বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০ ২৬
রাহাত হাসান মিশকাত,শাবিপ্রবি::
১৭ জানুয়ারী ২০ ২২
৪:১১ পূর্বাহ্ণ

অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা উত্তপ্ত শাবিপ্রবি
তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ছত্রভঙ্গ করতে এবং অবরুদ্ধ উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে রক্ষা করতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হঠাৎ করে লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে আন্দোলনকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। ঘটনাস্থলে পঞ্চাশের অধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা যায়। আহত শিক্ষার্থীরা হলেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী তানহা তাহসীন, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের মিত্রা সংঘ, সজল কুন্ডু, বিভাগের নাম পাওয়া যায়নি এমন শিক্ষার্থী হলেন, মেহজাবিন পর্ণা, সজল কুণ্ডু, সাজেদুল ইসলাম সিজন, তাকিয়া ইসলাম, জুনায়েদ ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন, মসিউর ইসলাম, ইরফান, রায়হান আহমেদ, মুনির হোসেন তালুকদার, সেলিম এবং তমাল, সিফাত আকাশ, জাহিদুল ইসলাম অপূর্ব, হুমায়ূন কবির অপূর্ব। এছাড়া কিছু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। কিন্তু তাদের নাম জানা যায়নি। ভিসিকে উদ্ধারের সময় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ উত্তরের ডেপুটি কমিশনার আজবাহার আলী শেখ গণমাধ্যমকে বলেন, শিক্ষার্থীরা পুলিশের উপর উত্তেজিত হয়। এরপরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেন। এর আগে তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করে। এতে প্রায় ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধের পর উপাচার্যকে মুক্ত করে তার বাস ভবনে পৌঁছে দেয় পুলিশ। এদিকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ তার বাস ভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "পুলিশ হয়তো সাউন্ড গ্রেনেড মেরেছে তখন সবাই [16/01, 22:51] j Mishkat suat: "পুলিশ হয়তো সাউন্ড গ্রেনেড মেরেছে তখন সবাই ছুটাছুটি করছিল। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশের অনেকেই আহত হয়েছে। হঠাৎ করে এত সুন্দর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইট পাটকেল ও গুলি করবে এটা বিশ্বাস করা যায় না। আমরা সবাই মিলে শিক্ষার্থীদের সমস্ত সমস্যার সমাধান করে দিচ্ছি কিন্তু এত ছোট বিষয় নিয়ে তারা এমন করবে তা কাম্য ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের মত জায়গায় ভিসিসহ শিক্ষকদেরকে লাঞ্ছিত করবে এটা মানা যায়। তিনি আরও জানান, রাতে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয় অনিদির্ষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সোমবার দুপুর ১২টার শিক্ষার্থীদের হল খালি করার জন্য নিদের্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসলে আমরা আবার শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করবো। শুধুমাত্র ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ থাকবে কিন্তু অফিসিয়াল কার্যক্রম চলবে"। এদিন ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ডিনববৃন্দ, বিভাগীয় প্রধানগণ, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক, হল প্রভোস্টবৃন্দসহ প্রশাসনিক বিভিন্ন মহলকে নিয়ে সকালে প্রশাসনিক ভবনে আলোচনায় বসেন। সেখান থেকে প্রশাসনের একটি প্রতিনিধি দল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলতে যান। প্রশাসন দাবি না মানায় একপর্যায়ে ‘প্রশাসন ধিক্কার, প্রশাসন ধিক্কার’ করতে শিক্ষার্থীরা এই প্রতিনিধি দলের পিছু নেয়। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক সমিতির সভাপতি, প্রক্টর, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালকসহ প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিয়ে হলের গুণগত মান উন্নত এবং অব্যবস্থাপনার সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানান। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছে এক সপ্তাহের সময় চান প্রশাসন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের দাবি না মানা পর্যন্ত সময় বাড়াতে অস্বীকৃতি জানান আন্দোলনকারীরা। পরে প্রশাসনের কথা না শুনায় প্রশাসনিক বডির সদস্যরা সেখান থেকে চলে যাওয়ায় পথে শিক্ষার্থীরা পেছনে পেছনে ‘প্রশাসন ধিক্কার, প্রশাসন ধিক্কার’ বলে স্লোগান দিতে দিতে সামনের দিকে আগাতে থাকেন। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের পিছু নেওয়ার পর অর্জুন তলা থেকে উপাচার্য কার্যালয়ের দিকে আসেন। এরপর উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদকে সামনে পান আন্দেলনকারীরা। তখন উপাচার্যকে ঘিরে ধরে তার পিছু নিয়ে ‘ধিক্কার ধিক্কার’ ‘প্রশাসন ধিক্কার’ বলে স্লোাগান দিতে দিতে আইআইসিটি ভবনের দিকে আগান তারা। তখন উপাচার্যকে নিয়ে উপস্থিত শিক্ষক, কর্মকর্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি দিকে এগুলে শিক্ষার্থীরা তার পেছন পেছন সেখানে যান। পরে আইআইসিটি ভবনে ঢুকলে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দাবি করেন, পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়নি। ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বোঝাতে গিয়েছিলেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাঁদের ওপর চড়াও হয়েছেন। পুলিশ তাঁদের পেছনে অবস্থান নিয়েছিল। হঠাৎ শিক্ষার্থীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে আমিসহ পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়। তাই পুলিশ জানমাল রক্ষার্থে সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে। বর্তমানে পুলিশ ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এ বিষয়ে প্রক্টর ড. আলমগীর কবীরের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে ফোন কলে পাওয়া যায়নি।
ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ