রবিবার, মে ৩১, ২০ ২৬
ডেস্ক নিউজ:
১ মার্চ ২০ ২৬
১০ :৫৯ অপরাহ্ণ

ছাতকে আয়নুলের অপপ্রচারে এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভ
সুনামগঞ্জের ছাতক সিলেট বিভাগের অন্যতম শিল্প এলাকা। প্রাচীনকাল থেকেই শিল্প নগরী হিসেবে ছাতকের সুনাম রয়েছে। সড়ক, নৌ ও রেল যোগযোগ ছাতককে এই শিল্প নগরী হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করেছে। এখানে সরকারি সিমেন্ট ফ্যাক্টরী ছাড়াও রয়েছে বহুজাতিক সিমেন্ট কোম্পানি লাফার্জহোলসিম এর সিমেন্ট প্ল্যান্ট, আকিজের পেপার মিল, ছোট বড় অনেক পাথর ও চুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন ঠিকাদারী কাজ করতে এলাকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আরো কয়েকশ প্রতিষ্ঠান। ছাতকের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সুপরিচিত এবং স্বনামধন্য কোম্পানি হলো লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ। ছাতকের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে এই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অনস্বীকার্য। অতীতে ছাতকের জনসাধারনের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় জাতীয় পর্যায়ে পুরষ্কার লাভ করেছে কোম্পানিটি। স্থানীয় পরিবেশ রক্ষায় এবং উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য ২০২৩ সালে বাংলাদেশ সরকারের নিকট থেকে পেয়েছে গ্রীন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড। এমন একটি কোম্পানির বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে ছাতকের নোয়ারাই ইউনিয়নের বাসিন্দা আয়নুল আহমেদ নামের এক ব্যক্তি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সে নিজেকে ডিজিটাল ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচয় দেয়। আয়নুল লাফার্জহোলসিম এর সকল ঠিকাদারী ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতে চায় বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁরা জানান আয়নুল নিজের হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে কোম্পানির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার চালায়। সঠিক উপায়ে কোন টেন্ডারে অংশগ্রহন না করে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে চাপ তৈরি করে কাজ বাগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে সে। ছাতকের ব্যবসায়ী মহল ছাড়াও সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম হয়েছে। আয়নুলের এসব হীন কর্মকান্ড সম্পর্কে ছাতকের ব্যবসায়ী হাতেম আলী লিটন বলেন, “আয়নুল ‘নাগরিক পরিবেশ ও যুব কল্যাণ সংস্থা’ নামে একটা প্রতিষ্ঠান খুলেছে বলে শুনেছি। এই প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে সে লাফার্জহোলসিম এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। এই প্রতিষ্ঠানের কোন উন্নয়নমূলক কাজ আমাদের নজরে আসেনি। কোন যুব ও পরিবেশের উন্নয়নে কোন কাজ এ পর্যন্ত করেছে বলেও শুনিনি। এর একমাত্র কাজ লাফার্জের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়ানো এবং এই প্রতিষ্ঠানের প্যাড ব্যবহার করে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেয়া।” গ্রামবাসীর অভিযোগ আয়নুল কোম্পানির বিরুদ্ধে একদিকে অপপ্রচার চালায় আবার ভিতরে ভিতরে ঠিকাদারী কাজ পেতে তদবিরও করে। টেঙগারগাও গ্রামের বাসিন্দা দুলাল মিয়া বলেন, “প্রতিবার মাটি সংগ্রহের সময় এলে আয়নুলের দৌড় ঝাঁপ বেড়ে যায়। মাটি সরবাহের কাজ পেতে নানাধরনের ফন্দি ফিকির করতে থাকে। এবার তো শুনেছি কাজ না পেয়ে সে মামলাও করেছে।” এই মামলার বিষয়ে অনুসন্ধানে জানা যায় ২০১৮ সালে আয়নুল তার সংগঠনের ব্যানারে লাফার্জহোলসিম এর বিরুদ্ধে বায়ু, পানি ও মাটি কাটার মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতি করার অভিযোগ করে। মহামাণ্য আদালত ঐ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধির সমন্বয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে আয়নুলের অভিযোগের কোন সত্যতা পায়নি। কমিটি কিছু সুপারিশ করে। লাফার্জহোলসিম সেই সকল সুপারিশ বাস্তবায়ন করে পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একই গ্রামের আরেক বাসিন্দা বলেন “শুনেছি সে এবার লাফার্জকে ৫ লাখ টন মাটি সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছিল। ব্যর্থ হয়ে সে লাফার্জের মাটি সংগ্রহের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে।” জেলা প্রশাসকের অনুমতি ও সকল শর্তপূরণ সাপেক্ষে কয়েক বছর পর পর এলাকার ঠিকাদারদের মাধ্যমে মাটি সংগ্রহ করে থাকে লাফার্জহোলসিম। অভিযোগের বিষয়ে আয়নুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,পরিবেশ দূষনরোধ, কৃষি জমির মাটি আইন বহির্ভূত ভাবে কাটাসহ বায়ুদূষণ রোধে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আমি প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করি। তবে সরেজমিনে ঘুরে এলকাবাসীর সাথে কথা বলে আয়নুলের অভিযোগের কোনো সত্যতা মেলেনি। তাদের সকলের অভিযোগ আয়নুল একাই এই মাটি সংগ্রহের ঠিকাদারী ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। ফসলি জমি ধ্বংসের ব্যাপারে আয়নুলের করা অভিযোগের ব্যাপারে একই গ্রামের ইমতিয়াজ আলী মেম্বার বলেন, “ কোন ফসলি জমির মাটি লাফার্জ নেয়না। শুধু অনাবাদী জমি থেকেই মাটি কাটা হয়। যে জমিগুলো থেকে এ বছর মাটি নেয়া হবে, সেই জমিগুলোতে বোরো চাষ করা যাবে সামনের সিজনে। আগে যারা মাটি দিয়েছেন তারা এখন অনাবাদী ঐসব জমিতে বোরো চাষ করছেন। এই জমিতে আমন বা আউশ হয় না। বন্যার পানির নিচে থাকে ৫/৬ মাস।” লাফার্জহোলসিম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে, কোম্পানির হেড অব কমিউনিকেশনস তৌহিদুল ইসলাম জানান, লাফার্জহোলসিম সবসময়ই পরিবেশের প্রতি সচেতন ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বিগত ২৫ বছর ধরে লাফার্জহোলসিম স্থানীয়দের জীবন ও পরিবেশের মান উন্নয়নের বিভিন্ন ধরনের টেকসই উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে। তবে কোম্পানির পলিসি অনুসারে আদালতের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। এদিকে এলাকাবাসী আয়নুলের কার্যকলাপে বিরক্ত এবং অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করার দাবী জানান।
ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ