শনিবার, অক্টোবর ১, ২০ ২২
আলী ফজল মোহাম্মদ কাওছার :
১৮ আগস্ট ২০ ২২
৯:৫৯ অপরাহ্ণ

ব্যতিক্রমী রাহবার: আলী ফজল মোহাম্মদ কাওছার

সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার ফুলতলী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করা এক ক্ষণজন্মা মনিষী এক ব্যতিক্রমী মানুষ আমাদের রাহবার মুর্শিদুনা আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী।

বিশ্ববরেণ্য বুযুর্গ শামসুল উলামা আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (রহ) ও হাতিম আলী খ্যাত মহান বুযুর্গ আল্লামা আবু ইউসুফ শাহ ইয়াকুব বদরপুরী (রহ) এর কন্যা মহীয়সী নারী খাদিজা খাতুনের কোল আলোকিত করে এই পৃথিবী আসা এই উজ্জ্বল নক্ষত্রের।

তিনি কোন সাধারণ মানুষ নয় তিনি একজন উজ্জ্বল মনীষী তাই তাঁর জীবন প্রকৃতি সাধারণের চেয়ে ব্যতিক্রম। তাঁর ডাক নাম মানিক, তাঁর নামের মতো তাঁর কাজ। নামের মতো তিনি হচ্ছেন আমাদের রত্ন। চাইলে তিনি কোন বিখ্যাত মাদ্রাসার প্রধানের পদ আকড়ে থাকতে পারতেন এই যোগ্যতা ও সামর্থ্য দুটোই আছে।

চাইলে বছরের ২-৪ শত মাহফিলের প্রধান অতিথি হতে পারতেন কিন্তু এসব তাঁর কাছে মূখ্য বিষয় নয়। তিনি আর্তমানবতার খেদমতের পথ বেছে নিয়েছেন। প্রতিকূল অবস্থায়ও প্রায় ৮০ বছর বয়সে অসহায় মানুষের ধারে ধারে ছুটে চলেন, দিন হোক রাত হোক । হাজারের অধিক এতিমের লালন পালন করেন পরম মমতা দিয়ে। এতিম, বিধবা, অসহায় মানুষের পাশে দাড়ান তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তাই তাঁরা তাঁর কাছে খুজে পায় মমতার ঠিকানা, তিনি যে তাদের পরম আশ্রয়স্থল।

তিনি আল্লামা ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী (রহ) এর মতো বিশ্ব নন্দিত মনীষীর যোগ্য উত্তরসূরী বড় ছাহেবজাদা, ফুলতলী সিলসিলার মতো বৃহৎ মার্কাজের মধ্যমণি কিন্তু তাঁর মধ্যে এই নিয়ে কোন আত্নগরিমা নেই। তিনি হাতল ছাড়া কাঠের চেয়ারে বসেন যাতে হেলান দিয়ে আরাম করে বসার সুযোগ নেই। তিনি সাধারণ জীবন যাপন করেন। তাঁর জীবন প্রকৃতি ব্যতিক্রম।

তিনি আমাদের আদর্শের ঠিকানা। তাঁর মাহফিলে বসলে আত্নার খোরাক পায়, পাষাণ মনে ঝড় উঠে। তিনি রাসুল প্রেমে ডুবে থাকা এক আশেকে রাসুল যা কথা শুনলে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। অনেক পীর ছাহেবের মতো মুরিদের সংখ্যা বাড়ানোর দিকে দৃষ্টি নেই, অনেক অনুরোধ করে তাঁর কাছে বায়াত হতে হয়। তিনি যে ব্যতিক্রমী মানুষ, এসবের প্রতি কোন মোহ তিনি লালন করেননা। তিনি একজন বিখ্যাত ক্বারী তাইতো দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাষ্টের মতো বিশুদ্ধ কোরআন শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ মার্কাজের প্রধানের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন নিরলস ভাবে। তিনি একজন শায়খুল হাদীস তাইতো হাদিস শরীফের দারস দেন। সর্বোপরি তিনি ব্যতিক্রম, যারা তাঁকে কাছ থেকে দেখেছেন ভালো বলতে পারবেন। তাঁকে মূল্যায়ন করার যোগ্যতা কিংবা সামর্থ্য কোনটা আমার নেই। আল্লাহ পাক এই মহান বুযুর্গ, ক্ষণজন্মা মনিষী, ব্যাতিক্রমী রাহবারের নেক হায়াত দান করুন। আমাদের মাথার উপর তাঁর ছায়া দীর্ঘায়িত করুন। লেখকঃ চাকুরীজীবি, সিলেট।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ