১১:৪৫ অপরাহ্ণ
কবি আবুল বশর আনসারী'র জীবন ও লিখনী নিয়ে আলোচনা সভা
‘বনগাঁওর বশর মিয়া’ খ্যাত কবি আবুল বশর আনসারীর জীবন ও লিখনী নিয়ে আলোচনা সভা ও ফলক উন্মোচন গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার সিলেট- চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশীপ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে কবির পরিবারের পৃষ্টপোষকতায় কবির চৌকিদেখিস্থ জেনেথ কটেজ বাস ভবন প্রাঙ্গনে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক মোঃ শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্ব ও যুগ্ম আহবায়ক উৎফল বড়ুয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান হাসপাতাল’র সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ জহিরুল ইসলাম অচিনপুরি। প্রধান বক্তা ছিলেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’র রেজিস্টার বদরুল ইসলাম শোয়েব, উদ্বোধক ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশন ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম ,বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স লিমইটেড’র সিলেট বিভাগীয় ইনচার্জ মোঃ জায়নুল আলম। কোরান তেলাওয়াত করেন কারী মাওলানা মিনহাজ উদ্দিন।
বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজ সেবক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট- চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশীপ ফাউন্ডেশনের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মোঃ আবুল হোসেন। উপস্থিত ছিলেন সমাজ সেবক আজিজুল হক বাচ্চু, দবির ইসলাম, আজাদুল রহমান পীর, সুরত আলী,আব্দুল কাদিল,শাহ সুন্দর আলী,শামীম আহমেদ,ইফতেকার সোহেল প্রমূখ।
অতিথিরা শুরুতেই কবি আবুল বশর আনসারীর লেখা চৌকিদেখিকে নিয়ে লিখা ফলক উন্মোচন করেন এবং কেক কাটান। বক্তাগন বলেন, ‘কবি আবুল বশর আনসারীর মতো ব্যক্তিদের কাছে জাতি হিসেবে আমরা ঋণী। দেশের জন্ম ও উন্নয়নে তাঁদের অবদান কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করবে বাংলাদেশ। অবিভক্ত ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে ভূমিকা রাখার যে গৌরবোজ্জল সুযোগ পেয়েছেন তিনি, তা অনেকের ভাগ্যেই জুটে না। ত্রিকালদর্শী এই রাজনীতিক সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন।
রাজনীতি, সমাজসেবা, সাহিত্যাঙ্গণ এই তিনটি প্লাট ফর্মেই তিনি ছিলেন সরব।’ ‘দেশের জন্য আবুল বশর আনসারীর অবদানের গল্প আমাদের সন্তানদের কাছে পৌঁছাতে পারলে, এই গল্প অবশ্যই তাদের মধ্যে দেশপ্রেম সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে। আমাদের প্রতিনিধিকে বড় মেয়ে কাউন্সিলার জেনেথ রহমান জানান, হযরত নাসির উদ্দিন সিপাহশালারের (রঃ) মাজারে মায়ের কবরের পাশে শেষ শয্যায় শায়িত হবেন আবুল বশর আনসারী। তাঁর মৃত্যুতে বড় ছেলে আবুল হাসনাত মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনায় সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন। মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকার পর গত ২৭ নভেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার লন্ডন সময় বিকাল পৌনে চারটায় পূর্ব লন্ডনের হ্যাকনী হমারটন হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন আবুল বশর আনসারী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৯২ বছর।
তিনি তিন ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে ‘বন গাঁওর বশর মিয়া’ নামে পরিচিত আবুল বশর আনসারী ১৯২৭ সালের ১লা জানুয়ারী জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার বনগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন ত্রিকালদর্শী রাজনীতিক, কবি ও লেখক। কংগ্রেস, মুসলিম লীগ হয়ে সুনামগঞ্জ আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তাঁর ছিলো বর্নাঢ্য রাজনীতির অতীত।
কিশোর বয়সে অবিভক্ত ভারতে কংগ্রেস কর্মী হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন আবুল বশর আনসারী। আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এই নেতার স্বাধীনতা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে দলীয় এমপি হওয়ার মত যথেষ্ট গৌরবোজ্জল অতীত থাকলেও কোন সময়ই এই পদের জন্য লালায়িত ছিলেন না। প্রয়াত জননেতা আব্দুস সামাদ আজাদ ও জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জের সাবেক এমপি প্রয়াত আব্দুর রইছ অ্যাড. পক্ষেই সব সময় থেকেছেন সরব। ব্রিটেনে বাঙালি কমিউনিটির আজকের যে সুদৃঢ় অবস্থান এর পেছনেও রয়েছে আবুল বশর আনসারীর বিরাট অবদান। আবুল বশর আনসারী তাঁর জ্ঞান পিপাসা মিটাতে শত ব্যস্ততার মাঝেও ৭৪ বছর বয়সে লন্ডন মিডলসেক্স ইউনিভার্সিটি থেকে রাজনীতিতে গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রী লাভ করেন। শুধু রাজনীতিক বা সমাজকর্মীই নন, আনসারী ছিলেন একজন কবি ও লেখক। ক্ষমতা থাকা পর্যস্ত তিনি অবিরাম লিখে গেছেন। তার প্রকাশিত কবিতাসহ অন্যান্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে ‘বিস্তৃত অতীত’, ‘গীতি কাব্য গ্রন্থ ‘এ ধরনী নাট্যশালা’ ও ‘আকাংখা’ অন্যতম। আবুল বশর আনসারী তাঁর জীবনের বিরাট একটি অংশ মানব কল্যাণে ব্যয় করেছেন।
সিলেট অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মানুষকে তিনি ব্রিটেন আসতে সাহায্য করেন। রুটি রুজির তাগিদে ব্রিটেন গমনেচ্ছুক মানুষের কাছে ঐসময় সিলেট এলাকার আরো ক’জনের সাথে তিনি হয়ে উঠেছিলেন কিংবদন্তী। ‘আইলরে লন্ডনী জ্বর, জমিন বাড়ী বিক্রি কর, তাড়াতাড়ি পাসপোর্ট কর, দিন তো গৈয়া যায়, বরইকান্দির চেরাগ মিয়া, সিলেটের গজনবী নাম ছোট মিয়া ছোট মিয়া চানভরাং, সৈয়দপুরের ওসমান আলী সারং ও চাচায়, বনগাঁও’র বশর মিয়া ভালো কাম চালায়। করিমপুরের উস্তার আলী, নাম ধরিয়া যতই বলি শাহারপাড়ার আরেক মিয়ার নামটা কইতামনায়।’ সদ্য প্রয়াত শাহার পাড়ার গীতি কবি তৌরিছ মিয়া কামালী রচিত এই গানটি তখন ব্যাপকভাবে গীত হতো