২:০ ২ অপরাহ্ণ
খাবার নিয়ে বন্যার্তদের পাশে ছাত্রলীগ সম্পাদক রাহেল সিরাজ
ভারী বর্ষণ, এবং ভারতের মেঘালয়া থেকে নেমে আসা ঢলে বন্যার কবলিত সিলেট। এরইমধ্যে জেলার প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। দুর্গত মানুষ ঘরবাড়ি ছেলে স্বপরিবারে ওঠেছে আশ্রয় কেন্দ্রে।
বন্যায় পানিবন্দি হয়ে দুর্বিপাকে পড়া মানুষের সহায়তায় ব্যক্তি কিংবা সংগঠনের উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা দেওয়া কেবল হাতে গোনা। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলেও দুর্গম এলাকায় দুর্গতদের মধ্যে পৌছাচ্ছে না।
এঅবস্থায় বন্যার্তদের সহায়তায় এগিয়ে গেলেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ। প্রান্তিক পর্যায়ে দুর্গত এলাকায় গিয়ে মানুষের হাতে তুলে দিলেন খাবার সামগ্রি। দুস্থ অসহায়দের খোঁজ নেন এবং তাদের সমস্যার কথা শুনেন।
গত বৃহস্পতিবার (২০ জুন) থেকে জেলা ও উপজেলা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে চষে বেড়াচ্ছেন দুর্গত এলাকা। এদিন (বৃহস্পতিবার) সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ১ ও ২ নং ওয়ার্ডে শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করেন।
এসময় সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেরওয়ান আহমদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ গোয়ালা ছাড়াও উপজেলা ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
একই দিনে জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্গত গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দিরগাও ইউনিয়নে চাল, ডাল, তেল, লবন, চিনি, দুধ, চিড়া, মোমবাতি ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করেন।
এসময় গোয়াইনঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুফিয়ান আহমদসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়নে ৫,৬ ও ৭ নং ওয়ার্ডে চাল, ডাল, তেল, লবন, চিনি, দুধ, চিড়া, মোমবাতি ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করেন রাহেল সিরাজ। এসময় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম স্বাধীনসহ উপজেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বন্যার্তদের সহায়তা প্রদানকালে জেলা
ছাত্রলীগ নেতা দিপু ধর, অমিত জিৎ, সঞ্জয়, মান্নাসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ বলেন, সরকারিভাবে বন্যার্তদের সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে।
তারপরও আমরা ব্যক্তি উদ্যোগে বন্যায় দুর্বিপাকে পড়া মানুষের সহায়তায় এগিয়ে যাচ্ছি। বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বলে দিয়েছি।
পাশাপাশি নিজেও দুর্গত এলাকায় ছুটে যাচ্ছি। তিনি বলেন, বন্যায় দুর্বিপাকে পড়া মানুষজন ঘরবাড়ি ছেড়ে অনেকে আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। সরকারের পাশাপাশি খাদ্য সহায়তা নিয়ে বিত্তবানদেরও এগিয়ে যেতে অনুরোধ জানান তিনি।
সিলেট জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, নগর এলাকার ৪২টি ওয়ার্ড ৫টি পৌরসভাসহ ১৫৩টি ইউনিয়নের ১৩৬টির এক হাজার ৫৫২টি প্লাবিত হয়ে মোট ৪১ লাখ ১১ হাজার ৮৩৫ জনের জনসংখ্যার ১০ লাখ ৪৩ হাজার ১৬১ জন পানিবন্দি হয়েছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোলা ৭১৩টি আশ্রয় কেন্দ্রে ওঠা মানুষের সংখ্যা ২৮ হাজার ৯২৫ জন। সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক হাজার ১৭৫ দশমিক ৫০ টন চাল, জিআর নগদ টাকা ৫৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ১৯ লাখ টাকার শিশু খাদ্য, সমপরিমাণ টাকার গোখাদ্য এবং ৪ হাজার ৭৯৫ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।