৯:০ ৯ অপরাহ্ণ
সদস্য সংকটে ধুকছে শাবিপ্রবির বিভিন্ন সংগঠন
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও মিউজিক্যাল সংগঠনগুলো সদস্য সংকটে ধুকছে। ক্যাম্পাসের বেশকিছু সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে কথা হলে তারা এমন তথ্যই জানিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ জানান, সম্প্রতি ভিসি বিরোধী আন্দোলন, সিলেটে সংঘটিত বন্যা, ক্যাম্পাসে বুলবুল হত্যাকান্ড, ক্লাস পরীক্ষার তীব্র প্রেশার এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার ফলে নিয়মিত সাংগঠনিক সপ্তাহ পালন করতে পারেনি সংগঠনগুলো।
এর ফলে নতুন সদস্য সংগ্রহ ব্যর্থ হয়েছে তারা। এছাড়া, করোনা মহামারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিবর্তনের কারণে এসব সমস্যার মুখামুখি হচ্ছেন । এর ফলে সংগঠনগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদেরকে। তারা আরো জানান, সম্প্রতি ক্যাম্পাসে সংগঠিত ভিসি বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে নানা ইস্যুতে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে।
ফলে সংগঠনগুলোর নানা সমস্যা সমাধান করতে গড়িমসি করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর ফল ভোগ করতে হচ্ছে প্রতিটা সংগঠনকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্য বিষয়ক সংগঠন 'দিক থিয়েটার' এর সভাপতি আব্দুল বাচিত সাদাফ বলেন, 'প্রতিটি সংগঠনের প্রাণ কর্মী। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীক সংগঠনগুলো বাহিরের সংগঠনগুলো থেকে ভিন্ন। এখানে প্রত্যেকটা সংগঠনের কর্মীরা স্থায়ী হয়ে থাকার সুযোগ নেই।
সর্বোচ্চ ৫ বছর কর্মী হিসেবে সংগঠনের জন্য কাজ করা যায়। এক ব্যাচ চলে যায়, আরেকটা ব্যাচ এসে সেই জায়গা পূরণ করে দেয়। কিন্তু সংগঠন তখনি বাধার মুখে পরে যখন একটা ব্যাচ বের হয়ে যায় কিন্তু নতুন কোনো ব্যাচ থেকে সদস্য সংগ্রহ না করা যায়। সদস্য সংগ্রহ না করার কারণে সংগঠনগুলোর নিজেদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। করোনা দীর্ঘদিন বিরাজ থাকার কারণে কিছু কর্মীর পড়াশোনা শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যান। করোনা বিরাজ থাকায় সংগঠনগুলো সদস্য সংগ্রহ করতে পারেনি।
নতুন ব্যাচ থেকে সদস্য সংগ্রহ করা করতে না পারায় বাধার সম্মুখীন হচ্ছে সংগঠন গুলো।' বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মুহসিন আজিজ খান বলেন, করোনা মহামারির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হলেও তা এখন তেমন চোখে পড়ে না।
যারা নেতৃত্ব দিত, তারা করোনার কারণে তাদের অনুজদের তেমন কিছু শিখিয়ে দিতে পারেনি। যার ধরুন, মাঝখানে একটা শূন্যস্থান তৈরি হয়ে গিয়েছে। তাই আমাদের উচিত, প্রতিটি বিভাগ এবং শারীরিক শিক্ষা বিভাগকে এগিয়ে আসতে হবে। কিভাবে এই সংকট নিরসন করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করতে হবে। বিভিন্ন অনুষ্ঠান কিংবা খেলাধুলার মাধ্যমে একে অপরের মধ্যে সম্পর্কের সৃষ্টি করতে হবে।