৬:০ ০ অপরাহ্ণ
জালালপুরে জামায়াত নেতার বি'রু'দ্ধে জমি দ'খল ও হয়'রা'নির অভি'যোগ!
দক্ষিণ সুরমার জালালপুর ইউনিয়নে ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতির বিরুদ্ধে জমি দখল ও মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ ওঠেছে। বুধবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ইউনিয়নের দক্ষিণ করিমপুর গ্রামের প্রবাসী আব্দুল মালিক দুলালের স্ত্রী হাজেরা বেগম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর ইউনিয়নের দক্ষিণ করিমপুর গ্রামের নেছার আলীর কাছ থেকে আমার স্বামী আব্দুল মালিক দুলাল ও আমার বড় বোনের স্বামী খালের মুখ বাজার নৈখাই গ্রামের মরহুম রইছ মিয়ার ছেলে নূর মিয়ার সাড়ে ১৩ শতক জায়গা কিনেন। দাগের ২২ শতক জায়গার মধ্যে ৮ শতক জায়গা কিনেন ফেঞ্চুগঞ্জ এলাকার নাজমুদ দৌলা। তিনি দলিলে অতিরিক্ত ২.১৭ শতক লিখিয়ে নেন।
এই নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হরে নাজমুদ দৌলার অগ্নিপতি জালালপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আবু বক্কর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। হাজেরা বেগম বলেন, জায়গা নামজারি থাকা সত্ত্বেও আবু বকর দলীয় প্রভাব বিস্তার করে নামজারি ভেঙে দিয়েছেন। তিনি আমাদের এলাকা ছাড়া করতে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি করে যাচ্ছেন। তিনি জানান, স্থানীয় মুরব্বীরাও এই নিয়ে সালিশ বৈঠকে সমাধান দিতে ব্যর্থ হন।
জামায়াতের প্রভাবে আবু বক্কর বিক্রেতা নেছারকে নিজের বশে নিয়েছেন। এখন জায়গা বিক্রয়ের কথা অস্বীকার করিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন আবু বক্কর। বাড়িতে হামলা-ভাংচুর চালিয়ে উল্টো মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে উল্লেখ করে হাজেরা বলেন, আমার বিরুদ্ধে ৫টি মামলা করা হয়েছে। গত শুক্রবার বোনের বাড়িতে ছিলাম। ফিরে দেখি আমার জায়গাতে দেওয়া বাঁশের বেড়া তোলে ফেলা হয়েছে। পরে, জানতে পারি আমাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশও তাদের পক্ষপাতিত্ব করছে।
হৃদরোগে আক্রান্ত হাজেরা বেগম অসহায় হয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। স্বামী প্রবাসে থাকায় নিজে আক্রান্ত হয়েও আইনের আশ্রয় নিতে পারছেন না। উল্টো তার বিরুদ্ধে প্রাণে হত্যারও অভিযোগ এনে আদালতে ১০৭ ধারায় মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন আবু বক্কর। আবু বক্করের চাপে প্রতারণার মাধ্যমে জমির সাফকাবালা দলিল ভাঙা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, চতুরতার সঙ্গে জমিটির দলিল ভাঙা হয়। এই ক্ষেত্রে আদালতে সাক্ষীদের নোটিস দিলেও ক্রেতাপক্ষকে কোনো নোটিস দেওয়া হয়নি। সাক্ষীরা প্রভাবিত হয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন।
আমাদের অনুপস্থিতিতে দলিল ভাঙানো হয়েছে। প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে আমি হাজেরা বেগমের জায়গায় নেছার আলীর মেয়ে সাদিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এই নারী আরও অভিযোগ করেন, জামায়াত নেতা আবু বকরের শ্যালক নাজমুদদৌলার কাছে জমিটি বিক্রি দেখানো হয়েছে। আমাদের চাপে ফেলতে উল্টো সিএমএম দ্বিতীয় আদালতে আমার বিরুদ্ধে প্রতারণার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ আনেন। এটা ছিল, একজন নারীর বিরুদ্ধে দুঃখজনকভাবে উপস্থাপন ও অনভিপ্রেত। হাজেরা বেগম এই বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও জমির মালিকানা ফিরে পেতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের সুদৃষ্টি কামনা করেন।