বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০ ২৬
রাহাত হাসান মিশকাত,শাবিপ্রবি::
২৬ জানুয়ারী ২০ ২২
৫:২১ পূর্বাহ্ণ

দাবি আদায় না হলে অনশন ভাঙতে নারাজ শাবি শিক্ষার্থীরা
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে অনশনকারী শিক্ষার্থীরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন ভাঙবেন না বলে জানিয়েছেন। এ ছাড়া গত ১৬ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর উপাচার্যের নির্দেশেই পুলিশি হামলা, গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনায় উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালালেও আন্দোলনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ চার বছরের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার রাত নয়টায় উপাচার্যের বাসভবনের সামেন সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ১৫০ ঘন্টা ধরে অনশনকারী তিন শিক্ষার্থী। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন অনশনকারী শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আবেদীন, জাহেদুল ইসলাম, সাবরিনা মমতা। অনশনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, 'উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ গত চার বছর তাঁর মেয়াদে থাকা কালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের বিভিন্ন ফিরিস্তি তুলে ধরছেন। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পর এক ধরণের ওপেন কালচারে অভ্যস্ত হলেও ফরিদ উদ্দিন দায়িত্ব নেওয়ার পর তালেবানি কালচারে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করার পর বিভিন্ন তালেবানি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়কে আলপনা আঁকা নিষিদ্ধ করেছিলেন। তবে কেনো সেটি করা হয়েছিল সেটি শিক্ষার্থীদের মাথায় ঢুকেনি। পরে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে সড়কে আলপনা আকার দাবি আদায় করেছিলাম'। 'বিশ্ববিদ্যালয়ে সবাই প্রাপ্ত বয়স্ক। কে, কখন হলে ঢুকবে বের হবে তা প্রশাসন নির্ধারণ করে দিতে পারে না। প্রশাসন নারী শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যা ৭টায় মধ্যে হল থেকে বের না হওয়ার কড়াকড়ি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। যদি সন্ধ্যা ৭টার পর কোন মেয়ে হলে ঢুকতে বা বেড়–তে চাইতো তখন তাদের সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করা হতো। আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করাই'। 'এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি রাত আটটার মধ্যে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে মুক্ত চিন্তার জায়গা সেখানে শিক্ষার্থীদের ১৮-১৯ দিন ধরে লাইব্রেরি বন্ধের সময় বাড়ানোর জন্য আন্দোলন করতে হয়েছে'। সংবাদ সম্মেলনে অনশরত শিক্ষার্থীরা আন্দোলন কর্মসূচিতে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে সাবেক পাঁচ শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার বিষয়ে বলেন, দেশের কোন আইনে অনুজদের কর্মসূচিতে ‘ডোনেশন’ দেওয়া অপরাধ কিংবা বেআইনী সেটি আমাদের জানা নেই। সাবেক শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে আটক কিংবা গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিষয়টি আমাদের জানা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক পাঁচ শিক্ষার্থী গ্রেপ্তারের ব্যাপারে নিন্দা জানান তাঁরা। এসময় অবিলম্বে নিঃর্শত মুক্তির দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে অনশনরত শিক্ষার্থীরা আরো জানান, 'গত দেড় বছরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষর্থীদের খাবারের সবগুলো টং তুলে দিয়েছেন এই উপাচার্য। সাম্প্রতিক আমরা প্রায় আড়াই হাজার স্বাক্ষর সংগ্রহ করে উপাচার্যকে দিয়েছিলাম টং যাতে পুনরায় স্থাপন করে। তবে আমরা যখন এসব দাবি নিয়ে তার কাছে গিয়েছিলাম সে তখন আমাদের দাবির প্রতি কোন গুরুত্ব দেয়নি। আমাদের তুচ্ছ তাচ্ছিল করেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের। এই টংগুলোতে তারা খুব অল্প দামে খাবার খেতেন'। তারা আরো জানান, 'প্রয়োজন না থাকার সত্বেও শিক্ষকদের জন্য গত কয়েক বছরে বেশ কিছু শীততাপ নিয়ন্ত্রিত বাস কেনা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য কোন বাস কেনা হয়নি। আমাদের বিশাল সংখ্যক শিক্ষর্থীকে বাসে বাধুর ঝুলে যেতে হয়'। সংবাদ সম্মেলনে অনশনকারী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, 'অনশনের সপ্তম দিনে এসে চিকিৎসা সহায়তা বন্ধ হওয়ার বিষয়টি আমরা কোনো ভাবেই আশা করিনি। এটি অমানবিকতার কত বড় দৃষ্টান্ত সেটি সকলকে ভেবে দেখার আহ্বান জানান'। শিক্ষার্থীরা বলেন, 'যে উপাচার্য নিজেদের শিক্ষার্থীদের মাঝে নিরাপদ মনে করেন না, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হওয়ার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন। এজন্য তাঁর পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা'।
ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ