৬:১২ অপরাহ্ণ
গোলাপগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বি'রো'ধ ও টিলা কা'টা নিয়ে পাল্টা বক্তব্য আল মাহমুদ চৌধুরীর
গোলাপগঞ্জে জমি নিয়ে বি'রোধ, মা'মলা, টিলা কা'টা, পুকুর ভরাট ও চাঁদা দাবির অভি'যোগকে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন দাবি করে প্রতি'বাদ জানিয়েছেন রনকেলী লামার দক্ষিণভাগ গ্রামের হাফিজ আল মাহমুদ চৌধুরী। এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানান তিনি। শনিবার (২২ আগস্ট) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আল মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গত ১৯ আগস্ট গোলাপগঞ্জ পৌর শহরে এক সংবাদ সম্মেলনে বাঘা ইউনিয়নের বাঘা পরগনার শরিফ উদ্দিন তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন। শরিফ উদ্দিন লন্ডনে থাকা অবস্থায় তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে এমন বক্তব্যের বিষয়ে আল মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মামলার সংশ্লিষ্ট ঘটনা ঘটার সময় শরিফ দেশে ছিলেন। পরে মামলায় আসামি হওয়ার খবর পেয়ে তিনি লন্ডনে চলে যান। পরবর্তীতে মামলায় তাকে ৭ নম্বর আসামি করা হয়েছে জানতে পেরে দেশে ফিরে আদালত থেকে জামিন নেন।
মামলাটি বর্তমানে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি। আল মাহমুদ চৌধুরীর দাবি, আমুড়া ইউনিয়নের কদমরসুল গ্রামের এম এ মালেকের কাছে রনকেলী লামার দক্ষিণভাগ গ্রামের আম্বিয়া খানম কোরেশী গং ধারাবহর মৌজার ১০ বিঘা জমি বিক্রির জন্য ৫০ লাখ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ২২ লাখ টাকা পরিশোধ করা হলেও নির্ধারিত সময়ে জমি রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হয়নি। পরে সালিশি সিদ্ধান্ত ও এম এ মালেকের অনুরোধে তিনি ওই ২২ লাখ টাকা পরিশোধ করেন।
পরবর্তীতে আম্বিয়া খানম কোরেশীর মৃত্যুর পর সানাউর রব চৌধুরী তার নামে জমিটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও শরিফ উদ্দিনের প্ররোচনা ও সম্পৃক্ততায় একই জমি সাকের আহমদের কাছে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ করেন আল মাহমুদ চৌধুরী। এ ঘটনায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন এবং বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানান। শরিফ উদ্দিনের সঙ্গে বায়না করা জমি বুঝিয়ে দিতে পারেননি এমন বক্তব্যও অস্বীকার করেন আল মাহমুদ চৌধুরী।
তার দাবি, বায়নায় জমির মূল্য ছিল ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা এবং শরিফ উদ্দিন ৪৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। পরে বাকি টাকা দিতে না পারায় তার দেওয়া অর্থের সমপরিমাণ মূল্যের জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার অনুরোধ করলে তিনি তা করে দেন বলে দাবি করেন আল মাহমুদ চৌধুরী। আল মাহমুদ চৌধুরীর দাবি, শরিফ উদ্দিন বর্তমানে যে জমি ভরাট করে বিক্রির উদ্যোগ নিচ্ছেন, সেই এসএ দাগ ৮০৬-এ তার মা ও খালার রেকর্ডভুক্ত ১৬ শতাংশ জমি রয়েছে। এছাড়া প্রায় ৫০ একর জমির প্রকল্পে মাত্র ৭৫ শতক শরিফ উদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে রেজিস্ট্রি হয়েছে। বাকি জমির মালিকানা নিয়ে আনিকা চৌধুরী গং ও আলী হাসান চৌধুরী গং-এর সঙ্গে মামলা চলছে।
সম্ভাব্য ক্রেতাদের সব কাগজপত্র যাচাই করে জমি কেনার আহ্বান জানান তিনি। গত ১৩ আগস্ট গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় শরিফ উদ্দিনকে আসামি করে হওয়া মামলাটিও তিনি করেননি বলে দাবি করেন আল মাহমুদ চৌধুরী। তার ভাষ্য, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পুলিশ সরেজমিনে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের আটক করে আদালতে পাঠায়। টিলা কাটা ও পুকুর ভরাটের অভিযোগ অস্বীকারের বিষয়ে আল মাহমুদ চৌধুরী প্রশ্ন করেন, প্রায় দুই একর আয়তনের জলাশয় কীভাবে ভরাট করা হলো। তার দাবি, টিলার লাল মাটি দিয়ে পুকুর ভরাট করে ওপর থেকে ৭-৮ ইঞ্চি বিট বালু দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সরেজমিন তদন্ত দাবি করেন তিনি।
নিজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগও অস্বীকার করেন আল মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই। তার বড় ভাই আলী মাহমুদ চৌধুরী (কাবাদ মিয়া) ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন, এটি তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পরিচয়।
নিজের বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে আল মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দুই-তিন দিনের মধ্যে পরবর্তী পদক্ষেপ জানানো হবে। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা নয়, সত্য উদঘাটন ও ন্যায়বিচারই তার লক্ষ্য। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির উপদেষ্টা এম সিরাজুল ইসলাম, কাউন্সিলর ফারুক আহমদ, বিশিষ্ট মুরব্বী মালেক আহমদ, সাবেক ইউপি সদস্য রফিক আলী প্রমুখ।