১০ :৫৫ অপরাহ্ণ
তিতাসে দুই যুবকে হত্যার চেষ্টা: মামলার প্রধান আসামি হেলাল বাহিনীর লাঠিসোঁটার মহড়া!
কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আল-আমিন (২২) ও আরিফুল(২৭) নামে দুই যুবককে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা মামলার প্রধান আসামি হেলাল বাহিনী লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রকাশ্যে আহত দুই যুবকের গ্রামে মহড়া দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কালাচান্দকান্দি গ্রামের উত্তর পাড়ার আব্দুর রহিম মিয়ার ছেলে শেখ রাসেল সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন,আমার চাচাতো ভাই আহত আল আমিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।অথচ মামলার প্রধান আসামি হেলাল বাহিনী লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রকাশ্যেই মহড়া দিচ্ছে আমাদের উত্তর পাড়ায়।হেলাল বাহিনীর খুঁটির জোর কোথায়?কার ইশারায় হেলাল বাহিনী লাঠিসোঁটা নিয়ে মহড়া দিয়ে আমাদেরকে হুমকি-দামকি দিচ্ছে।
এতে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জীবনযাপন করছি।জানা যায়,আল আমিন ও আরিফুলকে হত্যার চেষ্টার মূলহোতা হেলাল উদ্দিনকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের বিরুদ্ধে গত ০৬/০৮/২০২১ ইং তারিখে তিতাস থানায় একটি মামলা দায়ের করেন আহত আল-আমিনের মামাতো ভাই আরিফুল ইসলাম।দায়েরকৃত মামলার আরিফুল ইসলাম ঘটনার মূলহোতা হেলালসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তিতাস থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন।যাহা তিতাস থানার মামলা নং-৪ তারিখ- ০৬/০৮/২০২১ ইং।বাদির দায়েরকৃত মামলার এজাহার নামনীয় আসামীরা হলেন- উপজেলার কলাকান্দি ইউনিয়নের কালাচন্দকান্দি গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের পুত্র হেলাল উদ্দিন( ৩৫),হেরন মিয়ার পুত্র মো.দিকু (২২),মো.ইরণ মিয়ার পুত্র মো. বশির (২৭), হযরত আলীর পুত্র মোহাম্মদ আলী (৩২),হারুন মিয়ার পুত্র মো. আনোয়ার (৩০), হাড়াইকান্দি গ্রামের আলমগীরের পুত্র খায়রুল (২২),আলমগীরের পুত্র মো. শাওন (২৪),কালাচান্দকান্দি গ্রামের মৃত কালু মিয়ার পুত্র হেরন মিয়া (৫৩),সহদোর ভাই ইরন মিয়া (৫১),ইরন মিয়ার পুত্র রমজান (২১) ও হেরণ মিয়ার পুত্র জাহাঙ্গীর আলম(২৪)সহ অজ্ঞাত নামা আরও ৪/৫ জন।
উল্লেখ্য,গত বুধবার রাত আনুমানিক ৭ টার দিকে আহত আরিফুল ও আল-আমিনসহ ৩০/৪০ জন যুবক পাশ্ববর্তী মুরাদনগর উপজেলার জাহাপুর বটতলী মাঠ থেকে ফুটবল খেলা শেষে পিকআপ যোগে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার কলাকান্দি ইউনিয়নের খানেবাড়ি গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এসে পৌঁছলে কালাচান্দকান্দি গ্রামের জাহাঙ্গীর গংরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আগে থেকে ওৎপেতে থাকা এবং সংঘবদ্ধ দলটি বাদী আরিফুল ও আল-আমিনের গতিরোধ করে ।এ সময় আল-আমিন আত্মরক্ষার জন্য দৌড়ে উত্তর মানিকনগর এরশাদ মিয়ার বাড়িতে পৌঁছলে তারাও পিছু ছুটে এবং ওই খানেই সংঘবদ্ধ দলটি আরিফুল ও আল-আমিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়।দক্ষিণ মানিক নগর গ্রামের মজিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন,আমরা কাউকে চিনিনা,দেখলাম ২০/৩০ জন ছেলে জাহাপুর বটতলী মাঠ থেকে ফুটবল খেলা দেখে পিকআপ ভ্যানে করে খানে বাড়ী গোবিন্দপুর স্কুলের সামনে এসে গাড়িটি থামলে গাড়িতে থাকা সবাই নেমে এদিক সেদিক দৌড়ে চলে যায় ।শুধু দুইজনকে কয়েকজন লোক দৌড়াইয়া উত্তর দিকে নিয়ে যেতে দেখলাম । পরে শুনলাম কালাচান্দকান্দি গ্রামের একজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হাত,পা ভেঙে ফেলছে ও আরিফুল নামে আরেকজন সামান্য আহত হয়েছে।আহত আল-আমিনের বাবা শহিদ মিয়া বলেন,আমার ছেলে আল- আমিন জাহাপুর থেকে ফুটবল খেলা দেখে বাড়ী আসার পথে পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে হেলাল উদ্দিন ও জাহাঙ্গীর গংরা হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে। এ ব্যাপারে তিতাস উপজেলা আ.লীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আ.লীগের সদস্য হাজী মো. নাছির উদ্দিন এক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের জানান,ঘটানাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়।মানুষ আজকাল নির্মম হয়ে গেছে এবং ঘর থেকে বের হলে মুষ্টিমেয় কিছু দুর্বৃত্তদের কারণে মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে। এভাবে চলতে থাকলে সমাজে আরোও বিশৃঙ্খলা ও অশান্তি সৃষ্টি হবে।তাই স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরোও তৎপর ও কঠোর হয়ে এসব দুষ্কৃতিকারীদের আইনের আওতায় এনে আদালতের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।স্থানীয় যুবলীগ নেতা মো.ইব্রাহিম সরকার বলেন, ঘটনার বিষয়টি শুনেছি।পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। যারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে জঘন্য অপরাধ করেছে।আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং ন্যায় বিচার আশা করি।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তিতাস থানার সেকেন্ড অফিসার শ্রী মধুসুদন সরকারের মোবাইল ফোনে মঙ্গলবার সকালে কল করে আসামিদের জামিন হয়েছে কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন,গতকাল সোমবার স্থানীয় চেয়ারম্যান হাবিবুল্লাহ বাহার কল করে আসামিদের জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং থানায় রিকল পাঠিয়ে দিবে বলেছেন।রিপোর্ট পাঠানোর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রী মধুসূদন সরকারের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।