১২:২১ পূর্বাহ্ণ
জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি হতে এসে শাবিতে আটক এক শিক্ষার্থী
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) জালিয়াতির মাধ্যমে পরীক্ষা না দিয়ে ভর্তি হতে এসে আটক হয়েছেন ইকবাল হোসেন সাইদ নামের এক ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল তিনটার দিকে তাকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটি। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রক্টর অফিসে হস্তান্তর করা হয়। জানা যায়, শাবিতে চলমান তৃতীয় ধাপের ভর্তি কার্যক্রম চলাকালীন ভর্তি হতে আসেন ইকবাল হোসেন সাইদ।
সে কক্সবাজার জেলার চকরিয়ার সবুজবাগ এলাকার রফিকুল ইসলামের (প্রবাসী) ছেলে। গত ২৪ অক্টোবর সারাদেশে একযোগে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় মানবিক শাখায় ভর্তি হতে এসেছে। তার গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ৩৫১৭৬৩ এবং মানবিক শাখায় তার মেধাক্রম ৭৫৮। তার পরিবর্তে পরীক্ষা দেন রাশেদ নামের এক শিক্ষার্থী। শাবির ২০২০-২১ সেশনের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব সহযোগী অধ্যাপক চৌধুরী আব্দুল্লাহ হুসাইনী বলেন, 'আমরা প্রতিটি শিক্ষার্থীর সকল কাগজপত্র যাচাই করছি। এই যাচাইয়ে প্রথমে তার স্বাক্ষর দেখে সন্দেহ হয়।
পরে তার রেজিস্ট্রেশন নাম্বার জিজ্ঞেস করা হয় এবং লিখতে বলা হয় তাকে৷ সেখানে তার লেখা আর উত্তরপত্রের লেখা এক নয়। তার ছবির সঙ্গেও অমিল ছিলো। তিনি আরও বলেন, তার পরীক্ষার কেন্দ্র ছিলো চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড অ্যানিমেল সায়েন্স ইউনিভার্সিটিতে। কিন্তু কোথায় পরীক্ষার কেন্দ্র ছিলো সেটাও সে ঠিকভাবে বলতে পারছিলো না।
এভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে জালিয়াতির কথা স্বীকার করে এবং বলে সে ভর্তি পরীক্ষা দেয়নি, তার পরীক্ষা দিয়েছে রাশেদ নামের এক ব্যক্তি। এরপরে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বডির কাছে তাকে হস্তান্তর করি'। সহকারী প্রক্টর আবু হেনা পহিল জানান, 'জালিয়াতি করে ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থী ইকবাল হোসেন সাঈদ ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে জালিয়াতি করে। তার পরিচিত এবং বন্ধু আতিকুর রহমান নামের ব্যক্তির সঙ্গে চুক্তি করে এবং তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সে ওই টাকা দেয়।
আতিকুর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম বিভাগে ভর্তির জন্য সাক্ষাৎকার দিয়েছে বলে জানিয়েছে আটককৃত শিক্ষার্থী। এদিকে আতিকুরের বড়ভাই শহিদুল ইসলাম এই জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত। শহিদুল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী বলে জানান আটককৃত শিক্ষার্থী। পরে ইকবাল হোসেনের বদলে পরীক্ষায় প্রক্সি দিয়েছিল রাশেদ নামের ব্যক্তি। কিন্তু, আটককৃত শিক্ষার্থী রাশেদ নামের ওই ব্যক্তিকে চিনে না বলে জানায়'। তিনি আরও বলেন, 'আমরা এই শিক্ষার্থীকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছি। পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবেন। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেনকে জানানো হয়েছে, উনি ভর্তি কমিটির সঙ্গে কথা বলে মামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন'।