১:১৯ পূর্বাহ্ণ
তিতাসে পাগলের ঘর থেকে উদ্ধারকৃত আড়াই কোটি টাকাসহ স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার
কুমিল্লার তিতাসের আমির হোসেন মুন্সি ওরফে বিশা পাগলার ঘর থেকে উদ্ধারকৃত আড়াই কোটি টাকাসহ স্বর্ণালংকার ও বিদেশি মুদ্রার আয়ের উৎস খোঁজে তদন্ত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটি এম মোর্শেদ এর স্বাক্ষরিত ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে গত ১৪/০৭/২০২২ইং তারিখে।
৪ সদস্য বিশিষ্ট গঠিত এই তদন্ত কমিটির আহবায়ক হলেন- উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আহমেদ,সদস্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আরিফ মোহাম্মদ,থানার এস আই আবদুল করিম ও বলরামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নুর নবী। তাদেরকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে ওই তদন্ত প্রতিবেদন নিম্ন স্বাক্ষরকারীর নিকট প্রেরণ করার অনুরোধ করা হয়েছে। তারই ন্যায় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা গত ১৭ জুলাই রবিবার দুপুরে উপজেলার গাজীপুর মাজার বাড়ির আমির হোসেন মুন্সি ওরফে বিশা পাগলার ঘর থেকে উদ্ধারকৃত আড়াই কোটি টাকাসহ স্বর্ণালংকার ও বিদেশি মুদ্রার আয়ের উৎস কী এ তদন্ত করেন।উল্লেখ্য,আমির হোসেন মুন্সি (৫৮) ওরফে বিশা পাগলা।
সে উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের বড় গাজীপুর গ্রামের আবদুল লতিফের ছেলে।আমির হোসেন মুন্সি ওরফে বিশা পাগলার নেই কোনো স্ত্রী-সন্তান,তিনি ছিলেন একজন চিরকুমার।তাই তিনি এক ভাগ্নিকে দত্তক নিয়েছেন।গত ১২ জুলাই মঙ্গলবার তার গোপন কক্ষ থেকে এসব স্বর্ণালংকার ও টাকা-পয়সা উদ্ধার করে তার দত্তক মেয়ে তাছলিমা আক্তার ও স্থানীয়-রা। পরে টাকা দেখেই পুলিশকে খবর দেয় তাঁরা।
পুলিশ এসে গত ১২ জুলাই মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সারা রাত পর্যন্ত সেই বাড়ি নিরাপত্তা বেষ্টনী মুড়ে রাখে। এর পরের দিন অর্থাৎ গত ১৩ জুলাই বুধবার দুপুরে তাঁর পাঁচ ওয়ারিসের হাতে উদ্ধারকৃত টাকা তোলে দেয় পুলিশসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,বিগত ৪০ বছর ধরে আমির হোসেন মুন্সি ওরফে বিশা পাগলা নিজ গ্রামের গাজীপুর মাজার শরীফের পাশে তাঁর নীজ বাড়িতে থাকতেন এবং তার অনেক ভক্তবৃন্দও ছিলো।
গত ৮ জুলাই শুক্রবার ষ্ট্রোক করে মৃত্যু বরণ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁর গোপন কক্ষের ষ্টীলের আলমারি খুলে দেখা যায় টাকা আর টাকা,যেনো টাকার পাহাড়ের সন্ধ্যান মিলেছে।আর টাকার সেই পাহাড়ে শুধু বড় বড় নোটের বান্ডেল দেখা গেছে। ওই আলমারিতে থাকা টাকার বান্ডেল গুলোতে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট। এবং প্রত্যেক বান্ডিলেই টাকার পরিমাণ এক লক্ষ করে।স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে উদ্ধারকৃত টাকা গুনে তাঁর পাঁচজন ওয়ারিশের যৌথ ব্র্যাক ব্যাংকের একটি নতুন একাউন্টে খুলে টাকা গুলো রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।