শনিবার, অক্টোবর ১, ২০ ২২
শাবিপ্রবি প্রতিনিধি::
১৯ সেপ্টেম্বর ২০ ২২
৩:১০ অপরাহ্ণ

শাবির ভিসি বিরোধী আন্দোলনকারীদের পদে পদে হয়রানির অভিযোগ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির আন্দোলনে সম্পৃক্তদের পদে পদে হয়রানির অভিযোগ করেছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। ১৬ই জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলার পর শিক্ষার্থীরা উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা।

বর্তমানে উপচার্যের পদত্যাগ দাবির ওই আন্দোলনে সম্পৃক্তদের নানাভাবে হয়রানি ও ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা এই কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের মোহাইমিনুল বাশার রাজ, একই বিভাগের শাহরিয়ার আবেদিন ও সাবরিনা শাহরিন রশিদ, নৃবিজ্ঞান বিভাগের সজল কুন্ডু, পরিসংখ্যান বিভাগের নওরিন জামান, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের হালিমা খানম অংশগ্রহণ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, ক্লাসরুমের ভেতরে এবং বাহিরে যারা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত-সংশ্লিষ্ট, তাদের প্রত্যেককে ধরে ধরে নিষ্পেষণ চালানো হচ্ছে, তাদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে। হুমকি দেওয়া হচ্ছে, ভয় দেখানো হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলন ও আমরণ অনশনের এক পর্যায়ে ঢাকা থেকে মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার এবং ইয়াসমিন হক ম্যাম আমাদের মাঝে আসেন। তারা বলেছিলেন সরকারের উপরমহলের অনুরোধে তারা আন্দোলনস্থলে এসেছেন এবং আমাদের সমস্ত দাবি মেনে নেয়া হবে এমন নিশ্চয়তা তাদের দেওয়া হয়েছে। তাদের কথায় আশ্বস্ত হয়ে দীর্ঘ ১৬৩ ঘন্টা যাবত অনশনরত ২৭ জন শিক্ষার্থী অনশন থেকে সরে আসেন। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল আমাদের সাথে আলোচনার জন্য সিলেটে আসেন।

কিন্তু বর্তমানে আটমাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে গেলেও আমাদের দাবিগুলোর অধিকাংশই এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদের প্রথম এবং প্রধান দাবি ছিল, দ্রুততম সময়ে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে উপাচার্য পদ থেকে অপসারণ করে একজন গবেষণামনা, শিক্ষাবিদ ও অবিতর্কিত ব্যক্তিকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া। মন্ত্রী এই বিষয়ে বলেছিলেন, ভিসির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ আচার্যের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

আচার্য এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু এতদিন পরেও আমরা দেখছি শিক্ষার্থীদের উপর নৃশংস হামলার মূল হোতা ফরিদ উদ্দিন আহমেদ শাবিপ্রবির উপাচার্য পদে বহাল আছেন। সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ১৬ই জানুয়ারির হামলার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সজল কুন্ডুকে অন্তত ৯ম গ্রেডের একটি চাকরি এবং নগদ ক্ষতিপূরণ দেয়ার স্পষ্ট আশ্বাস দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু সজল এখনো শিক্ষামন্ত্রী কর্তৃক প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণ বা চাকরি কোনোটাই পাননি। উল্টো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তিনি যে ক্যাফেটেরিয়াটি চালাতেন সেটিও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

এ অবস্থায় সজল একাই উদ্যোগী হয়ে বর্তমান এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের নামে করা হয়রানি মূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিসমূহ অবিলম্বে বাস্তবায়ন এবং অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া কর্মসংস্থান ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে।

সজল কুন্ডু বলেন, ৭০টার বেশি স্প্লিন্টার আমার শরীরে। প্রশাসন আমার চিকিৎসা সহায়তা করার কথা থাকলেও, কিছুদিন করার পরে আর করেননি। উল্টো আমি যে ক্যাফেটেরিয়া পরিচালনা করতাম তা কেড়ে নিয়েছে। আমার পেটে তারা লাথি মেরেছে। তাছাড়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নানান ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। মিথ্যা মামলা তুলে ফেলার কথা থাকলেও এখনো মামলা তুলেনি।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ