বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০ ২৬
ড্রীম সিলেট ডেস্ক
২১ জুলাই ২০ ২০
৩:১৬ অপরাহ্ণ

বলিষ্ট নেতৃত্বের কারণে বিএনপির ইতিহাসে এম এ হকের নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে --নজরুল ইসলাম খান
সিলেট জেলা বিএনপির ভার্চুয়াল স্মরণ সভা

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, এম এ হক ছিলেন আপাদমস্তক জাতীয়তাবাদী আদর্শের একজন সজ্জন ব্যক্তিত্ব ও ভাল মানুষ। তার রাজনীতির মূল থিম ছিল জনকল্যান। জীবনে একবার এমপি পদে এবং দুই বার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন। কিন্তু বিজয়ী হতে পারেননি। তবুও এম এ হক মানুষের কাছ থেকে দুরে সরে যান নি। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি আর্ত মানবতার কল্যানে সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক, সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, সুসংগঠিত করেছেন ও সিলেট বিএনপিকে শক্তিশালী করেছেন। কিন্তু বিনিময়ে প্রতিদান চান নি কখনো। তার প্রতিপক্ষকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় এম এ হক কেমন ছিলেন, তারাই জবাব দিবে এমন সজ্জন ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ বর্তমানে হয়না। সুতরাং এম এ হক ছিলেন সিলেট বিএনপির বটবৃক্ষ। তার অভাব পূরন হবার নয়। তবু এম এ হকদের অবদান কখনো ভুলে যাবার নয়। বলিষ্ট নেতৃত্বের কারণে বিএনপির ইতিহাসে এম এ হকের নাম চির স্মরনীয় হয়ে থাকবে।

তিনি আরো বলেন, সিলেট বিএনপির সাহসী কণ্ঠস্বর ইলিয়াস আলী এখনো নিখোঁজ। ইলিয়াস আলীর শুন্যতা আজো সিলেটে পুরন হয়নি। এর মধ্যে এম এ হকের মতো বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের চলে যাওয়া সিলেট বিএনপির জন্য অপুরনীয় ক্ষতি। তবুও এম এ হকের রাজনৈতিক দর্শনকে অনুস্মরণ করে দলকে সুসংগঠিত করতে শহীদ জিয়ার সৈনিকদের অগ্রনী ভুমিকা পালন করতে হবে। করোনা মহামারীতে গোটা বিশ^ আজ স্থবির হয়ে আছে। কিন্তু আমাদের সরকার এত সময় হাতে পেয়েও করোনা মহামারী থেকে জাতিকে রক্ষার জন্য কার্যকর কোন উদ্যোগ নিতে পারেনি। তারা করোনা কালে মানুষের জন্য নির্ধারিত ত্রানের টাকা লুটপাট করেছে। করোনা টেস্টের নামে তারা আজ গোটা দেশে সাহেদ ও সাবরিনাদের মতো প্রতারক তৈরী করছে। এ থেকে জাতিকে মুক্ত করতে সকল ক্ষেত্রে একটা পরিবর্তন আনতে হবে। এজন্য জাতীয়তাবাদী আদর্শের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদেরকে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। 

তিনি মঙ্গলবার বিকেলে বৃহত্তর সিলেটের বর্ষীয়াণ রাজনীতিবিদ ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা আলহাজ¦ এম এ হক স্মরণে সিলেট জেলা বিএনপি আয়োজিত ভার্চুয়াল স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।  জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদারের সভাপতিত্বে ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলী আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল স্মরণ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা: এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা তাহসিনা রুশদীর লুনা, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: সাখাওয়াত হাসান জীবন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন মিলন। ভার্চুয়াল সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও মহানগর সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ সিলেটের সভাপতি ডা: শামীমুর রহমান, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামীম সিদ্দিকী, ড্যাব সিলেট জেলা সভাপতি ডা: নাজমুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফখরুল ইসলাম ফারুক, শাহ জামাল নুরুল হুদা, মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, মরহুম এম এ হকের পুত্র ব্যারিষ্টার রিয়াশাদ আজিম হক, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মামুনুর রশীদ চেয়ারম্যান, আব্দুল আহাদ খান জামাল, আবুল কাশেম ও শামীম আহমদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াহিদ সুহেল, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন নাদিম, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি জাহানারা ইয়াসমিন ও জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা আমেনা বেগম রুমি প্রমূখ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচন এবং দল পুনর্গঠনে সিলেটে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এম এ হককে কাছে থেকে দেখার এবং একাধিকবার এক সাথে বসার সৌভাগ্য হয়েছিল। নেতৃত্বের প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে সিলেটেও দলের কোন্দল ও গ্রুপিং থাকাটা স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু একজন মানুষের সামনে বসলে নিমিষেই সকল বিভেদ ভুলে যেতো তিনি ছিলেন বিএনপির হক। দীর্ঘদিন তিনি বিএনপিকে নেতৃত¦ দিয়েছেন। কিন্তু কোন দিন পদ পদবীর জন্য তদবির করেননি। চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠার দায়িত্বে থেকেই তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। অথচ দলের জন্য তার আত্মত্যাগের কারণে তার স্থান অনেক উপরে থাকার কথা ছিল। জীবনে দুইবার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন। তবে বিজয়ী হতে পারেন নি। কিন্তু পরাজয়ের জন্য কাউকে দোষারুপ করেন নি। এম এ হক সফল এবং সৎ ব্যবসায়ী ছিলেন। ব্যবসা করে আয় রোজগার করে দলের পেছনে খরচ করেছেন। কিন্তু দলকে বিক্রি করেননি। একারনেই এম এ হকের মতো মানুষগুলো বিএনপির অমুল্য সম্পদ। তাদের জীবনী আমাদের জন্য অনুস্মরনীয়। 

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, দল ও সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য রাজনীতিকের নাম এম এ হক। আমি দীর্ঘদিন সিলেট বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলাম। নানা প্রতিকুলতার মাঝেও সিলেটে বিএনপিকে শক্তিশালী করার পেছনে এম এ হকের মত নেতার সীমাহিন অবদান ছিল। সিলেটে সাংগঠনিক কাজ করতে গিয়ে আমি যখন খুব জঠিল সমস্যার সম্মূখীন হয়েছি তখনই দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে একজন হক কে দেখেছি নিমিষেই সমস্যার সমাধান করতে। যেখানে হক সেখানে কোন গ্রুপিং কোন্দল ছিলনা। এম এ হক সাহেবরা শুধু বিএনপির নয় গোটা দেশের সম্পদ। এম এ হকের দেখানো পথে শুধু সিলেট না, গোটা দেশের বিএনপি পরিচালিত হলে সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, আলহাজ¦ এম এ হকের সাথে আমার সম্পর্ক ১২/১৪ বছরের। তবে সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকায় জীবনের শেষ সময়ে সিলেট বিএনপির বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে হক সাহেবের বাসায় একাধিকবার বৈঠকে মিলিত হয়েছিলাম। তিনি ছিলেন মরহুম এম সাইফুর রহমানের পর সিলেটে বিএনপির সর্বস্তরের দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে গ্রহণ যোগ্য ও নির্ভরতার প্রতীক। জীবনের শেষ সময়েও তিনি সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। এমন নেতার শুন্যতা কখনো পূরণ হবার নয়।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এম এ হক শুধু বিএনপি নয়, সিলেটের সকল দল ও মতের মানুষের সবার কাছে ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধার ও ভালোবাসার ব্যক্তিত্ব। যা তার মৃত্যু পরবর্তী সময়ে জানাযা সহ বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে। সিলেট-১ আসনে নির্বাচন করতে গিয়ে এবং সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট হওয়ার পর থেকে এম এ হক বড় ভাই হিসেবে ছায়া দিয়ে আসছিলেন। হক ভাই নেই, সেই কথা মন থেকে এখনো মেনে নিতে পারিনা। 

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা তাহসিনা রুশদী লুনা বলেন, আমার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সময় বেশীদিন হয়নি। তবে এম এ হক সাহেবের সাথে সম্পর্ক ছিল অনেক আগে থেকেই। তবে রাজনীতিতে চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা হওয়ায় একাধিকবার এই বর্ষীয়াণ নেতার সাথে একাধিক বৈঠকে ও অনুষ্ঠানে বসার সুযোগ হয়েছিল। তিনি ছিলেন আপাদমস্তক জাতীয়তাবাদী আদর্শের একজন ভালো মানুষ। 

সভাপতির বক্তব্যে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার বলেন, সেই ১৯৭৭ সাল থেকে এম এ হকের সাথে রাজনীতি করে আসছি। এম এ হকের শুন্যতা কোনদিন পূরণ হবার নয়। সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির সভাপতি হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এম এ হকের দেখানো পথে পরিচালিত হয়ে সিলেটকে বিএনপির দুর্জয় ঘাটিতে পরিনত করতে আমরা বদ্ধ পরিকর।

সভা শেষে মরহুম এম এ হকের মাগফেরাত কামনা করা হয়। এছাড়াও সভায় করোনাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী বিএনপি নেতাকর্মীদের মাগফেরাত কামনা করা হয়। এছাড়াও সভায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মাগফেরাত কামনা, বেগম খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়। সভা থেকে নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী, ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনার, জুনেদ আহমদ ও গাড়ী চালক আনসার আলী সহ গুমকৃত নেতাকর্মীদের সন্ধান কামনা, করোনাক্রান্ত হয়ে অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী এবং অসুস্থ সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র-২ ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাউন্সিলার এডভোকেট রুকশানা বেগম শাহনাজ এবং অসুস্থ জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী সাবেক কাউন্সিলার সালেহা কবির শেপি সহ অসুস্থ সকল দলীয় নেতাকর্মীদের সুস্থতা কামনা করা হয়।
 

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ