১০ :৪৪ অপরাহ্ণ
প্রতিষ্ঠাবাষির্কী র্যালিতে খন্দকার মুক্তাদির দেশ গঠন ও অর্থনীতি বেগবান করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ
সিলেট মহানগর বিএনপির কার্যালয় উদ্বোধন
সিলেট নগরীর তোপখানায় সিলেট মহানগর বিএনপির কার্যালয় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে উদ্বোধন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বর্তমানে দল ও সরকারের সামনে উদযাপনের চেয়ে দেশ গঠনের চ্যালেঞ্জই প্রধান।
জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ লজিস্টিক সংকট দূরীকরণ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করাই মূল লক্ষ্য। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে এই দলের যাত্রা শুরু হয়েছিল।
এর পর থেকে প্রতিটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে জনসমর্থন দিয়ে দেশ পরিচালনার সুযোগ দিয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান দলীয় প্রধান তারেক রহমানের নেতৃত্বে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রেখে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, দেশে শিল্প উৎপাদনের জন্য প্রচুর কাঁচামাল বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। চাল ও কিছু কৃষি পণ্যে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও প্রতি বছর ৬০ থেকে ৭০ লাখ টন গমসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ঘাটতি পূরণ একদিনে সম্ভব নয়, তবে বাণিজ্যের মোট পরিমাণ (ট্রেড ভলিউম) বৃদ্ধি ও নতুন নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে রপ্তানি খাত সম্প্রসারণের কাজ চলছে।
এরই অংশ হিসেবে সিলেটে নতুন বিসিক শিল্প নগরী তৈরির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সংগঠনিক বিষয়ে তিনি বলেন, দল নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও কৌশল নিয়ে নেতাদের ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্ব প্রদান করে। এটি কোনো সমন্বয়হীনতা নয়, বরং দলীয় শক্তি ও কৌশলকে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যাচাই করে নতুন উদ্যম যোগ করার প্রক্রিয়া। অর্পিত দায়িত্ব পালন করে জনগণের প্রত্যাশা মেটানোই বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীর মূল অঙ্গীকার।
অনুষ্ঠানে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, কার্যালয়ের ফিতা উন্মোচন এবং দেশ, জাতি ও দলের কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। এদিকে দুপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেট মহানগর বিএনপির উদ্যোগে নগরীর রেজিস্টারী মাঠ থেকে এক সুবিশাল বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।
র্যালি-পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, স্বৈরাচার উৎখাতের পর দেশের ধ্বংসস্তূপ পরিস্থিতি থেকে বাংলাদেশকে পুনরুদ্ধার করতে এবং কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠনে দেশের জনগণ আজ বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে বিএনপি ও দলের নেতা তারেক রহমানের ওপর দায়িত্ব ন্যস্ত করেছে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, “আগামী দিনে আমাদের মূল কাজ একটাই—সবকিছুর আগে বাংলাদেশ।
দেশের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে সবার ওপরে রেখে আমাদের কাজ করে যেতে হবে।” তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপি পরিবারের প্রয়াত সকল নেতাকর্মীদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। গত ৫ই আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই যুদ্ধের স্মৃতি উল্লেখ করে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, তরুণ, যুবক, গৃহিণী ও সর্বস্তরের মানুষের আত্মত্যাগে যে পরিবর্তন এসেছে, তার পেছনে রয়েছে বীর শহীদদের রক্ত ও আহতদের ত্যাগ।
তিনি জুলাই যুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান। সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক চেয়ারম্যান আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক ও জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম। উপস্থিত ছিলেন, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ডা, নাজমুল ইসলাম, জিয়াউল গণি আরেফিন জিল্লুর, সৈয়দ মঈনুদ্দিন সোহেল, সুদীপ সেন বাপ্পু, আব্দুর রহিম মল্লিক ও আফজাল উদ্দিন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজিবুর রহমান নজিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ আহমদ মুকুল, শামীম মজুমদার, মাহবুবুর হক চৌধুরী মাহবুব, মির্জা বেলায়েত হোসেন লিটন, শুয়াইব আহমদ শুয়েব, আব্দুল ওয়াহিদ সুহেল, মনজুরুল হাসান মঞ্জু, মতিউল বারী খোরশেদ, নাদির খান, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ সাফেক মাহবুব জেলা যুবদলের সভাপতি এডভোকেট মুমিনুল ইসলাম মুমিন প্রমুখ।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে রেজিস্টারী মাঠ থেকে বর্ণাঢ্য র্যালিটি বের হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে মহানগর বিএনপি ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ব্যানার, ফেস্টুন ও জাতীয়-দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে অংশ নেন।