৮:০ ৯ অপরাহ্ণ
সিলেটে গু'জব-অপ'প্রচার ও ভোটার তালিকার অপ'ব্যব'হারের অভি'যোগ বিএনপির
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেটে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য, গুজব ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।
একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা, অর্থ দিয়ে ভোট কেনা, ধর্মীয় প্রলোভন দেখিয়ে ভোট আদায় এবং নির্বাচন কমিশনের গোপন ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা অবৈধভাবে ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগও তুলেছে দলটি।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সিলেট-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশ যখন গণতান্ত্রিক ধারায় নির্বাচনমুখী, ঠিক তখনই পরাজয় নিশ্চিত একটি গোষ্ঠী দেশব্যাপী অস্থিতিশীলতা তৈরির ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। বিএনপি নেতারা দাবি করেন, ওই গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।
বিশেষ করে নারী ও শিশু-কিশোরদের টার্গেট করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এমনকি ধর্মকে ব্যবহার করে ‘বেহেশতের প্রলোভন’ দেখিয়ে ভোট চাওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নগরী ও সদর উপজেলার একাধিক ভোটকেন্দ্রে একটি রাজনৈতিক দল কেন্দ্র দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমন তথ্য বিএনপির কাছে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানানো হয়েছে। দলটির আরও অভিযোগ, প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকরা নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে প্রকাশ্যে টাকা বিতরণ করে ভোট কেনার চেষ্টা চালাচ্ছে। এসব ঘটনার প্রমাণ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। এ ছাড়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। বিএনপির দাবি, জেলার অন্তত তিনটি আসনে বহিরাগত লোকজনের আনাগোনা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে অশান্ত করে তুলতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয় নির্বাচন কমিশনের সংরক্ষিত ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা অবৈধ ব্যবহারের বিষয়ে। বিএনপি নেতারা বলেন, প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকরা গোপন এই তালিকা সংগ্রহ করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করছেন, যা নাগরিক অধিকার ও নির্বাচনী আইনের পরিপন্থী। এসব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি নেতারা বলেন, যারা ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা অপব্যবহার করছেন, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি ভোটারের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষায় প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, মহানগর বিএনপির সাবেক আহবায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালি পংকি, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি মাহবুব কাদির শাহি, সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন, নুরুল মোমিন চৌধুরী খোকন, আব্দুর রহিম মল্লিক, মহানগর যুগ্ম সম্পাদক নজিবুর রহমান নজিব, জেলা যুগ্ম সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম সিদ্দিকি খালেদ, মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল ওয়াহিদ সুহেল ও নাদির খান, জেলা বিএনপির কোহিনুর আহমদ এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আব্দুল আহাদ খান জামালসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।