সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০ ২৬
স্টাফ রিপোর্ট::
১৩ সেপ্টেম্বর ২০ ২৫
৫:৫৮ অপরাহ্ণ

মজুমদারীতে বাসা বিক্রির বায়নামা করে প্রতা'র'ণার আশ্রয় ও উ'চ্ছে'দের হু'ম'কি

সিলেট নগরের মজুমদারী এলাকায় ১৩ দশমিক ৮ ডেসিমেল জায়গা বাসাসহ বিক্রির বায়নামা সম্পাদন করে রেজিস্ট্রি না দিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। উল্টো ক্রেতাদের জোরপূর্বক উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছেন বিক্রেতা পক্ষ। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন, মজুমদারী ১৬২/২ এলাকার দেওয়ান মাহবুব রাজা চৌধুরীর ছেলে দেওয়ান মোস্তাক রাজা চৌধুরী এবং একই বাসার মালিক হাজী আশরাফ হোসেনের ছেলে মো. মুহিতুর রহমান ও মুজিবুর রহমান।

লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, দেওয়ান মোস্তাক রাজা চৌধুরী। তিনি জানান, আম্বরখানা মৌজায় ৯২ জেএল এর ১৫০ খতিয়ানে ৫১৮ দাগের এই জায়গার খরিদসূত্রে মালিক সৈয়দ মহিউদ্দিন আহমেদ। জায়গার ওপর একটি টিনশেড ও একতলা দালান রয়েছে। তার ভাগ্নে জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর গোয়ালগাঁও সৈয়দপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে ফজলুর রহমান বাড়িটি দেখাশোনা করতেন। সৈয়দ মহিউদ্দিন ভাগ্নে মো. ফজলুর রহমানকে বাড়িটি দেখাশোনার জন্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেন।

তিনি জায়গাটি বিক্রির জন্য প্রচার করলে ২০২০ ও ২০২২ সালে আমরা দুই পক্ষ কেনার আগ্রহ প্রকাশ করি। তিনি আরও জানান, ৭০ লাখ টাকা দামে ১৩ দশমিক ৮ ডেসিমেল জায়গার অর্ধেক দেওয়ান মোস্তাক রাজা চৌধুরী এবং বাকি অর্ধেক মো. মুহিতুর রহমান ও মুজিবুর রহমান কেনার জন্য সাব্যস্ত করেন। পরে, ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা সমঝে নিয়ে ফজলুর রহমান ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এবং ২০২২ সালের ১৩ মার্চ দুই পক্ষকে বাসাটির দখল বোঝিয়ে দেন। পৃথকভাবে চৌহাদ্দা অনুযায়ী দখল সমঝে পেয়ে তারা নিজ নিজ নামে বাসাটি ভোগদখল ও রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছেন। এরই মধ্যে দুই পক্ষ প্রায় চল্লিশ লাখ টাকা খরচ করে পৃথকভাবে ভবনের উন্নয়নের কাজ করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান।

কিন্তু পাওয়ার দাতা মৃত্যুবরণ করায় বিপত্তি বাধে। সংবাদ সম্মেলনে দেওয়ান মোস্তাক রাজা বলেন, ফজলুর রহমান আলাপ-আলোচনা করে সাফ কাবালা দলিল প্রস্তুত করার জন্য বলেন এবং সৈয়দ মহিউদ্দিনের ওয়ারিশগণ ইংল্যান্ড থেকে দেশে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা জানান। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি তা না করে বাসাবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার হুমকি দেন। গত ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট তারা বাসায় হামলা করেন।

এমনকি ০১৭৫৭-১৮৯৩৩০ নম্বর থেকে র‌্যাব পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি এবং বাসা-বাড়ি ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, ফজলুর রহমান ও তার সহযোগী রুহুল আমিন তাদের সন্ত্রাসী লোকজন দিয়ে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে দেওয়ান মোস্তাক রাজা চৌধুরী, মো. মুহিতুর রহমান ও মুজিবুর রহমান বাদী হয়ে সিলেটের সিনিয়র সহকারী জজ সদর আদালতে স্বত্ব মামলা দায়ের করেছেন।

এতে সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানার সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউপির সৈয়দপুর গ্রামে মৃত সৈয়দ মহিউদ্দিন আহমেদের ছেলে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত দিলোয়ার আহমেদ, তার ছেলে সৈয়দ এমরান আহমেদ, তার মেয়ে সৈয়দ দিলশাদ আহমেদ, সৈয়দ শাহনুর আহমেদ, সৈয়দা তসলিমা বেগম, সৈয়দা নাছিমা বেগম, মোছা: সৈয়দা শাবনমা বেগম শায়লা, সৈয়দা ফাতেমা বেগম, সৈয়দা তাসমিনা বেগম, রীনা আহমেদ, শারজিনা আহমেদ এবং আরজিনা আহমেদকে আসামি করা হয়েছে। আদালত আসামিদেরকে নিজ নিজ নামে দলিল রেজিষ্ট্রারি করে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।

একইসঙ্গে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বাসা থেকে বাদীদের উচ্ছেদ না করার জন্য এবং বাদীর শান্তিপূর্ণ ভোগদখলে বাধা সৃষ্টি না করার জন্য অস্থায়ী অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন। বিমানবন্দর থানা পুলিশ গত ৪ জুলাই ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় আসামিদের নামে নোটিস প্রদান করে এবং এই ১৩ ডিসিমেল ৮ ভূমিতে স্থিতাবস্থা জারি করা হয়। বর্তমানে মামলাটি চলমান রয়েছে। দেওয়ান মোস্তাক রাজা চৌধুরী ও অপর বাদীগণ এই বিষয়ে প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ