বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০ ২৬
রাহাত হাসান মিশকাত,শাবিপ্রবি::
১১ আগস্ট ২০ ২২
৮:৫৪ অপরাহ্ণ

শাবিপ্রবির গবেষণায় স্থলজ সামুদ্রিক শৈবাল চাষ প্রযুক্তির উদ্ভাবন

বর্তমান বিশ্বে শৈবাল খাদ্য, বিভিন রকমর ঔষধ, সার, রাসায়নিক এবং কাগজ তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বঙ্গাপসাগরে শীতকালে পর্যাপ্ত শৈবাল পাওয়া যায়। তবে এই সামুদ্রিক শৈবাল সারা বছর পাওয়া যাবে এবং জলের পাশাপাশি স্থলজ পরিবেশে চাষ করা যাবে এমন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়র (শাবি) দুই গবেষক।

এই পদ্ধতিত বাণিজ্যিকভাব চাষ করতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক প্রক্ষাপটে ভূমিকা রাখত পারবে বলে মনে করেন তারা। বাংলাদশ মৎস্য গবষণা ইন্সটিটিউটর সামুদ্রিক মৎস্য গবষণা কেন্দ্র কক্সবাজার পরিচালিত “সী উইড কালচার অ্যান্ড সী উইড প্রোডাক্ট ডেভলপমন্ট ইন বাংলাদশ কাস্ট” এর গবষণা প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রথমবার “সী উইড সীডলিং প্রোডাকশন থ্রো হ্যাচারি টু ফিল্ড এসেসমেন্ট” শিরোনামে শাবির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি (জিইবি) বিভাগর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক মিয়া ও অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম এই গবষণা সম্পন্ন করেন। সামুদ্রিক শৈবাল প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শিল্পজাত পণ্য উৎপাদনে সামুদ্রিক শৈবালের প্রচুর কাঁচামাল প্রয়োজন, বঙ্গাপসাগরে ৪-৫ মাস চাষ করা হয় যা পর্যাপ্ত নয়। এ জন্য সারাবছর শৈবাল উৎপাদন প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে কেবল কৃত্রিম পরিবেশে এ শৈবালের চারা উৎপাদন ও স্থলজ পরিবেশে চাষের মাধ্যমে চাহিদা পূরণ সম্ভব। তিনি বলেন, তারা ১১ প্রজাতির সামুদ্রিক শৈবাল- উলভা লেক্টোকা, উলভা ইন্টেস্টাইনালিস, হাইড্রোক্লেথ্রাস ক্লেথ্রাটাস, সারগেসাম অর্নোডিয়েনাম, কলারপা রেসিমোসা, এন্টেরোমর্ফা ক্লেথ্রাটা, হিপ্নিয়া ভেলেন্টেই, গ্রেসিলারিয়া ভেরোকোসা, গ্রেসিলারিয়া কর্টিকাটা, পাদিনা বরিয়ানা ও কন্টোমেনিয়া সাইনোসা নিয়ে গবেষণা করে বিশেষ প্রক্রিয়ায় চারা উৎপাদন করেছেন। চারাগুলো নিয়ে বড় পরিসরে স্থলজ পরিবেশে চাষের পদ্ধতি উন্নয়নে গবেষণা চালাচ্ছেন। অধ্যাপক ফারুক মিয়া বলেন, তারা ভিন্ন পরিবেশে দুটি ল্যাবের মাধ্যমে গবেষণা চালান। সামুদ্রিক পানি ব্যবহার করে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামুদ্রিক মৎস্য প্রযুক্তি কেন্দ্র এবং শাবির জিইবি বিভাগে কৃত্রিমভাবে গবেষণা পরিচালনা করেন। উভয় পরিবেশেই সামুদ্রিক শৈবালের উৎপাদন সম্ভব। তবে স্বাভাবিকভাবেই সামুদ্রিক পানি এ শৈবালের স্থলজ চাষে অধিক উপযোগী।

তিনি জানান, তিনটি- উলভা লেক্টোকা, উলভা ইন্টেস্টাইনালিস ও গ্রেসিলারিয়া কর্টিকাটা শৈবালের চারা কৃত্রিমভাবে উৎপাদন করে স্থলজ পরিবেশে সফল চাষ প্রযুক্তির উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে, যা দ্রুতই শৈবাল চাষিদের মধ্যে হস্তান্তর করা সম্ভব। এ ছাড়া কলারপা রেসিমোসা শৈবালের চারা উৎপাদন ও স্থলজ পরিবেশে চাষ নিয়ে গবেষণা চলছে। তারা আশাবাদী খুব শিগগির এ প্রজাতিরও চারা উৎপাদন ও চাষে সাফল্য আসবে এবং এটি সারাবছরই চাষ করা যাবে। বাকি প্রজাতির সামুদ্রিক শৈবালও স্থলজ পরিবেশে উৎপাদন সম্ভব। তবে এর জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ