বুধবার, এপ্রিল ২১, ২০ ২১
ডেস্ক নিউজ ::
২৪ মার্চ ২০ ২১
১১:৪২ পূর্বাহ্ণ

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে অবহেলা নয় সচেতনতাই জরুরী: আব্দুল খালিক

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ওয়েব শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। প্রথম দিকে এই ভাইরাস নিয়ে মানুষ যতটানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ছিল, ধীরে ধীরে তা শিতিল হতে শুরু করে। লোকডাউন তোলার সাথে সাথে মানুষ হাট-বাজারে হুমড়ি খেয়ে নামে। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানাদি ঢালাওভাবে পালন করা হয়। শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন রকম ইভেন্ট। মানা হয়নি কোনো স্বাস্থ্যবিধি।

এমনকি দ্বিতীয় ওয়েবে করোনা শুরু হলেও অবস্থা ঠিক আগের মতই থেকে যায়। মানুষ অবহেলার ছলে করোনাকে পাত্তা দিতে নারাজ। মুখে মাস্ক নেই, স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। যে যেভাবে পারছে চলাফেরা করছে। হাত মিলানো থেকে বুক মিলানো সবই চলছে। এ যেনো সুস্থ পরিবেশে স্বস্তির চলাফেরা।

এদিকে করোনার সংক্রমণের প্রকোপ দিন দিন বেড়ে যাওয়াতে নড়েচড়ে বসে সরকার। কঠোর হতে বলা হয় প্রশাসনকে। কিন্তু তেমন কঠোরতা চোখে না পড়লেও গত দুই/তিন দিন থেকে পুলিশোর উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাস্ক বিতরণ করা হচ্ছে। জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এটি অবশ্যই আরও আগে করা উচিত ছিল। ফ্রিতে মাস্ক বিতরণ করলেও মাস্কবিহীন জনতাকে কোনো আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না। ঢিলেঢালা কর্মসূচিতে সচেতনা চালাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। মাঝে মাঝে সারা দেশের ন্যায় সিলেটের দুই-একটি জায়গায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলেও বেশিরভাগ সময় সিলেট মহানগরসহ গুরুত্ব হাট-বাজার রয়েছে অভিযানের আওতামুক্ত। ফলে দিন দিন করোনা সংক্রমণ আরও বৃদ্ধির পাওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছেন তিন হাজার ৫৫৪ জন। এর আগে সর্বশেষ গত ১৫ জুলাই একদিনে শনাক্ত ছিল তিন হাজার ৫৩৩ জন। এরপর গত আট মাসে একদিনে সাড়ে তিন হাজার অতিক্রম করেনি করোনা শনাক্ত।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে তিন হাজার ৫৫৪ জন এবং মারা গেছেন ১৮ জন। দেশে এখন পর্যন্ত শনাক্ত পাঁচ লাখ ৭৭ হাজার ২৪১ জন। সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন আট হাজার ৭৩৮ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয় ২৬ হাজার ৩৫৭টি। অ্যান্টিজেন টেস্টসহ নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৫ হাজার ৯৫৪টি। এখন পর্যন্ত ৪৪ লাখ ৬০ হাজার ১৮৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৮৩৫ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ পাঁচ লাখ ২৫ হাজার ৯৯৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর আরও জানায়, শনাক্ত বিবেচনায় গত ২৪ ঘণ্টায় প্রতি ১০০ নমুনায় ১৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং এখন পর্যন্ত ১২ দশমিক ৯৪ শতাংশ শনাক্ত হয়েছে। শনাক্ত বিবেচনায় প্রতি ১০০ জনে সুস্থ হয়েছে ৯১ দশমিক ১২ শতাংশ এবং মারা গেছের ১ দশমিক ৫১ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ এবং নারী ছয় জন। এখন পর্যন্ত পুরুষ ছয় হাজার ৬০৭ জন এবং নারী মৃত্যুবরণ করেছেন দুই হাজার ১৩১ জন।

বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায় যায়, ৬০ বছরের ওপর ১০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ছয় জন এবং ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে দুই জন মারা গেছেন। বিভাগ বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন ১৪ জন, চট্টগ্রামে তিন জন এবং রংপুরে একজন। ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন ১৭ জন এবং একজন বাড়িতে মারা গেছেন।

এদিকে মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সুলতানা রাজিয়া স্বাক্ষরিত কোভিড-১৯ কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশনের দৈনিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮৫ জনের দেহে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে বিভাগে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৮৫০ জন। এদের মধ্যে গত একদিনে বিভাগে নতুন করে ৯ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। যা নিয়ে সিলেটে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৯২৮ জন।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে আরও শনাক্ত হওয়া ৮৫ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর ৭১ জনই সিলেট জেলার বাসিন্দা। এদিকে বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলায় ২ জন ও হবিগঞ্জ জেলায় আরও ২ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১০ জনের শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। যা নিয়ে সিলেট বিভাগে মোট করোনা প্রমাণিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ১৬ হাজার ৮৫০ জনে। যাদের মধ্যে সিলেট জেলায় ১০ হাজার ২৮৯ জন, সুনামগঞ্জে ২ হাজার ৫৭১ জন, হবিগঞ্জ জেলায় ২ হাজার ২৪ জন ও মৌলভীবাজারে ১ হাজার ৯৬৬ জন।

একইদিনে সিলেট বিভাগে নতুন করে আরও ৯ জন করোনা আক্রান্ত রোগী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন, যাদের সকলেই সিলেট জেলার বাসিন্দা। এর মধ্য দিয়ে বিভাগে করোনা থেকে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৯২৮ জন। যাদের মধ্যে সিলেট জেলায় ৯ হাজার ৮০৩ জন, সুনামগঞ্জে ২ হাজার ৫২৯ জন, হবিগঞ্জ জেলায় ১ হাজার ৬৮৪ জন ও মৌলভীবাজারে ১ হাজার ৯১২ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় অফিস সূত্র মতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যাননি। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত সিলেট বিভাগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৮১ জন। এরমধ্যে সিলেট জেলার ২১৮ জন, সুনামগঞ্জে ২৬ জন, হবিগঞ্জে ১৬ জন এবং মৌলভীবাজারের ২২ জন। এদিকে সিলেটের চার জেলা মিলে ৪৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। যাদের ৪৩ জনই সিলেট জ্লোর বিভিন্ন হাসপাতালে ও একজন সুনামগঞ্জে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া গত চব্বিশ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে ২০১ জনকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। যাদের সকলেই সিলেট জেলার।

কথা হচ্ছে, দ্বিতীয় ওয়েবে করোনা শুরুর পর থেকে ধরণ পাল্টাতে ভাইরাসটি। কোনো উপসর্গ ছাড়াই বাসা বাঁধতে শুরু করে মানবদেহে। একদম সুস্থ ব্যক্তিটির শরীরেও এই ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। সুতরাং, শুধুমাত্র উপসর্গের অপেক্ষায় থাকলে চলবে না। সুস্থ থাকতেই সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে।

একটি কথা বলে রাখা ভালো যে, সরকার করোনা প্রতিরোধ যারপর নাই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিনের আমদানি করা হয়েছে এবং তা স্তরবেঁধে প্রয়োগ করা হচ্ছে। টিকাদান দানকালে অনেকেই সরকারের সমালোচনা করেছেন। বলেছেন, টিকা দিয়ে করোনাকে আটকানো যাবে না। সিলেটে এই সমালোচনায় জোর দেয় সাংসদ মাহমুদ উস সামাদের মৃত্যু। তিনি করোনার টিকা গ্রহণের এক মাসের মাথায় আবারও করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেন।

ইতিপূর্বে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) সাংসদ ও বিরোধীদলীয় হুইপ পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ ও তাঁর স্ত্রী মাশকুরা হোসাইন দীনার করোনা শনাক্ত হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে তারা করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার খবর জানতে পারেন । অন্যটি কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএসের লাইন ডিরেক্টর মিজানুর রহমান ও ডিজির ব্যক্তিগত সহকারীরও (পিএস) করোনা শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্যের ডিজি ছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চার থেকে পাঁচজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তারা ফ্রন্ট-লাইনার হিসেবে নিশ্চয়ই টিকা নিয়েছেন এবং তারপরও আক্রান্ত হয়েছেন। অথচ, তারা এর আগে করোনা টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন। অবশ্যই স্বাস্থ্যমন্ত্রী এর আগে এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন যে, করোনা টিকার প্রথম ডোজ নিয়েই কেউ করোনার আশঙ্কামুক্ত বলতে পারেন না। কারণ, দ্বিতীয় ডোজ না নেওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত কেউ ঝুঁকিমুক্ত নয়।

সুতরাং, শুধুমাত্র টিকা গ্রহণ আর এন্টিবডির দিকে চেয়ে থাকলে আমাদের চলবে না। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে আমাদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে। সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। সেই সাথে নিজে থেকে উদ্যোগী হয়ে নিজেদের কর্মস্থলে নো মাস্ক নো এন্ট্রি বা নো মাস্ক নো সার্ভিস ব্যবস্থা চালু করতে হবে। হাত মেলানো ও লোক সমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। স্বাস্থ্যবিধির উপর জোর দিতে হবে এবং ঘর থেকে বের হলে মুখে মাস্ক পরিধান করতে হবে। নিজেরা সচেতন হলে ইনশাআল্লাহ করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধ সম্ভব।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ