শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০ ২৬
স্টাফ রিপোর্ট::
২৯ আগস্ট ২০ ২৬
৭:২৭ অপরাহ্ণ

সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে অভি'যোগ
আম্বরখানায় পার্কিং দ'খল করে দোকান নকশাবহির্ভূত নির্মাণেও ব্যবস্থা নেয়নি সিসিক

সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকায় একটি ভবনে নকশাবহির্ভূতভাবে বর্ধিত অংশ নির্মাণ, নির্ধারিত পার্কিংয়ের জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একাধিকবার তদন্ত করে নোটিশ দিলেও সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভবনের এক অংশের মালিক আম্বরখানা ওয়েভসের ৭৮ নম্বর বাসার মৃত আবুল লেইছের মেয়ে এবং মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের স্ত্রী রোকসানা লেইছ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভবনের অপর তিন অংশীদারের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে গত ১২ আগস্ট সিসিকের উচ্ছেদ অভিযান কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা ছাড়াই শেষ হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন রোকসানা। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আম্বরখানা পয়েন্টসংলগ্ন ওয়েভস আবাসিক এলাকার শীতলগলির মুখে মেইন রোডের পাশে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জায়গায় যৌথ মালিকানায় আব্দুল গাফ্ফার কমপ্লেক্স নামে তিনতলা ভবন নির্মাণ করা হয়।

অনুমোদিত নকশায় পার্কিংয়ের জন্য জায়গা রাখা হলেও পরবর্তীতে তাঁর তিন অংশীদার ভবনের সামনের অংশে নকশাবহির্ভূত বর্ধিত নির্মাণ করেন এবং পার্কিংয়ের একটি অংশ দখল করে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দেন। রোকসানা বলেন, পার্কিংয়ের রাস্তার মুখে দোকান থাকায় যানবাহন প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তির কাছে দোকান ভাড়া দেওয়া হয়েছে এবং তিনি ইলেকট্রনিকসের ব্যবসা করছেন। তিনি জানান, ২০২৩ সাল থেকে নকশাবহির্ভূত নির্মাণ ও পার্কিং দখলের বিষয়ে সিসিকের কাছে একাধিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এসব অভিযোগের পর গত তিন বছরে সিসিক অন্তত আটবার সরেজমিন তদন্ত এবং ছয়বার মালিকপক্ষকে নোটিশ দিয়েছে।

রোকসানার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৩ জুলাই সিসিকের তৎকালীন প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমানের স্বাক্ষরিত নোটিশে সাত দিনের মধ্যে নকশাবহির্ভূত অংশ অপসারণ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট পুনরায় আবেদন এবং ২০২৫ সালে দুটি চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর। তিনি আরও অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে তাঁর আবেদনের নথি হারিয়ে যায় এবং পরে ফাইল থেকে কিছু কাগজপত্রও পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তাঁর স্বামী গত তিন বছরে দুই শতাধিকবার সিটি করপোরেশনে গেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

রোকসানা বলেন, দীর্ঘদিনের আবেদনের পর গত ১২ আগস্ট সিসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও কোনো অংশ অপসারণ বা দোকান উচ্ছেদ না করেই অভিযানকারী দল ফিরে আসে। পরে তাঁরা জানতে পারেন, অংশীদারদের পারিবারিক ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধ থাকায় দেওয়ানি আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রোকসানার প্রশ্ন, মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলেও অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবনের ব্যবহার, নকশাবহির্ভূত অংশ অপসারণ ও পার্কিং দখলমুক্ত করা সিসিকের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। তিন বছর ধরে তদন্ত ও নোটিশের পরও ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি সিসিকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বিষয়টি পুনরায় তদন্ত করে নকশাবহির্ভূত অংশ অপসারণ এবং পার্কিং দখলমুক্ত করতে সিসিক প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ