৮:২০ অপরাহ্ণ
সিলেটে অংশীজনদের সাথে সমন্বয় সভায় জেলা প্রশাসক : গ্রাম আদালত সক্রিয় হলে কমবে আদালতের চাপ
গ্রাম আদালতকে আরও কার্যকর ও সক্রিয় করা গেলে স্থানীয় পর্যায়েই ছোটখাটো বিরোধ ও মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। এতে সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশের আদালতগুলোতে মামলাজট কমাতে সহায়ক হবে বলে মন্তব্য করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ‘গ্রাম আদালত কার্যক্রম’ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, সিলেটের উপপরিচালক (উপসচিব) মাহমুদা সুলতানা।
আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে আইনে নির্ধারিত সীমার মধ্যে বিভিন্ন দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ স্থানীয় পর্যায়ে নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। কিন্তু গ্রাম আদালতের এখতিয়ার ও কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো পর্যাপ্ত ধারণা নেই। ফলে অনেকেই ছোটখাটো বিরোধের সমাধানের জন্য দূরের আদালতে যান।
গ্রাম আদালত সম্পর্কে মানুষকে জানাতে পারলে স্থানীয় পর্যায়েই এসব বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব। তিনি বলেন, বর্তমানে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত নির্দিষ্ট আর্থিক দাবি বা ক্ষতিপূরণ-সংক্রান্ত বিষয়ে আদেশ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এতে মামলা, সাক্ষ্য, সিদ্ধান্ত ও রায়সহ সংশ্লিষ্ট তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সহজ হবে। জেলা প্রশাসক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের গ্রাম আদালতের এখতিয়ার ও কার্যক্রম সম্পর্কে জ্ঞান বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ পরামর্শ চাইলে যেন তাদের সঠিক তথ্য দেওয়া যায়, সেজন্য সংশ্লিষ্টদের নিজেদের জ্ঞান ও ধারণা সমৃদ্ধ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদা সুলতানা গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচার-প্রচারণা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় গ্রাম আদালতের এখতিয়ার, মামলা নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা এবং সাধারণ মানুষের কাছে গ্রাম আদালত-সংক্রান্ত তথ্য পৌঁছে দেওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। উল্লেখ্য, গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬-এর আওতায় ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। ২০২৪ সালের সংশোধনের মাধ্যমে গ্রাম আদালতের আর্থিক এখতিয়ারের সীমা তিন লাখ টাকা করা হয়েছে।চাইলে এর জন্য আরও ৫টি আকর্ষণীয় শিরোনামও দিতে পারি।