শুক্রবার, জুন ২৬, ২০ ২৬
তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি::
২১ ডিসেম্বর ২০ ২২
৯:২৮ অপরাহ্ণ

হোমনার জগন্নাকান্দিতে গণহত্যায় ১৬জন শহীদের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি

কুমিল্লার হোমনার জগন্নাকান্দি গ্রামে ১৯৭১ সালের গণহত্যায় ১৬জন শহীদের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে মত বিনিময় সভা করেছে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা। গতকাল  মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার মাথাভাঙ্গা ইউনিয়নের জগন্নাথকান্দি গ্রামের মৃণাল কান্তি দাসের (খোকা ডাক্তার) বাড়িতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সারাদেশের ন্যায় হোমনার জগন্নাথকান্দিতেও ১৯৭১ সালের ২২জুলাই বিকালে রাজাকারদের সহযোগিতায় পাক বাহিনী এক নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিলো।

সেসময় হুতারবাড়ির রবি, দিবাকর ও মৃণাল কান্তি দাসের বাড়ীতে বেড়াতে আসা মেহমানসহ ১৩জন সংখ্যালগুকে গুলি করে হত্যা করে, বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ করে এবং একজন গৃহিণীর কোল থেকে ছোট্ট একটি শিশুকে জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ করে ফেলে যায়।

আর যাবার সময় বেশকিছু নারীকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে। পরে জগন্নাথকান্দি কান্দাপাড়ার আব্দুল করিম বেপারী ও মহিষমারীর মো. হোসেন ভুঁইয়াকে পাক বাহিনীরা তুলে নিয়ে গিয়ে গুলি করে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে রক্তাক্ত করে জ্যান্ত মাটি চাপা দেয়। এসব ঘটনা বহুবার জাতীয় দিবসগুলোতে আলোচিত হলেও স্বাধীনতার ৫১বছর পরেও এসব শহীদদের স্মরণে কোন স্মৃতি নির্মিত হয়নি; তাই দীর্ঘ ৫১বছর পর মুক্তিযুদ্ধা পরিবার ও এলাকাবাসির পক্ষ থেকে শহীদদের নামফলকসহ স্মৃতি সংরক্ষণ করার দাবি তুলেন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি।প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ ভূঁইয়ার সন্তান মো. মহসিন হাবিব ভূঁইয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমন দে।এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোশারফ হোসেন, বর্তমান কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. হুমায়ুন কবির, সাবেক ডেপুটী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল কাশেম প্রধান, মৃণাল কান্তি দাসের বড় ছেলে বিমল কান্তি দাস, অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক নিখিল চন্দ্র দাস, মো. রাজ মিয়া ভূঁইয়া, প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফার ছেলে মো. মোয়াজ্জেম হোসেন।এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, হোমনা থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন বালা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নাহিদ আহমেদ জাকির, উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মো. ইউনুস, খাদ্য কর্মকর্তা মো. ওয়াসিম, জাইকা প্রতিনিধি খালিদ মোস্তাফিজ, স্থানীয় ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মো. আলাউদ্দিন, মাথাভাঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আল মামুন, স্থানী ওয়ার্ড মেম্বার কাজী মজিবুর রহমান, আব্দুল ওয়াদুদ, মো. খুরশিদ মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ