৮:২০ অপরাহ্ণ
জ্ঞানের দীপ্তিমান শিখা বিতরণ করছে স্টুডেন্টস হোম স্কুল
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন; তাকেই বলি শ্রেষ্ট শিক্ষা, যা কেবল তথ্য পরিবেশন করে না, যা বিশ্ব সত্তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের জীবনকে গড়ে তোলে।” কবি গুরুর এই বাণীকে অনুধাবন করে একটি আদর্শ বিদ্যালয় গড়ে তোলার প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যা”েছ স্টুডেন্টস হোম স্কুল। আন্তরিকতা, গুনগত মান সম্পন্ন শিক্ষা এবং সৃজনশীল পাঠদানে সিলেটে ইতিমধ্যেই আদর্শ বিদ্যালয় হিসেবে ¯’ান করে নিয়েছে "স্টুডেন্টস হোম স্কুল"।
বিদ্যালয়টি নগরীর প্রানকেন্দ্র জিন্দাবাজার সংলগ্ম জামতলায় প্রায় অর্ধ যুগ ধরে জ্ঞানের দীপ্তিমান শিখা বিতরন করে আসছে। স্কুল শাখার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পাঁচ বছর হলেও এর পিছনে রয়েছে প্রায় ১ যুগের সোনালী ইতিহাস। পূন্যভূমি সিলেটে যুগোপযোগী শিক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালে গড়ে তোলা হয় স্টুডেন্ট ফাউন্ডেশন। মেধাবৃত্তি, একাডেমিক কোচিং এবং স্কুল ভর্তি কোচিংসহ নানা ধরনের সেবা দিয়ে শুরু হয় এর কার্যক্রম। এসব কাজে অভিভাবকরা অনেকটা আনন্দিত হন।
এরপর তাদের পরামর্শেই এবং শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে ২০১৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয় স্টুডেন্টস হোম স্কুলের। ’আপনার সন্তানের কাঙ্খিত ভবিষ্যত নির্মিত হোক এখান থেকেই’ এই শ্লোগানে নতুন প্রত্যয়, নতুন সম্ভাবনা নিয়ে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রিন্সিপাল হন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা উ”চ বিদ্যালয় ও কলেজের ইংরেজী বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ হাসেম। তার হাত ধরেই বিদ্যালয়টি এগিয়ে যায় অনেক দূর। অধ্যক্ষ হিসাবে বর্তমানে বিদ্যালয়টির দায়িত্ব পালন করছেন তার ছেলে রোটারিয়ান এমইএইচ মিলন। তার সঠিক নেতৃত্বে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই স্কুলটিতে এসেছে বেশ কিছু সাফল্য। গৎ বাঁধা সনাতনী পাঠদান পদ্ধতি বাদ দিয়ে শুরু হয় নতুন গল্পের সূচনা। ক্লাসে যাতে শিক্ষার্থীরা মনোযোগী থাকে সেজন্য নেওয়া হয় নানা কৌশল। ক্লাস অনেক বেশি গুনগত মান সম্পন্ন এবং কার্যকর করতে শিক্ষকদেরকেও দেওয়া হয় প্রশিক্ষন। স্কুলটিতে একটি ক্লাসে মাত্র ২৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ২ জন করে শিক্ষক পাঠদান করে থাকেন। সকাল সাড়ে ৭ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত দুইটি শিফটে ক্লাস করানো হয়। প্লে থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত। বাংলা এবং ইংরেজি দুইটি মাধ্যমেই ন্যাশনাল কারিকুলামে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পাঠদান করা হয়ে থাকে। ২৫ জন নিরলস পরিশ্রমী নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ছাড়াও স্কুলটিতে রয়েছে স্বনামধন্য শিক্ষানুরাগীদের সমন্বয়ে অত্যন্ত প্রজ্ঞাাবান একটি এডভাইজরি কমিটি।
যাদের পরামর্শে স্কুলটির সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। আধুনিক এবং যুগোপযোগী পাঠদানের জন্য বিদ্যালয়টিতে রয়েছে ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, রয়েছে প্রতিটি ক্লাসের জন্য বাধ্যতামূলক কম্পিউটার শিক্ষা। প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন শুদ্ধভাবে অনর্গল ইংরেজিতে কথা বলতে পারে সেজন্য রয়েছে স্পেশাল স্পোকেন ল্যাব। শিশু প্রতিভা বিকাশের জন্য রয়েছে ডিবেটিং ক্লাব এবং সাইন্স ল্যাব। স্কুলটির ব্যাতিক্রমী বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে ক্লাসের পড়া ক্লাসেই আদায় করার পদ্ধতি। যার জন্য অতিরিক্ত প্রাইভেট টিউটরের প্রয়োজন হয় না। দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আলাদাভাবে "ইনসেনটিভ কেয়ার সিষ্টেম"। এছাড়াও শিক্ষার্থীরা যাতে ধর্মীয় এবং নৈতিক শিক্ষায় ও পারদর্শী হতে পারে সেজন্য বিশেষ গুরত্ব রয়েছে এই বিদ্যালয়টিতে। "" we provide education with entertainment " " এই কথাটিকে হৃদয়ে ধারন করে হাসি আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ স্টুডেন্টস হোম স্কুল আর সেজন্যই চমৎকার ভাবে সাজানো গোছানো স্কুল ক্যাম্পাসটিতে শুধু লেখাপড়াই নয় নিয়মিত খেলাধুলা এবং শরীরচর্চার সুযোগ ও রয়েছে। জাতির পিতার প্রতি সম্মানার্থে স্কুল প্রাংগনে তৈরি করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু কর্নার। বিদ্যালয়টিতে রয়েছে অত্যন্ত চমৎকার ইনডোর এবং আউটডোর কিডস জোন। শিক্ষার্থীরা যাতে সৃজনশীল এবং মননশীল মানুষ হিসাবে গড়ে উঠতে পারে সেজন্য রয়েছে চিত্রাংকন এবং সংগীত শিক্ষার বিশেষ ক্লাস রুম। ক্লাসে একঘেয়েমি দূর করে শিক্ষাকে আনন্দমুখর করার জন্য প্রতিমাসেই করা হয় বিশেষ ক্লাস পার্টি।
এছাড়াও শিশু প্রতিভা বিকাশে স্কুলে বিতর্ক প্রতিযোগিতা ,সাধারণ জ্ঞান ও কুইজ প্রতিযোগিতা ,ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে স্টুডেন্টস হোম স্কুল। শিক্ষার্থীদের দেশাত্ববোধ জাগ্রত করার জন্য শ্রদ্ধাভরে পালন করা হয় দেশের প্রতিটি জাতীয় দিবস। প্রায় অর্ধ যুগের পথচলায় এসেছে বেশ কিছু সাফল্য। পাবলিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের পাশাপাশি বৃত্তি পরীক্ষায় ও সুনামের সাথে বিদ্যালয়ের মুখ উজ্জল করেছে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শুধু লেখাপড়াই নয় সংগীত এবং চিত্রাঙ্কনে ও জেলা ,বিভাগীয় এবং জাতীয় পর্যায়ে ও সাফল্যে পেয়েছে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
শিশু কিশোরদের আদর্শ মানুষ হিসাবে তৈরি করতে বেসরকারি ভাবেও যে ভালো কাজ করা যায় তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে মাথা উচু করে দাড়িয়ে আছে স্টুডেন্টস হোম স্কুল। ছোট্ট পরিসরে আদর্শ শিক্ষাঙ্গনের সকল উপকরণ এ পরিপূর্ণ বিদ্যালয়টি নি:সন্দেহে শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। স্বল্প খরচে হাতের কাছে এত গুনগত মান সম্পম্ন সেবা অনেকের কাছেই স্বপ্ন মনে হলেও সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রুপান্তর করেছে স্টুডেন্টস হোম স্কুল। আর তাই জ্ঞান শিখা বিতরন করে স্টুডেন্ট হোম স্কুলের বিজয় নিশান উড়বে অনন্তকাল ধরে এটাই এখন সবার চাওয়া। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল এম ই এইচ মিলন বলেন, আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষার বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের নতুন প্রজন্মের আধুনিক মানব সম্পদে রুপান্তর করার জন্য আধুনিক শিক্ষা প্রযুক্তি ও বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্র্জনের ব্যব¯’া।