয়ায় অবস্থিত মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের চিকিৎসকদের গাফিলতি ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন মৌলভীবাজার সদরের সৈয়ারপুর এলাকার বাসিন্দা মৌসুমী মৌ রহমান। ১২ এপ্রিল সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভি'যোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মৌসুমী মৌ রহমান বলেন, তার পিতা মো. আব্দুর রহমান আছিদ একজন স্বনামধন্য প্রবীণ ব্যবসায়ী।
গত ২ মার্চ রাতে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে সিলেটের আখালিয়ায় অবস্থিত মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রথমে তাকে সিসিইউ এবং পরে ১১ তলার কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। তিনি জানান, তার পিতা হৃদরোগ ও ফুসফুসের সংক্রমণসহ নানা জটিল সমস্যায় ভুগছিলেন এবং অধ্যাপক ডা. শিশির বসাকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে হাসপাতালে আইসিইউ পর্যবেক্ষণে অবহেলা ও দায়িত্বে গাফিলতির কারণে তার অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটে। টানা ১৭ দিন চিকিৎসার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ মার্চ তার পিতা মারা যান।
মৌসুমী মৌ রহমান দাবি করেন, এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে তার পিতার মৃত্যুর জন্য মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের ত্রুটিপূর্ণ চিকিৎসাকে দায়ী করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, বহুমুখী চিকিৎসা সেবার নামে মাউন্ট এডোরা হাসপাতাল অসহায় রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। হাসপাতালের কেবিনের মেঝেতে বিষধর সেন্টিপিড সদৃশ পোকা দেখা যায়, যা রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এছাড়া আইসিইউ’র ভেতরে মেরামত কাজ চলায় উচ্চ শব্দ ও ধুলাবালির কারণে রোগীদের চিকিৎসা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, আইসিইউ’র মতো স্পর্শকাতর বিভাগেও স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় না। দর্শনার্থীদের জুতা ব্যবহারে বিধিনিষেধ থাকলেও হাসপাতালের কর্মচারীরা বাইরের জুতা পরে অবাধে প্রবেশ করেন, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। চিকিৎসা নথিপত্রেও অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, রোগীর জন্মসনদে জন্ম সাল ১৯৫২ হলেও হাসপাতালের নথিতে বয়স ৫২ বছর উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে রোগীর প্রকৃত বয়স ও রোগ নির্ণয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও জানান, মাউন্ট এডোরা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের হেমাটোলজি রিপোর্টে যেখানে ডিজিটাল ফলাফল থাকার কথা, সেখানে হাতে লেখা রিপোর্ট প্রদান করা হয়। গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রে প্রচলিত এন্টারাল ফিডিং বা নাসোগ্যাস্ট্রিক টিউব ব্যবস্থার যথাযথ প্রয়োগও নেই বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া সাধারণ সমস্যা নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে আইসিইউতে ভর্তি করতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিশেষ করে সিলেটের বাইরের রোগীদের টার্গেট করা হয় বলে দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, আইসিইউতে দায়িত্বে থাকা এক চিকিৎসক রোগীর স্বজনকে ইনজেকশন দিয়ে হত্যার হুমকি দেন। ওই স্বজন ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করলে তাকে জোরপূর্বক পরিচালকের কক্ষে নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং তার মোবাইল থেকে ভিডিও ও ছবি মুছে ফেলা হয়। মৌসুমী মৌ রহমান বলেন, হাসপাতালটির বিরুদ্ধে এমন বহু অভিযোগ থাকলেও প্রভাবশালী মহলের কারণে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পান না।
তিনি বলেন, বিশেষায়িত হাসপাতাল সেবার নামে এমন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। চিকিৎসা নিতে এসে মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত, সঠিক চিকিৎসা প্রদান এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে মো. আব্দুর রহমান আছিদের পুত্র মো. হেলাল মিয়া, কন্যা চামেলি রহমান, স্বজন মোজাহিদ আহমদ, আবুল কালাম, রহিমা বকস রিমা উপস্থিত ছিলেন।