বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০ ২৬
রাহাত হাসান মিশকাত,শাবিপ্রবি::
১২ ফেব্রুয়ারী ২০ ২২
২:২০ পূর্বাহ্ণ

উপাচার্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন রাস্ট্রপতি
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) চলমান আন্দোলন নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে টানা ৩ঘন্টা বৈঠক করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি৷ শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সিলেট সার্কিট হাউসে শিক্ষার্থীদের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'শিক্ষার্থীদের সাথে খুবই ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। উপাচার্যের বিষয়ে তিনি বলেন, উপচার্যের বিষয়ে রাস্ট্রপতি সিদ্ধান্ত নিবেন'। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কথা বলতে। সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের সমস্যা সমাধানে আমরা চেষ্টা করছি। আমরা তোমাদের প্রতিনিধি দলের সাথে আলাপ করেছি। তারা নানান যুক্তি ও লিখিত দাবি দিয়েছেন। দাবিগুলো সব যৌক্তিক। তাদের দাবির মধ্যে ছিল, শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষকদের মান উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ ও বাসস্থানের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। উপাচার্যের বিষয়ে রাস্ট্রপতির কাছে অবহিত করবো। উপাচার্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন রাস্ট্রপতি'। তিনি আরো বলেন, 'খুব শিগগির আমরা চেষ্টা করবো ক্লাসের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে। আমরা প্রত্যাশা করবো এ আন্দোলন যেন অসুন্দর না হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার পরিবেশ যেন নষ্ট না আমাদের সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে'। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষা উপমন্ত্রি মহিবুল হাসান চৌধুরি নওফেল, শিক্ষা মন্ত্রানালয়ের অতিরিক্ত সচিব আফতাব উদ্দিন প্রামানি, মঞ্জুরি কমিশনের সচিব ফেরদৌস জামান। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, কার নির্দেশে হামলা হয়েছে সেটি তদন্ত সাপেক্ষ ব্যাপার। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান উপচার্যকে স্বাভাবিক নিয়মে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। আসন্ন বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পূর্বের ন্যায় জৌলুস নিয়ে পালন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং যে ঘটনা ঘটেছে তা খুবই দুঃখজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ঘটনা ঘটেছে তা কোনভাবেই কাম্য নয়। তিনি তার দায় এড়াতে পারেন না। শিক্ষামন্ত্রী এই ঘটনার জন্য উপাচার্যকে দুঃখ প্রকাশ করতে বলেছেন'। রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন বলেন, 'মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বর্তমান উচার্যকে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে'। প্রসঙ্গত, ১৩ জানুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে ছাত্রীরা। পরে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ’ ছাত্রী। এ ঘটনায় ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যার দিকে হলের ছাত্রীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এছাড়া ১৬ জানুয়ারি ছাত্রীরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে ভিসিকে মুক্ত করে। এতে অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হন। এরপর থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। এতে বুধবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা ৩টা থেকে অনশন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এতে শুরুতে ২৪ জন শিক্ষার্থী অনশনে অংশ নেয়। পরে ১ জন পারিবারিক কারণে অনশন থেকে বাড়িতে চলে যায়। এরপর রোববার (২৩ জানুয়ারি) গণঅনশনের অংশ হিসেবে যোগ দিয়েছেন ৫ জন শিক্ষার্থী। এতে মোট ২৮ শিক্ষার্থী অনশন করে আসছিলেন। বুধাবার সে অনশন এর অবসান হয় শিক্ষার্থীদের।
ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ