রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০ ২১
এস ডি সুব্রত
৮ আগস্ট ২০ ২১
১০ :২৩ অপরাহ্ণ

নাগাসাকির বিভীষিকাময় দিন: এস ডি সুব্রত
কোন শান্তিপ্রিয় মানুষেরই যুদ্ধ কাম্য নয় । তবু যুগে যুগে যুদ্ধ চলে আসছে । প্রাচীন কালেও যুদ্ধ ছিল ।তখন অস্ত্র ছিল তীর ,ধনুক ,বর্শা ও তলোয়ার। সভ্যতার উৎকর্ষতার সাথে সাথে যুদ্ধের ধরন পাল্টেছে । নিজে বাঁচার জন্য ,অন্যকে ঘায়েল করার জন্য কিংবা আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হচ্ছে। তেমনি একটি ভয়ঙ্কর যুদ্ধ হচ্ছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার বৃহৎ পরিসরের কারণ হিসেবে এডলফ হিটলার ও নাৎসি পার্টির জার্মানির রাজনৈতিক অধিগ্রহন এবং ক্ষুদ্র পরিসরের কারন গুলোর মধ্যে একটি ছিল জাপান সাম্রাজ্যের ১৯৩০ এর দশকে চীন প্রজাতন্ত্রে আক্রমন ‌। মিত্র শক্তি জার্মান ও জাপানের সাম্রাজ্য বাদী আগ্রাসনকে যুদ্ধের কারন বলে দাবি করে । হিটলার পোল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় সীমানায় ডানজিগ অঞ্চলে যোগাযোগের জন্য পোলিশ করিডর দাবি করলে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড বিরোধীতার হুমকি দেয় । জার্মান এই হুমকি অগ্রাহ্য করে পোল্যান্ড আক্রমন করলে শূরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ । কোন কোন মতে , ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেও জাপান এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকলে আমেরিকা জাপানকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানায় । জাপান এ আহ্বান অগ্রাহ্য করলে আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানের নির্দেশে আমেরিকা জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় । এ যুদ্ধে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহরে বোমার যে ধ্বংসযজ্ঞ তা ভুলে যাবার নয় । নাগাসাকি শহরে বোমা হামলার স্মরণে বিশ্ববাসী আজও ৯ আগস্ট নাগাসাকি দিবস পালন করে । আজ থেকে ৭৬ বছর আগে ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৯ আগস্টে নাগাসাকিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক বোমা হামলা করেছিল ।তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান হিরোশিমা ধ্বংস করে তৃপ্ত হননি । তার নির্দেশে হিরোশিমায় বোমা হামলার ২ দিন পর ৯ আগস্ট বেলা ১২টা ২ মিনিটে বি ২৯ বক্সার বিমানের মাধ্যমে নাগাসাকিতে ফ্যাটম্যন নামের বোমা নিক্ষেপ করে ।ফ্যাটম্যনের ধ্বংস ক্ষমতা লিটলবয়ের চেয়ে কিছুটা কম ছিল । এই শহরের দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার মানুষের মধ্যে সাথে সাথে যারা গেল ৭৪ হাজার মানুষ । একইদিনে মিৎসুবিশি জাহাজ নির্মাণ কারখানা ধ্বংসের জন্য আরেকটি বোমা ফেলা হয়েছিল যে টি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছিল । ফ্যাটম্যনের ওজন ছিল ৪৬৩০ কেজি , দৈর্ঘ্য ১০.৬ ফুট ,পরিধি ছিল ৩৬ ইঞ্চি । তেজস্ক্রিয় পরমানূ প্লুটোনিয়াম ২৩৯ ,।ফ্যাটম্যান বহনকারী বিমানের পাইলট ছিলেন মেজর চার্লস ডব্লু সুইনি । বিস্ফোরণের মাত্রা ছিল ২১ কিলোটন টিএনটি । লক্ষবস্তু ছিল জাপানের নাগাসাকির মিৎসুবিশি স্টীল ও অস্ত্র কারখানা ।পরবর্তীতে এখানে একটি শান্তি উদ্যান নির্মিত হয়েছিল । নাগাসাকির বোমা হামলার ভয়াবহতা ও মৃতদের স্মরনে সারা বিশ্বে প্রতি বছর ৯ আগস্ট নাগাসাকি দিবস পালিত হয় । সামরিক প্রভুত্বের মাধ্যমে সারা বিশ্বে আধিপত্য কায়েমের লক্ষ্যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে থাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র । পারমাণবিক বোমার অধিকারী হওয়ার ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সামরিক ক্ষেত্রে একক আধিপত্য অর্জন করে যুক্তরাষ্ট্র । এতে অন্যান্য দেশ পারমাণবিক বোমা তৈরির প্রতিযোগিতায় নামে । এই প্রতিযোগিতার দৌড়ে রাশিয়া ,ব্রিটৈন , ফ্রান্স, চীন ,ভারত , পাকিস্তান ও উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক বোমার অধিকারী হয় । অঘোষিত ভাবে ইসরাইলও পারমাণবিক বোমার অধিকারী । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পারমাণবিক বোমা তৈরির যে প্রতিযোগিতা শুরু হয় তাতে বিশ্বের শান্তিকামী সাধারণ জনতা আতংকিত হয় । শান্তিপ্রিয় মানুষ বিশ্ব কে পারমাণবিক অস্ত্রের ভয়াবহ ধ্বংস থেকে ফিরিয়ে আনতে আন্দোলন শুরু করে । আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে পারমাণবিক প্রতিযোগিতা বিস্তার রোধে এনটিপি ও সিটিবিটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ‌ কিন্তু সকল দেশের ঐক্য আর আন্তরিকতার অভাবে সে চুক্তি সফলতা লাভ করতে পারেনি । কারো জন্য নিয়মের কঠোরতা আর কারো জন্য শিথিলতার কারনে সফলতা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না । অস্ত্র তৈরির পেছনে হাজার হাজার মিলিয়ন ডলার খরচ না করে বিশ্বব্যাপী বিরাজমান দারিদ্র্য, অশিক্ষা , মরনব্যাধি ও মহামারী নির্মূলে ব্যায় করা হলে সত্যিকারের মানবাধিকার চর্চা হতো এবং বিশ্বে শান্তি বিরাজ করতো । লেখক: কবি ও প্রাবন্ধিক, সুনামগঞ্জ।
ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ