১০ :০ ১ অপরাহ্ণ
প্রভোস্টের ‘অনৈতিক’ সুবিধায় হলে থাকছেন সাবেক ছাত্রীরা
হল প্রভোস্টের ‘অনৈতিক’ সুবিধায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলে দীর্ঘদিন ধরে থাকছেন কয়েকজন সাবেক ছাত্রী। শিক্ষাজীবন শেষ হয়ে গেলে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশনা থাকলেও প্রভোস্টের আস্থাভাজন হওয়ায় হলে থাকছেন এসব ছাত্রীরা।
এতে আসন সংকট তৈরীর পাশাপাশি জুনিয়র ছাত্রীরাও সিট পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে মনে করছেন হলের বাইরে থাকা ছাত্রীরা। হলের নীতিমালার ১০ নম্বর ধারায় উল্লেখ রয়েছে, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ সেমিস্টারের পরীক্ষা শেষ হবার ৭ দিনের মধ্যে ছাত্রীরা হলের সমুদয় পাওনা পরিশোধ করে এবং হল পাঠাগারের সকল বই পত্র ফেরত দিয়ে হল ছেড়ে যেতে বাধ্য থাকবেন।
অন্যত্থায় অতিরিক্ত প্রতিদিন হলে অবস্থানের জন্য একশ টাকা হারে জরিমানা দিতে হবে।’ এ নীতিমালা উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে কিছু ছাত্রীকে হলের প্রভোস্ট জোবেদা কনক খান এসব সুবিধা দিয়ে আসছেন বলে জানা গেছে। গত ২৬ মার্চ আবাসিক হলগুলোতে ইফতার বিতরণ করে বিশ্ববদ্যিালয় প্রশাসন।
বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হল অফিসে লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক ছাত্রী সাবিহা সায়মন পুষ্পের হাতে ইফতার তুলে দিচ্ছেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অথচ এ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শেষ হয়ে গেছে বলে বিভাগ সুত্রে জানা গেছে।
এ শিক্ষার্থীর হলে থাকার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রভোস্টের আস্থাভাজন ও বিশেষ ব্যাক্তির তদবিরে এমন সুবিধা পাচ্ছেন তিনি। এছাড়া তিনি ছাড়াও অনেক শিক্ষার্থী এমন সুবিধা নিয়ে হলে থাকছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অনেকের ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যাওয়ার পরও হলে থাকছেন। হলে থেকে চাকরী বা বিদেশে যাওয়ার জন্য পড়াশোনা করছেন।
যার কারণে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা হলে উঠতে পারছেন না।’ নিয়ম বহির্ভূতভাবে হলে থাকার কারণ জানতে চেয়ে সাবিহা সায়মন পুষ্পের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘আমার পারিবারিক সমস্যা থাকায় আমি আমার বিভাগের প্রধানকে বিষয়টি অবগত করি।
পরে তিনি হল প্রভোস্টকে অনুরোধ করেন যেন আমাকে কিছুদিন হলে থাকতে দেয়া হয়।’ তবে বিষয়টি অস্বীকার করে লোক প্রশাসন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ সিদ্দিকী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেকের পারিবারিক সমস্যা থাকে। আমি তার পারিবারিক সমস্যার কারণে হলে থাকার জন্য প্রভোস্টকে অনুরোধ করিনি।
সে আমার অধীনে মনোগ্রাফে কাজ করেছিলো তাই কিছুদিন হলে থাকতে অনুরোধ করেছি। এরপর কাজ শেষে হলের প্রভোস্টকে বিষয়টি অবগত করেছি।
এছাড়া তাদের মাস্টার্সের ফলাফলও ঘোষণা হয়ে গেছে। এ বিষয়ে জানতে হলের প্রভোস্ট জোবেদা কনক খানকে গত তিন দিন ধরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।