৪:৪৩ অপরাহ্ণ
সাড়ে ৭ ঘণ্টা পর সিলেট-ঢাকা ট্রেন চলাচল শুরু
সাড়ে ৭ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর আবারও সচল হয়েছে রেল যোগাযোগ। স্বাভাবিক হয়েছে ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-নোয়াখালী ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন চলাচল। রেলের এসব পথের বিভিন্ন স্টেশনে সাতটি ট্রেন আটকা পড়েছিল। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেল কর্মকর্তারা।
শুক্রবার (২৬ মার্চ) দিবাগত রাতে ‘মহানগর গোধূলি’ ট্রেন আখাউড়া স্টেশন ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। পথিমধ্যে দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে এসে যাত্রা বিরতি করে।
যাত্রাবিরতি শেষে ঢাকার উদ্দেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনটি ছেড়ে যায়। এরপর নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস রাত পৌনে ১টা ও ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেস দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের আখাউড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, রেলপথ সচল থাকায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।
শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলা সদরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন বিক্ষুব্ধ মাদরাসাছাত্ররা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন ও কাউতলি এলাকায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়েও হামলা চালান বিক্ষোভকারীরা।
একপর্যায়ে তারা স্টেশনে থাকা ট্রেনের সিগন্যাল প্যানেল বোর্ডে আগুন ধরিয়ে দেন। একে একে স্টেশনের সাতটি কক্ষে আগুন, এসব কক্ষের নথিপত্র ও আসবাব বের করে রেললাইনের ওপরে রেখে এবং রেললাইনের স্লিপার তুলে রেললাইনের ওপর রেখে আগুন ধরিয়ে দেন।
এসময় পুলিশ শর্টগানের গুলি ছুড়লে আশিক (২০) নামে এক যুবক আহত হন। পরে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আশিক জেলা সদরের দাতিয়ারা এলাকার সাগর মিয়ার ছেলে।
এ বিক্ষোভের ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশের ২নং ফাঁড়ির পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) নূরে আলমসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে নূরে আলমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।