বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০ ২৬
অসীম কুমার বৈষ্ণব, সিকৃবি প্রতিনিধি ::
১ ফেব্রুয়ারী ২০ ২২
১২:২১ পূর্বাহ্ণ

শাবি'র পর এবার সিকৃবি : মেয়েদের হলে সমস্যা

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) পর এবার সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও মেয়েদের হলে দেখা দিয়েছে কিছু অনিয়ম, সমস্যা । সিকৃবির শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ডাইনিংয়ের খাবার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হলের শিক্ষার্থীরা।

রোববার (৩০ জানুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এসব অভিযোগ জানিয়ে লিখতে শুরু করেন ওই হলটির শিক্ষার্থীরা। রাতে ছাত্রীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ছাত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরে হলে নিম্নমানের খাবার দেয়া হচ্ছে। তারা জানান, বারবার হল প্রভোস্টকে জানালেও তার কোন প্রতিকার মিলছে না। বাজারের সবচেয়ে নিম্নমানের চাল হলের ডাইনিংয়ের জন্য কেনা হয়।

এছাড়া রাতের খাবারে প্রায় প্রতিদিন মাছ, মাংস বা ডিমসহ কোনো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার থাকেনা। হলের ডাইনিং এ অপরিচ্ছন্নভাবে খাবার পরিবেশন করা হয়। ডালের বোলে বিড়াল ও মাছির আনাগোনা প্রতিনিয়ত থাকে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া হলের খাবারের টাকা শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রুপালী ব্যাংকের শাখায় প্রদান করেন। কোন শিক্ষার্থীর যদি কোন মাসে টাকা বাকি থাকে তার জন্য গুণতে হয় ২০০ টাকা জরিমানা। শিক্ষার্থীরা জানান, ৫ টাকা বাকি থাকলেও ২০০ টাকা জরিমানা দিতে হয়। জরিমানার টাকা ব্যাংকে জমা না নিয়ে আলাদাভাবে উত্তোলন করা হয় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। এছাড়া হলের শিক্ষার্থীদের ডাইনিং এ খাওয়া বাধ্যতামূলক। কোন শিক্ষার্থী হলে না থাকলেও (বাড়িতে থাকলে) ন্যূনতম ২০ দিনের খাবার খরচ তাকে পরিশোধ করতে হয়। কোন শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে তার রুমমেট খাবার ডাইনিং থেকে নিয়ে যেতে পারেন না।

সব শিক্ষার্থী সব খাবার (মাছ, মাংস)খেতে পারেন না, সেজন্য তাকে বিকল্প খাবার দেয়ার (ডিম) রীতি থাকলেও বর্তমানে সেটি বন্ধ। শিক্ষার্থীরা জানান, এসব বিষয়ে হলের প্রভোস্টকে বার বার জানানোর পরও কোন ফলাফল পাওয়া যায় নি।

এছাড়া শীতকালিন সময়ে হলে প্রবেশের সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা হওয়ায় কোন শিক্ষার্থীর ৫ মিনিট দেরি হলেও তার জন্য জবাব দিতে হয়। হলের ডাইনিং ও গেটে কর্মরত কর্মচারীরা নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। হলে বিভিন্ন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের কাছ থেকে শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেট সেবা নেন। সেই সেবা বিঘ্নিত হলে ইন্টারনেট সংযোগ ঠিক করার জন্য বুধবার ও বৃহস্পতিবার লোক ডাকা যায়। শুক্রবার কারন সংযোগে সমস্যা হলে এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয় বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এ সব বিষয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রভোষ্ট ডেয়রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আনজুমান আরা গণমাধ্যমকে জানান, ‘হল অর্ডিন্যান্সে রয়েছে যে কমপক্ষে ২০ দিন শিক্ষার্থীদের ডাইনিং এ খাবার চালু রাখতে হবে। কেউ অসুস্থ থাকলে ডাইনিং ম্যানেজার খাবার তার রুমে দিয়ে আসে। খাবার রুমে নিয়ে গেলে নষ্ট হয় বেশি। ৫৫ টাকায় ৩ বেলা খাবার। কিন্তু তাও বলা হয়েছে যাদের সমস্যা হচ্ছে তারা রুমে নিয়ে যাবে । আমাদের হলের ডাইনিং এ ৩০০ থেকে ৪০০ ছাত্রী খাবার খান। নভেম্বর ডিসেম্বর মাসে টাকা বাকি রেখে জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি হয়ে গেলেও অনেকের টাকা বকেয়া রয়ে গেছে। ডিসেম্বর মাসে বলা হয়েছে যত বকেয়া হয়েছে সেটা দিয়ে দেয়ার জন্য। জানুয়ারি মাসে এসেও সেটা দেয়নি অনেকে। আমরা একটা শৃঙ্খলার মধ্যে আনার জন্য এই জরিমানা নিয়েছি। এই টাকা হল কেন নিবে ? এই টাকা শিক্ষার্থীদের রিফান্ড করা হবে। এদের সব টাকাই আবার এদের ফেরত দিয়ে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র শৃঙ্খলার মধ্যে আনার জন্য এটা করা হয়েছে। কারণ ডাইনিং চালানো যাচ্ছিলো না। জরিমানার টাকা হল অফিসেই আছে। কেউ যদি কোন খাবার খেতে না পারে তবে তাকে অল্টারনেটিভ হিসেবে ডিম দেয়া হয়। এটা আগেও ছিল, এখনও আছে। তবে আগে থেকেই এটা ইনফর্ম করতে হয়। আমি নিজে ডাইনিং এ ছিলাম সেদিন, অনেক মেয়ে বলেছে যে তারা ডিম খাবে।

কিন্তু বাস্তবচিত্রে দেখা গেছে তারা ঐদিন ডিম না খেয়ে মাংস নিয়ে চলে গেছে। যার ফলে খাবার শর্ট পড়েছে। সপ্তাহে দুইদিন ইন্টারনেটের লোক হলে আসতে পারে। বুধবার ও বৃহঃস্পতিবার। কারণ যত্রতত্র রাত ৯ টা ১০ টায় বাইরের লোক হলে আসলে আমার অন্য মেয়েদের কমপ্লেইন থাকে। যেহেতু আমাদের এখানে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাপোর্ট দিতে পারছে না এবং প্রত্যেকেরই এখন অনলাইনে ক্লাস, পরিক্ষা চলে।

তাই বুধবার ও বৃহঃস্পতিবার যাদের ইন্টারনেটের সমস্যা আছে সেটা ঠিক করার জন্য বলা হয়েছে। কারণ ঠিক করার জন্য বেশ কয়েকজন ছেলে চলে আসে। আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্যই এটা করতে হয়েছে। কমপ্লেইন থাকে অন্যদের।’ হলের খাবারের মান নিয়ে যখন ওরা বলছে, আপনারা তো সাংবাদিক। এমনটি উল্লেখ করে ড. আনজুমান আরা বলেন, ‘আপনারা হলে এসে দেখে যান ডাইনিংয়ের অবস্থা। আমি বলে দিচ্ছি। হলের ডাইনিং তো মেয়েরাই চালায়। আমি নিজেও জানি খাবারের মান ভালো না। এই খাবার খেয়ে ছাত্রীরা পড়াশুনা করতে পারে না। আমি অনেক চেষ্টা করেছি খাবারের মান ভাল করার জন্য। এখন ডাইনিং তো ছাত্রীরাই চালায়। আমি বারবার বলেছি রাতে একটা প্রোটিন রাখার জন্য। একজন ছাত্রী যদি খেতে না পারে তাহলে তো এটা খুব স্বাভাবিক সে কি করে পড়াশুনা করবে। তাই না? ‘চালের বাজারদর আপনাদের জানার আছে। আমরা নিজেও সেদিন ডাইনিং এর খাবার খেলাম নির্দিষ্ট ফি দিয়ে। আমরা ৫ জন মানুষের তো চাল টা নিয়ে কোন অভিযোগ ছিল না। আমরা খেলাম।

হলে প্রবেশের ক্ষেত্রে ৫ মিনিট যদি লেট হয় সেটা তো আমার সাথে বা সহকারী প্রভোষ্টদের সাথে কথা বললেই হয়। বকাঝকা তো করা হয় না। এপ্লিকেশন আগে থেকে দিয়ে অনুমোদন করিয়ে নিতে হয় বাসায় যাওয়ার জন্য বা চাকরীর পরিক্ষা দেয়ার জন্য। এটা কেউ না করলেই আমরা তাদের বিরক্তির কারণ হই। হলে মাত্র দুজন মানুষ এত ছাত্রীর জন্য রান্না করেন। মাত্র একজন সুইপার পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন। কর্মচারীর অপ্রতুলতা রয়েছে এখানে। আমরা সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি।’

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ