৪:২১ পূর্বাহ্ণ
হোমনায় ময়ূরের খামার করে স্বাবলম্বী অষ্টম শ্রেণির ছাত্র শাহ আলী
কুমিল্লার হোমনার উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের বাবরকান্দি গ্রামের শাহ আলী ময়ূর খামার করে স্বাবলম্বী।ময়ূর খামারির মালিক শাহ আলী।অষ্টম শ্রেণির পাস করা শাহ আলীর স্বপ্ন ছিল ময়ূর পোষা। কারণ ময়ূরের পেখম তোলা নাচ তাকে মুগ্ধ করে। সে শখের বশে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি পুরুষ ও একটি নারী ময়ূর ক্রয় করেন। পরবর্তী পর্যায় নারী ময়ূরটি ১৮ ডিম ফোটে । এভাবে বাড়তে থাকে ময়ূরের সংখা।
বর্তমানে তার খামারে ২৫ লক্ষ টাকার ৯০ টি ময়ূর আছে। ইতিমধ্যে শাহ আলী ময়ূর বিক্রি করে পান ২৪ লক্ষ টাকা। এখন সে ময়ূর বিক্রি করে স্বাবলম্বী ও অর্ধ কোটি টাকার ময়ূরের খামারির মালিক।শাহ আলী হোমনা উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের বাবরকান্দি গ্রামের আবদুল বারেকের ছেলে । খামারি শাহ আলী বলেন,আমি ঢাকায় মিরপুরে ভাড়া বাসায় থাকতাম ।সেখানে আমার বাবার গরুর খামার ছিল। ছোট বেলা থেকে আমি কিছু পাখি লালন পালন করি। হঠাৎ একদিন পাখি বিক্রি করতে গিয়ে চোখ পড়ে ময়ূরের দিকে।
পরে পাখি বিক্রি করে কিছু টাকা ঋন করে ১ লক্ষ ৬৫ টাকা দিয়ে দুটি ময়ূর কিনি। এ ময়ূর দুটি ১৮ টি ডিম পাড়ে। তা থেকে ১২ টি বাচ্চা ফোটে। কিছু দিন পরে আমি ময়ুরগুলো নিয়ে আমি বাড়িতে চলে আসি। ব্যবসার উদ্দেশ্যে দুটি টিনসিড ঘর তৈরি করে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে আরও পাঁচটি ময়ূর ক্রয় করি। যার মধ্যে ৪ টি নারী ও ১ টি পুরুষ ময়ূর ছিল। পরবর্তীত ৭ টি ময়ূর থেকে মোট ১৪০ টি ডিম পাড়ে। কিন্তু এতে বাচ্চা ফোটে ১২৮ টি। তবে প্রথম দুটি ময়ূরের বয়স বেশি হওয়ায় ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা বিক্রি করে দেই। বর্তম সকলের দোয়ায় আমি ময়ূর খামার করে ভালো আছি।
এজন্য সকলের দোয়া ও ভালোবাসায় আমি ময়ূরের ব্যবসা চালিয়ে যেতে চাই। উপজেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা একেএম বাহারুল ইসলাম বলেন, বনবিভাগ থেকে খামারের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে খবর নিয়েছি এবং বলেছি যত ধরনের সহযোগিতা লাগে তা করব । জেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ মো. নজরুল ইসলাম বলেন,সম্ভবত এটা জেলায় প্রথম ময়ুরের খামার। এটা একটি লাভজনক ব্যবসায়। যে কোন সহযোগিতা লাগলে আমরা করব।