৮:০ ০ অপরাহ্ণ
সিলেটে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
জিয়াউর রহমান দেশে প্রথম উন্নয়নের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেন: সালাহউদ্দিন আহমদ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপি বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে প্রথম বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনিই বাংলাদেশে প্রথম উন্নয়নের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেট জেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ জিয়াউর রহমান একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ। ১৯৭১ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠা না হলেও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ভূমিকার সূচনা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে।
তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং তাঁর আহ্বানে এ দেশের ছাত্র-জনতা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশ স্বাধীন করে। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে দেশ যখন আবারও পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হওয়ার আশঙ্কার মুখে পড়েছিল, তখন ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে মেজর জিয়াউর রহমান দেশকে সেই সংকট থেকে রক্ষা করেন। পরবর্তীতে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের উন্নয়নের রাজনীতির সূচনা করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শহীদ জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই তাঁর রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়েছিল। জীবনের এই পর্যায়ে এসে তিনি গর্ববোধ করেন যে, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া তাঁর জীবনের অন্যতম সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এমন এক সময়ে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যখন বাংলাদেশ আদৌ টিকে থাকবে কি না—তা নিয়ে বিশ্ববাসীর মধ্যে নানা আশঙ্কা ছিল। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে জিয়াউর রহমান একটি প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশকে ঘুরে দাঁড় করানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁর পররাষ্ট্রনীতিও ছিল অত্যন্ত দূরদর্শী।
স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা সুদৃঢ় করতে সক্ষম হন। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কৃষি, শিল্পসহ দেশের প্রায় প্রতিটি খাতে জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ছোঁয়া লেগেছিল। তাঁর সময় বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়ে যায় এবং চাল রপ্তানি শুরু করে। দেশের মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য তাঁর নেওয়া উদ্যোগগুলো আজও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের অনুসারী হিসেবে তাঁর আদর্শ ও মর্যাদা সমুন্নত রেখে মানুষের জন্য কাজ করে যেতে হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর পিতা ও মায়ের মতোই বড় চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে দেশের উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে একটি ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। দেশের মানুষ বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে বিএনপিকে যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, সেই প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। স্বাগত বক্তব্যে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রধান সিপাহসালার হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিএনপির নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ গঠনের জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিচ্ছেন। আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আমরা তাঁর সৈনিক হিসেবে আগামী দিনে সিলেট সিটি কর্পোরেশনসহ পুরো সিলেটের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে আরও গতিশীল করতে কাজ করব।
সিলেটের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও এগিয়ে নেওয়া হবে। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এমপির সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল মালিক, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ্ সিদ্দিকী, বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র ঋণবিষয়ক সহসম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।