৯:৫০ অপরাহ্ণ
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে শিক্ষার্থী বুলবুল হত্যায় জড়িত ৩ আসামীর দায় স্বীকার
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে দায় স্বীকার করেছে বুলবুল হত্যায় জড়িত আটককৃত আসামীরা। বুধবার (২৭ জুলাই) দুপুরে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ এক প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ উত্তরের ডেপুটি কমিশনার আজবাহার আলী শেখ বলেন, গত ২৫/০৭/2০২২ রোজ সোমবার রাত অনুমান ২০:২০ ঘটিকার সময় আমরা সংবাদ পাই যে, শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসের ভিতরে অবস্থিত গাজী কালু টিলার ঢালুতে কে বা কাহারা শাবিপ্রবি'র একজন ছাত্রকে অতর্কিত আঘাত করে গুরুতর আহত করেছে।
আহত ছাত্রকে তার সহপাঠীরা তাৎক্ষনিক হাসপাতালে নিয়ে যায়। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে, আহত শিক্ষার্থী মৃত্যু বরণ করেছেন। শাবিপ্রবি কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনায় জানা যায়, আহত শিক্ষার্থীর পূর্ণাঙ্গ নাম মোঃ বুলবুল আহমদ (২২), পিতা- ওহাৰ মিয়া, গ্রাম-চিনিশপুর নন্দীপাড়া, থানা- নরসিংদী সদর, জেলা- নরসিংদী। উক্ত শিক্ষার্থী বুলবুল আহমদ লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে ভিকটিম মৃত বুলবুল আহমদ এর সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেন এবং লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়। পরবর্তী উক্ত ঘটনায় শাবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাতনামা একাধিক দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করলে জালালাবাদ থানার মামলা নং-২৮/১৭৯, তারিখ- ২৬/০৭/২০২২ইং ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০, রুজু করা হয়। দায়েরকৃত মামলার ভিত্তিতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনার বিষয়ে প্রকাশ্য ও গোপনীয় তদন্ত ও আসামী গ্রেফতার অভিযান শুরু করে এবং ঘটনাস্থলের আশপাশ এলাকা হতে ঘটনায় জড়িত মর্মে সন্দেহভাজন ৩ জন ব্যক্তিকে আটক করে। আটককৃত ৩ জন ব্যক্তিদের আলাদা আলাদাভাবে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আটককৃত ব্যক্তি মোঃ আবুল হোসেন। (১৯), পিতা- মোঃ আনিছ আলী, মাতা- শিরিনা বেগম, সাং-টিলারগাঁও, থানা- এয়ারপোর্ট, সিলেট ঘটনার জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। আটককৃত আবুল হোসেন এর জবানবন্দীর ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত আরও ০২ জন আসামী ১। কামরুল আহমদ (২৯), পিতা- মোঃ গোলাব আহমদ, মাতা- মোছা: সুফিয়া বেগম, ২ মোঃ হাসান (১৯), পিতা- মৃত তছির আলী, মাতা- মৃত আরিজা বেগম, উভয়সাং- টিলার গাও, থানা এয়ারপোর্ট, জেলা সিলেটদ্বয়কে গ্রেফতার করা হয়। উক্ত আসামীদ্বয়কে গ্রেফতার করার পর ঘটনার বিষয়ে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা উভয়ে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামী কামরুলকে আরো ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনায় ব্যবহৃত ছুরি ও ভিকটিম বুলবুল আহমদ এর নিকট থেকে ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন তার হেফাজতে অর্থ্যাৎ তার বাসায় আছে বলে জানায়। তাৎক্ষণিক আমরা উক্ত আসামী কামরুলসহ তার বসতবাড়ীতে যাই এবং আসামী কামরুল উপস্থিত সাক্ষী এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সামনে তার নিজ হাতে বসত ঘরের সিলিং এর পশ্চিম দিক হতে ভিকটিম বুলবুল এর নিকট হতে ছিনতাইকৃত OPPO মোবাইল ফোন এবং ঘরের দক্ষিণ দিকের সানসেডের পূর্ব কোণের উপর হতে ঘটনায় ব্যবহৃত ছুরি নিজ হাতে বাহির করে দেয়। তাৎক্ষনিক উক্ত আলামতগুলি সাক্ষীদের উপস্থিতিতে জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আরো বিষাদ তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানান।