৫:৫৮ অপরাহ্ণ
ছাতকে বসতভিটা দ'খল'চেষ্টা ও হা'ম'লা নি'রাপ'ত্তা'হীন ভু'ক্ত'ভো'গী পরিবার!
সুনামগঞ্জের ছাতকে জো'রপূর্বক বসতভিটা দ'খল ও ওই পরিবারের সদস্যদের ওপর স্থানীয় প্রভা'বশালী ভূমি'খে'কো রোয়াব আলীদের হা'মলা ও প্রা'ণনাশের হুম'কির অভি'যোগ ওঠেছে। বুধবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভি'যোগ করেন নোয়ারাই ইউনিয়নের ছনখাইর গ্রামের মেরাব আলী কন্যা মোছা. শামীমা ইয়াসমিন ইভা।
তিনি বলেন, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের অ'ত্যা'চার ও নির্যা'তনে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। জোরপূর্বক আমাদের বসতভিটা দখল করে নিতে ওই মহল উঠেপড়ে লেগেছে। তাদের হা'মলায় আমার এক ভাইয়ের স্বাভাবিক জীবন নষ্ট হয়ে গেছে এবং আমার বৃদ্ধা মা শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তাদের হুমকি-ধমকিতে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ফিরতে পারছি না নিজ বসতভিটায়। শামীমা ইয়াসমিন ইভা বলেন, গ্রামের মৃত মখলিছ আলীর পুত্র রোয়াব আলী তার সহযোগীদের নিয়ে আমাদের বসতভিটার একটি অংশ জবরদখল করে গৃহ নির্মাণের চেষ্টা করে আসছে।
বাধা দেওয়ায় তারা আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। ৬ অক্টোবর আমার ছোট ভাই নাহিদ হাসানকে একা পেয়ে তারা মারপিঠ করে আহত করে। পঞ্চায়েতের মুরব্বিগণ সালিশ বৈঠক আহবান করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সালিশে যাতে আমরা না যেতে পারি সেজন্য রোয়াব ও তার সহযোগীরা ৭ অক্টোবর আমার আরেক ভাই হাবিবুর রহমানকে হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। হামলায় আমার ভাই গুরুতর আহত হন। তার মাথার খুলি ফেটে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ছাতক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখনও তিনি শঙ্কামুক্ত নন। তার মাথায় ৩১টি সেলাই লেগেছে।
তারা আমার মা শরিফুন নেছাকে লোহার পাইপ দিয়ে উপর্যুপুরী আঘাত করে। তার হাতের হাড় ভেঙ্গে যায়। হাতে ২১টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, গত ১৭ অক্টোবর ছাতক থানায় রোয়াব আলী, সিরাজ উদ্দিন, আবুল কালাম, মাইন উদ্দিন, লিটন মিয়া, নূর আলী, রইছ আলী, কুতুব উদ্দিন, আব্দুল, হাবিবুর রহমান, নাঈম ও ফাহিমকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছি।
প্রধান আসামি রোয়াব আলীকে ২৭ নভেম্বর ছাতক বাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শামীমা ইভা বলেন, ভূমিখেকো চক্র নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা নিজেরাই নিজেদের একটি পরিত্যক্ত ঘরে আগুন লাগিয়ে আমাদের ওপর দায় চাপাচ্ছে। এই ঘটনার পর তারা আমাদেরকে মামলা দিয়ে ফাঁসানোর ভয় দেখাচ্ছে। আমি নিরাপত্তার স্বার্থে ২৮ নভেম্বর ছাতক থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি। তবুও তারা প্রকাশ্যে দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।
মামলা তুলে নিতে নানাভাবে ভয়ভীতির হুমকি দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, মামলা তুলে না নিলে মেরে ফেলারও হুমকি দিচ্ছে। এই ঘটনায় গত ১৮ নভেম্বর আমি ছাতক থানায় আরেকটি সাধারণ ডায়েরি করেছি। কিন্তু বাকি আসামিরা জামিনে থেকে প্রতিনিয়ত নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। তাদের ভয়ে আমরা নিজ বসতভিটায় ফিরতে পারছি না। চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তিনি এই বিষয়ে প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ ও হস্তক্ষেপ কামনা করেন।