মঙ্গলবার, এপ্রিল ২১, ২০ ২৬
এস এ শফি::
১ এপ্রিল ২০ ২৪
১:০ ৬ পূর্বাহ্ণ

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন :
ঈদ-রোজা কাজে লাগিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন সিলেটের সম্ভাব্য প্রার্থীরা

  আগামী ৮ মে থেকে ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের এ খবরে এরই মধ্যে মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন সিলেটের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে ইফতার পার্টি করতে নিষেধ করলেও তৃণমূলে চলছে দেদারসে।

রমজান মাস ও ঈদ সামনে রেখে এলাকায় নেতাদের পদচারণায় জমে উঠেছে উপজেলাকেন্দ্রিক রাজনীতি। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা এখন অংশ নিচ্ছেন সব অনুষ্ঠানে। প্রতিদিন সকালে বাজারে বাজারে চলছে গণসংযোগ।

বিকেলে যাচ্ছেন বিভিন্ন সংগঠন-গোষ্ঠীর ইফতার মাহফিলে। এভাবেই সময় কাটছে প্রার্থীদের। অনেকে পুরো রমজান এমনকি ঈদ পর্যন্ত এলাকার কার্যক্রম ঘিরে ছক এঁকেছেন। ইফতার সামগ্রী বিতরণ, ঈদসামগ্রী বিতরণ, রমজান ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়সহ নানান উপলক্ষে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

সবমিলিয়ে ভোটের আগের এই উৎসবকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে চান প্রার্থীরা। একটু সুযোগ বা সময় হাতছাড়া করতেও নারাজ। সিলেট জেলার পাশ্ববর্তী জনপদ দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করতে এলাকায় চষে বেড়াচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমদ সকাল-বিকাল বিভিন্ন বাজারে গণসংযোগ করছেন, যাচ্ছেন মসজিদ-মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

   মসজিদে নামাজ শেষে গোল হয়ে বৈঠক করছেন, আবার বাড়ি-বাড়ি গিয়ে উঠান বৈঠকেও যোগ দিতে দেখা যাচ্ছে। আলাপকালে জুয়েল আহমদ বলেন, ‘পুরনো বৃত্ত থেকে বেরিয়ে জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে আমি মাঠে নেমেছি।

মানুষকে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনে সচেতন করছি। পাশাপাশি নির্বাচনে অংশ নেব, সেজন্য দোয়া চাইছি। আমি চাই মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করুক।

  এ উপজেলা পরিষদে জুয়েল আহমদ  ছাড়াও গণসংযোগ করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামীম আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক বদরুল ইসলাম, সাবেক চেয়ারম্যান মঈনুল ইসলাম, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা সুলাইমান হোসেন, প্রবাসী কমিউনিটি নেতা আব্দুস সামাদ।

বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক  চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরী ও সক্রিয় নিজ এলাকায়। নিজ সাম্রাজ্য দখলে রাখতে ইউনিয়নে ইউনিয়নে ইফতার, গ্রামগঞ্জে মতবিনিময় সভা, কুলখানি-মিলাদ মাহফিলে অংশ নিচ্ছেন।

যোগ দিচ্ছেন ওয়াজ মাহফিলে, মন্দিরে সম্প্রীতি সম্মিলন, বাড়ি-বাড়ি উঠান বৈঠক এবং হাটবাজারে গণসংযোগ করছেন দেদারসে।  সুহেল আহমদ চৌধুরী বলেন, আমার বাবা এ এলাকার চেয়ারম্যান ছিলেন।

বাবার দেখানো পথেই উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করছি। মানুষের সুখ-দুঃখ শুনছি, সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। বিগত দিনের কাজের মূল্যায়ন করে জনগন আমাকে তারা ফের নির্বাচিত করবেন। সুহেল আহমদ চৌধুরী ছাড়া ও আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতার করতে মাঠে সক্রিয় আছেন বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম নুনু মিয়া, খাজাঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রবাসী কমিউনিটি নেতা সমশাদুর রহমান রাহিন, জেলা পরিষদ সদস্য এডভোকেট গিয়াস উদ্দিন।

বালাগন্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করতে মাঠে আছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বোয়ালজুড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনহার মিয়া, উপজেলার বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান শামস উদ্দিন শামস, প্রবাসী কমিউনিটি নেতা শেখ নুরুল ইসলাম জিতু।  

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল এমপি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল। দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ও তার নেতারা সবসময় মানুষের পাশে থাকে। রমজান শেষে উপজেলা নির্বাচন হওয়ায় প্রার্থীদের জন্য হয়তো একটা সুযোগ হয়েছে আরও বেশি মানুষের কাছে যাওয়ার। সে সুযোগটাই তারা কাজে লাগাচ্ছেন, এটা ইতিবাচক। গ্রামীণ রাজনীতির পাশপাশি অর্থনীতিও সচল এবং সক্রিয় হবে।’এর মাধ্যমে একটা উৎসব মুখর নির্বাচন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ