রবিবার, জুলাই ৩, ২০ ২২
রাহাত হাসান মিশকাত-শাবিপ্রবি::
২১ জুন ২০ ২২
৭:১১ অপরাহ্ণ

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে শাবিপ্রবির বিভিন্ন সংগঠন-শিক্ষক-শিক্ষার্থী

বন্যায় তলিয়ে যাওয়া ঘরবাড়ি ছেড়ে মানুষ ছুটছে শহরের দিকে। যে সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব, তা সঙ্গে নিয়েছে তারা। সেদিন ভার্সিটি গেইটে দাঁড়িয়ে দেখছি মানুষ বৃষ্টির মাঝে গরু এবং হাতে কিছু জিনিসপত্র নিয়ে ছুটছে শহরের দিকে। জিজ্ঞেস করতেই বলে, 'সব ডুবে গেছে।'

এমনই এক করুণ দৃশ্যের কথা বর্ণনা করছিল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সর্দার ইমাম। ইমামের মতো সিলেটে অবস্থিত সব শিক্ষার্থী এবারে বন্যার ভয়াবহতা দেখেছে। প্রথম ধাপে বন্যায় সিলেট সুনামগঞ্জের অনেক এলাকায় পানি ঢুবলেও শাবি ক্যাম্পাসে বন্যার কোনো প্রভাব পড়েনি।


কিন্তু এবার বন্যায় শাবি ক্যাম্পাসের প্রায় কোমরের কাছাকাছি পানি উঠে যায়। এই পানিতে ক্যাম্পাসের দুটি ছাত্রী হলের ছাত্রীরা পানি বন্দী হয়ে পড়লে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ছাত্রলীগ, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং পরবর্তীতে বিজিবি সদস্যরা শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে। শাবির বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইমন হোসাইন শাওন বলেন, গতকাল সকালে ক্যাম্পাসে দেখি চারপাশে পানিতে থইথই। এই পানি দিয়েই যেন মাপতে পারছি বন্যা কবলিত মানুষের কষ্টের পরিমাণ। এমন পরিস্থিতিতে আমি ঘরে বসে থাকতে পারিনি। আমরা মানুষের কষ্ট লাগব করার জন্য স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছি। যে কেউ আমাকে ডাকলে আমরা মানুষ হিসেবে আগে তার পাশে দাঁড়ায়। কখনো নারী ও বাচ্চাদের নিয়ে রিকশা করে নিরাপদ স্থানের জন্য ছুটেছি। আবার কখনো খাবার পানি, শুকনো খাবার ও স্যালাইন নিয়ে মানুষের কাছে গেছি। শাওন আরও বলেন, আমার মতো অনেক শাবি শিক্ষার্থী সারাদিন ভিজে ভিজে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী টিমের সঙ্গে সিলেটের শামীমাবাদ, বাধাঘাট, ঘাসিটুলার কাজ করছে।

সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনাসহ বন্যা কবলিত অঞ্চলের অনেক শাবি শিক্ষার্থী সিলেটে অবস্থান করছে। সুনামগঞ্জের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী বিভাষ দেবনাথের বলেন, 'পানি নেমে যাবে কিন্তু পুনর্বাসনে আমাদের কষ্টটা থেকে যাবে। এখন আমাদের এলাকায় ত্রাণ আর সহযোগিতা প্রয়োজন।' অন্যদিকে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও অর্থ সংগ্রহের জন্য কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংগঠনগুলো।

ইতিমধ্যে শিক্ষার্থীদের আঞ্চলিক সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগে অনেকেই শুকনো খাবার, স্যালাইন ও পানি বিতরণ করছে। শাবির স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'কিন'র সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবা মোস্তফা সৌরভী জানান, সিলেট এবং সুনামগঞ্জ অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি এ যাবত কালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারন করেছে।

এ জায়গাগুলোতে তাৎক্ষণিক সাহায্যের প্রয়োজন। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কিন এর প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২১তারিখ থেকে আমরা সুনামগঞ্জে দুইদিন অবস্থান করব। এই দুইদিনে চার বেলা ক্ষতিগ্রস্ত বন্যার্ত মানুষদের রান্না করে খাওয়ানো হবে। প্রতিবেলায় মোট ১ হাজার জন মানুষকে রান্না করে খাওয়ানো হবে। এর পাশাপাশি বানভাসি ৫০০ টি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হবে। 'ট্যুরিস্ট ক্লাব সাস্ট'এর সহ সাধারণ সম্পাদক রাকিব জানান, তাদের সহযোগিতায় 'Care 4 Poor's' এর সৌজন্যে বন্যাদুর্গতদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরন করা হয়। ট্যুরিস্ট ক্লাব সাস্ট এর এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।

এছাড়াও শাবির বিভিন্ন সংগঠন, শিক্ষক সমিতি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করছে। অঅর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতিহা নুসরাত বলেন,বন্যায় ঘরবাড়ি হারানো কিংবা পানি বন্দী হয়ে থাকা মানুষের এখন পিরিয়ড প্রোডাক্ট বা পরিষ্কার শুকনো কাপড় পাওয়াই দুষ্কর। এমতাবস্থায় সেসব স্থানে নারীদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, এমনকি যথাযথ স্যানিটেশনের অভাবে তারা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তাদের ভোগান্তি কমাতে ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রীর সাথে পর্যাপ্ত স্যানিটারি পণ্য নেয়ার আহ্বান জানান।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ