রবিবার, মে ৩১, ২০ ২৬
ড্রীম সিলেট ডেস্ক
২০ মার্চ ২০ ২০
২:৫২ অপরাহ্ণ

মার্কিন সেনারা ছড়িয়েছে করোনা ভাইরাস!

চীনের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা বলেছেন, বিশ্বজুড়ে হাজারো মানুষ যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত, তা মার্কিন সামরিক বাহিনী নিয়ে গেছে চীনে। তিনি দাবি করেছেন, চীনের উহান শহর থেকে এই ভাইরাসের উৎপত্তি দাবি করা হলেও, আদতে এই কাজ মার্কিন বাহিনীর। টুইটারে ৩ লাখ অনুসারী রয়েছে ওই কর্মকর্তা, অর্থাৎ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজানের। তিনি এ ধরণের বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব টুইটারে শেয়ার দিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে সিএনএন।
খবরে বলা হয়, সম্প্রতি মার্কিন সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন-এর পরিচালক রবার্ট রেডফিল্ড মার্কিন কংগ্রেশনাল কমিটিতে একটি বক্তব্য রাখেন। সেখানে রেডফিল্ড বলেন, আমেরিকায় ইনফ্লুয়েঞ্জা ঘটিত কিছু মৃত্যুর ঘটনা পরে করোনা ভাইরাস-ঘটিত কভিড-১৯ রোগ বলে প্রমাণিত হয়েছে। রেডফিল্ড বলেননি, কখন ওই রোগিরা মারা গেছেন।
তবে ঝাও ওই মন্তব্যের সূত্র ধরে দাবি করছেন, চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে করোনা ভাইরাস ছড়ায়নি। তিনি টুইটারে লিখেন, ‘হাতেনাতে ধরা খেয়েছেন সিডিসি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম করোনা ভাইরাস রোগী কে? কখন থেকে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন? কতজন মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন? হাসপাতালের নাম কী? মার্কিন সেনাবাহিনীই হয়তো এই মহামারি উহানে নিয়ে গেছে। স্বচ্ছ থাকুন। আপনাদের উপাত্ত জনসম্মুখে প্রকাশ করুন। যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যাখ্যা দিতে হবে।’ প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের অক্টোবরে মিলিটারি ওয়ার্ল্ড গেমসে অংশ নিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর শ’ শ’ ক্রীড়াবিদ গিয়েছিলেন উহানে।
ওদিকে রেডফিল্ডের ওই ভিডিও টুইটারে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমেও তা প্রকাশিত হয়েছে। শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক মুখপাত্র জেং শুয়াং বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যেই ওই ভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে বিভিন্ন ধরণের মতবাদ রয়েছে। ঝাও’র টুইট নিয়ে তিনি সরাসরি কিছু না বলে মন্তব্য করেন, ‘চীন সব সময়ই মনে করে এটি একটি বৈজ্ঞানিক প্রশ্ন, যেটির উত্তর আসা উচিত বৈজ্ঞানিক ও পেশাদারভাবে।’
চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, এমনকি দেশটির সরকারও করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে প্রচারণা শুরু করেছে। এই ভাইরাসে ইতিমধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। তবে প্রথম আক্রান্ত রোগিদের কথা শোনা যায় উহানে। এরপর থেকে সেখানেই বিশ্বের অন্য যে কোনো স্থানের তুলনায় সবচেয়ে বেশি রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
৪ঠা মার্চ বেইজিং-এ এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে ঝাও বলেন, এই ভাইরাসের উৎপত্তি সম্পর্কে কোনো অনুসিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। চীনা বিজ্ঞানীরা এখনও এর উৎপত্তি বের করার চেষ্টা করছেন। ২৭শে ফেব্রুয়ারি চীনের সংক্রামক ব্যাধি বিষয়ক প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞ ঝং ন্যানশ্যানও করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘এই সংক্রমণ প্রথম দেখা গেছে চীনে। কিন্তু এর উৎপত্তি চীনে না-ও হতে পারে।’
বৃহস্পতিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিভাগের প্রধান হুয়া চুনইংও রেডফিল্ডের ওই বক্তব্য টুইটারে প্রকাশ করেছেন। তিনি এরপর লিখেছেন, এই ভাইরাসকে চীনা করোনা ভাইরাস হিসেবে আখ্যা দেয়া সম্পূর্ণ ভুল ও অযৌক্তিক। প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কয়েকজন রক্ষণশীল আইন প্রণেতা ও মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা এই ভাইরাসকে ‘চাইনিজ ভাইরাস’ বা ‘বিদেশী ভাইরাস’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দৃশ্যত ভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে এই প্রচারণা শুরু করেছেন চীনা কর্মকর্তারা।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ