বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০ ২৬
স্টাফ রির্পোটার::
৩ মার্চ ২০ ২৬
৫:৪০ অপরাহ্ণ

নগরে প্রবাসীর ক্রয়কৃত দোকান দ'খলের অভি'যোগ, প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

সিলেট নগরের আম্বরখানাস্থ সেন্ট্রাল প্লাজা মার্কেটের একটি দোকানকোঠা দখল ও জালিয়াতির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী আমির আহমদ (মানিক)।

মঙ্গলবার ৩ মার্চ সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, তার ক্রয়কৃত দোকানকোঠা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ভগ্নিপতি ও সংশ্লিষ্ট মার্কেটের জমিদার চক্রবদ্ধভাবে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন এবং বর্তমানে তাকে নানা হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে আমির আহমদ বলেন, তার গ্রামের বাড়ি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার হাজরাই গ্রামে। তিনি সিলেট নগরীর আম্বরখানায় অবস্থিত সেন্ট্রাল প্লাজা মার্কেটের সি/১ নং দোকানকোঠা ১৯৯৩ সালে আনিছ মিয়ার কাছ থেকে বৈধ দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন।

ক্রয়ের পর থেকে তিনি দোকানটির বৈধ মালিক ও দখলদার বলে দাবি করেন। পরিবারের সবাই প্রবাসে থাকায় বোনসহ ভগ্নিপতি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার খড়ারিয়া গ্রামের মৃত হারুনুর রশীদের পুত্র মো. আলাউদ্দিন তার বাড়িতে থাকতেন এবং দেশের সম্পদ দেখাশোনা করতেন। এই সূত্রে দোকানটি দেখাশোনার দায়িত্ব তিনি তার ভগ্নিপতি আলাউদ্দিনকে দেন। আলাউদ্দিন সেখানে ‘আজিজ এন্টারপ্রাইজ’ নামে স্টেশনারি ব্যবসা শুরু করেন। আমির আহমদের অভিযোগ, এক পর্যায়ে আলাউদ্দিন তার কাছে হিসাব-নিকাশ দিতে গড়িমসি করেন এবং আচরণে সন্দেহজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ২০০৯ সালে দেশে এসে কাগজপত্র চাইলে তিনি মূল দলিলের পরিবর্তে ফটোকপি দেন এবং পরদিন বাড়ি থেকে দোকানসহ অন্যান্য সম্পত্তির আসল কাগজপত্র নিয়ে চলে যান। পরবর্তীতে জাল দলিলের মাধ্যমে দোকানের মালিকানা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও দাবি করেন, আলাউদ্দিন পরবর্তী জমিদার আব্দুল হাফিজ সুহেলের সহযোগিতায় ভাড়া আদায়ের রসিদে তার নাম পরিবর্তন করে নিজের নামে গ্রহণ করেন। বিষয়টি সামাজিকভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা ব্যর্থ হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করা হলে তাকে ১০ দিন কারাভোগ করতে হয়। পরে আদালতে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে তিনি খালাস পান। ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর তিনি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে কোতোয়ালী মডেল থানায় সদর জিআর ৪৪৩/২৫ নং মামলা দায়ের করা হলে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তারা জামিনে রয়েছেন। আমির আহমদ বলেন, আব্দুল হাফিজ সুহেল ২০১০ সালে তার স্ত্রী রুহিনা বেগমের নামে একটি রেজিস্ট্রি দলিল সম্পাদন করেন এবং ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি তার পক্ষে স্থায়ী ভাড়া বন্দোবস্ত চুক্তিপত্র সম্পাদিত হয়। এরপরও আলাউদ্দিন দোকানটি বুঝিয়ে না দিয়ে জোরপূর্বক দখলে রেখেছেন এবং তাকে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও জানান, সম্প্রতি তার বোনের মাধ্যমে পুলিশ কমিশনার বরাবরে আরেকটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, যেখানে দোকানটি পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করা হয়েছে। তবে এটি তার ক্রয়কৃত সম্পত্তি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সংবাদ সম্মেলনে আমির আহমদ নিজেকে একজন অসহায় প্রবাসী উল্লেখ করে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করায় প্রবাসীদের দুর্ভোগ সম্পর্কে অবগত আছেন। একইসঙ্গে তিনি প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। তার দাবি, একজন বৈধ ক্রেতা হিসেবে যেন তিনি তার দোকানকোঠা ফেরত পান এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ