শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০ ২৬
বিজ্ঞপ্তি::
১২ ফেব্রুয়ারী ২০ ২৫
৪:৪১ অপরাহ্ণ

সিলেট দারুল মাহমুদ মাদ্রাসায় হি.ফ.য সমাপন ও পা.গ.ড়ি প্রদান
সিলেটের অন্যতম খ্যাতনামা ইসলামিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল মাহমুদ তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসা হিফয সমাপ্তকারী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান উপলক্ষে এক আনন্দঘন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে দেশবরেণ্য ইসলামি ব্যক্তিত্ব, বিদ্বান উলামায়ে কেরাম, অভিভাবক ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।


হাফিজদের সংবর্ধনা ও পাগড়ি প্রদান:
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল হিফয সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিক পাগড়ি প্রদান ও সনদ বিতরণ। দীর্ঘ অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের পর যারা পবিত্র কুরআন হিফয সম্পন্ন করেছে, তাদের মাথায় আনুষ্ঠানিকভাবে পাগড়ি পরিয়ে দেওয়া হয় এবং হাতে সম্মানসূচক সনদ তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা হৃদয়ছোঁয়া তেলাওয়াত করলে উপস্থিত সকলে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।

উলামায়ে কেরামের গুরুত্বপূর্ণ নসিহা: 
প্রধান অতিথি হাফিজ মাওলানা তজম্মুল আমিন সাহেব তাঁর বক্তব্যে বলেন,
"কেবল কুরআন মুখস্থ করাই যথেষ্ট নয়; হাফিজদের উচিত কুরআনের আদর্শকে জীবনে বাস্তবায়ন করা। একজন হাফিজ কুরআনের আলোকবর্তিকা, যার দায়িত্ব মানুষের মাঝে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দেওয়া।"

অন্যান্য বরেণ্য ওলামাগণ, যেমন—হাফিজ মাওলানা আহমদ সগীর বিন আমকুনী, মাওলানা আব্দুল আহাদ নুমানি, উস্তাদুল হুফফাজ হাফিজ জুনাইদ আহমদ—তাঁরা ইসলামি শিক্ষার গুরুত্ব, হাফিজদের দায়িত্ব ও সমাজে তাঁদের ভূমিকা নিয়ে মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতাগণ হাফিজ মাওলানা মুখলিছুর রহমান, হাফিজ মাওলানা তোফায়েল আহমদ, হাফিজ মাওলানা ফখর উদ্দিন, হাফিজ মাওলানা মাশহুদ আহমদসহ আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি।

মাদ্রাসার সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা:
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হাফিজ মাওলানা আব্দুল আহাদ মাদ্রাসার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন,
"শিক্ষার্থীদের আরও উন্নত পরিবেশে পাঠদান নিশ্চিত করতে আমরা মাদ্রাসার পরিধি বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে ৭ শতক জমি কেনার কার্যক্রম চলছে। কিছু অংশের মূল্য পরিশোধ করা হলেও আরও অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। সমাজের দানশীল ব্যক্তিরা এই মহৎ উদ্যোগে সহযোগিতা করলে ইসলামি শিক্ষার প্রসারে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"

অভিভাবকদের অনুভূতি:
অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের মধ্যেও ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। এক অভিভাবক বলেন,
"আমার সন্তান আজ কুরআনের হাফিজ হয়েছে—এটি আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত। আমি মাদ্রাসার শিক্ষকদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।"

অন্য এক অভিভাবকের মতে,
"দারুল মাহমুদ মাদ্রাসা ইসলামি শিক্ষার প্রসারে অসাধারণ ভূমিকা রাখছে। আমি আশা করি, ভবিষ্যতে আরও অনেক শিক্ষার্থী এখানে হিফয সম্পন্ন করে ইসলামের সেবা করবে।"

বিশেষ মোনাজাত ও সমাপ্তি
অনুষ্ঠানের শেষ অংশে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং মাদ্রাসার উন্নতির জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়। উলামায়ে কেরাম দোয়া পরিচালনা করেন, যেখানে উপস্থিত সকলে হাত তুলে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন।

এই আয়োজনে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়।
ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ